আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান যুদ্ধের আঁচ এবার আছড়ে পড়ল হিমালয়ের কোলের দেশ নেপালে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া জ্বালানি সঙ্কটে কার্যত দিশেহারা কাঠমাণ্ডু। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং মহার্ঘ্য জ্বালানি বাঁচাতে এবার এক কঠোর সিদ্ধান্ত নিলেন নেপালের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। এখন থেকে নেপালে সপ্তাহে একদিনের বদলে দু’দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
নেপালের সরকারি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এত দিন শুধুমাত্র শনিবার ছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিন। কিন্তু, জ্বালানি সাশ্রয় করতে এখন থেকে শনিবারের পাশাপাশি রবিবারও সমস্ত সরকারি দফতর এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বলেন্দ্র সরকার।
তবে, ছুটির দিন বাড়লেও কাজের ক্ষেত্রে যাতে খামতি না থাকে, তার জন্য অফিসের সময়সীমা প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে যেখানে সরকারি কর্মীরা সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ করতেন, সোমবার থেকে তাঁদের সকাল ৯টাতেই অফিসে হাজিরা দিতে হবে।
নেপাল সরকারের মুখপাত্র সস্মিতা পোখরেল জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় পেট্রলিয়ামজাত পণ্যের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের আকাশছোঁয়া দাম এবং সরবরাহের ঘাটতির জেরে নেপাল অয়েল কর্পোরেশন (NOC) চরম সঙ্কটের মুখে।
ইতিমধ্যেই নেপালে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের জন্য ব্যবহৃত এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (এটিএফ) দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়ানো হয়েছে। সরকারি যানবাহন এবং স্কুল বাস চলাচলে রাশ টেনে তেলের খরচ কমানোই এখন বলেন্দ্র শাহ সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলা এই যুদ্ধ কেবল নেপাল নয়, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশের অর্থনীতিকেই খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে। শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের পর এবার নেপালের এই ‘দু’দিন ছুটি’র মডেল প্রমাণ করে দিচ্ছে যে - বিশ্ব তেল রাজনীতির প্রভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে। নেপাল সরকারের এই নতুন বিধি সোমবার থেকেই দেশজুড়ে কার্যকর হচ্ছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন