হরমুজ প্রণালী ঘিরে টানাপড়েন এখনও থিতু হয়নি, অথচ এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে কম্পন ধরিয়ে দিল ইরান। তেহরানের সাম্প্রতিক গতিবিধি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তাদের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ— 'বাব-এল-মান্দেব'।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফের একটি রহস্যময় সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে এই নতুন আশঙ্কার দানা বেঁধেছে। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, বিশ্বের কত শতাংশ তেল, এলএনজি, গম কিংবা সার এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়? এই প্রশ্নের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক গভীর কূটনৈতিক হুঁশিয়ারি, যা বিশ্বজুড়ে 'সাপ্লাই চেইন' ভেঙে পড়ার সংকেত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কূটনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন অত্যন্ত কৌশলে খতিয়ে দেখছে কোন দেশ বা বহুজাতিক সংস্থা এই রুটের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। বাব-এল-মান্দেব প্রণালীটি লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরকে যুক্ত করে, যা এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্যিক সংযোগ রক্ষাকারী সুয়েজ ক্যানালে পৌঁছানোর প্রধান প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন প্রায় ৮.৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে হরমুজ প্রণালীর পাশাপাশি যদি এই জলপথেও বিঘ্ন ঘটে, তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়তে পারে এবং খাদ্যশস্যের সংকটে পড়তে পারে বহু দেশ।
কেবল কূটনৈতিক বার্তাই নয়, সামরিক ময়দানেও উত্তেজনা তুঙ্গে। ইরানের এলিট বাহিনী 'আইআরজিসি' (IRGC) জানিয়েছে, 'অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪'-এর আওতায় তারা ইজরায়েল-সংযুক্ত একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত হামলা চালিয়েছে। জিবৌটি ও ইয়েমেনের মাঝখানে অবস্থিত মাত্র ৩০ কিলোমিটার চওড়া এই বাব-এল-মান্দেব প্রণালীটি এখন বিশ্ব অর্থনীতির এক বিপজ্জনক বিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দাবার চালে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই এখন রুদ্ধশ্বাসে তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক মহল।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন