নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের কড়া ভর্ৎসনা এবং নির্দিষ্ট ডেডলাইনের পরেও কাটল না জট। সিবিএসই (CBSE) দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার পুনর্মূল্যায়ন বা রিভ্যালুয়েশনের ফলপ্রকাশে নজিরবিহীন বিলম্বের কারণে এখন চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মুখে দেশের লক্ষাধিক পড়ুয়া। কলেজে কলেজে যখন ভর্তির প্রক্রিয়া প্রায় শেষলগ্নে, ঠিক তখন বোর্ডের এই রহস্যময় নীরবতায় হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর স্বপ্ন ভাঙার উপক্রম হয়েছে। গত সোমবারই সিবিএসই কর্তৃপক্ষকে তীব্র তিরস্কার করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সাফ জানিয়েছিল, শুক্রবারের মধ্যে পুনর্মূল্যায়নের ফল ঘোষণার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা সময়সীমা জানাতে হবে। কিন্তু আদালতের সেই কড়া নির্দেশের পরেও যথারীতি স্পিকটি নট বোর্ড কর্তৃপক্ষ। ফলপ্রকাশের দিনক্ষণ জানতে না পেরে পড়ুয়ারা এখন প্রতিনিয়ত বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট রিফ্রেশ করছে, বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপ ও রেডডিট থ্রেড হাতড়াচ্ছে চাতক পাখির মতো। কিন্তু বোর্ডের এই উদাসীনতায় সব চেষ্টাই বিফলে যাচ্ছে তাদের।
এই গোটা ঘটনার সূত্রপাত সৌদি আরবের এক প্রবাসী ভারতীয় পড়ুয়ার আইনি তৎপরতায়। ফল জানতে না পেরে ওই পড়ুয়া সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলে বিষয়টি জাতীয় স্তরে আলোড়ন সৃষ্টি করে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট ভাষায় বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছিল, প্রয়োজনে রাত জেগে কাজ করে হলেও ১২ জুনের মধ্যে এমন একটা সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করতে হবে যাতে ওই পিটিশনার প্রবাসী পড়ুয়া-সহ বাকি সমস্ত ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকে। কিন্তু সেই শুক্রবার পেরিয়ে গেলেও সিবিএসই-র তরফ থেকে কোনও ইতিবাচক বার্তা আসেনি। টেকনিক্যাল দিক থেকে বিচার করলে, সর্বোচ্চ আদালতের শুনানির কেন্দ্রে ছিল উপসাগরীয় অঞ্চলের পরীক্ষার্থীরা এবং তাদের ভালো ফল প্রকাশের বিষয়টি। কিন্তু কোর্ট আরও গভীরে গিয়ে খতিয়ে দেখেছে যে, ফল বেরোতে দেরি হওয়ার সরাসরি অর্থ হলো পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ চিরতরে হাতছাড়া বা বানচাল হয়ে যাওয়া। আর এটাই এখন দেশজুড়ে লাখ লাখ পড়ুয়ার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ৭ জুন পরীক্ষার ফল রিভ্যালুয়েশন ও ভেরিফিকেশনের উইন্ডো বন্ধ হওয়া পর্যন্ত বোর্ডের পোর্টালে ১ লক্ষ ৬০ হাজারেরও বেশি পড়ুয়া আবেদনের খাতা খুলেছে বলে সিবিএসই সূত্রে জানা গিয়েছে। আবেদনকারী পরীক্ষার্থীদের এই বিপুল সংখ্যাই প্রমাণ করে দেয় যে, বোর্ডের নতুন মূল্যায়ন সিস্টেম নিয়ে পড়ুয়াদের মনে কতটা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা কাজ করছে। অনেকের কাছেই আর মাত্র কয়েকটা বেশি নম্বরের মূল্য অপরিসীম। কারণ, ওই সামান্য কয়েক নম্বরের ওপরেই নির্ভর করছে বিভিন্ন প্রথম সারির কলেজে ভর্তির জন্য ন্যূনতম ৭৫ শতাংশের যোগ্যতামান পেরনো, স্কলারশিপের মাপকাঠি অর্জন করা কিংবা নিজের পছন্দের বিশেষ কোনও কোর্সে সুযোগ পাওয়া।
সই জাল কাণ্ডের তদন্তে কুণালকে তলব
সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় হলো, বোর্ডের এই শচ্ছল গতির পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার জন্য দেশের অধিকাংশ নামী বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের ভর্তির পূর্বনির্ধারিত নির্ঘণ্ট বা সময়সূচি স্থগিত রাখবে না। কিছু হাতে গোনা প্রতিষ্ঠান অবশ্য পড়ুয়াদের আপডেটেড বা সংশোধিত মার্কশিট পরে জমা দেওয়ার ছাড়পত্র দিচ্ছে, কিন্তু বাকিরা কাউন্সেলিং ও সিট বরাদ্দ করার কাজ চলতি রুটিন মেনেই চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়ারা এক গভীর ধর্মসংকটে পড়েছে। বর্তমান নম্বরেই কি তারা কোনও সাধারণ কলেজে আসন গ্রহণ করবে, নাকি সংশোধিত বেশি নম্বরের আশায় বুক বেঁধে শীর্ষ কলেজের জন্য অপেক্ষা করবে? ভর্তির মোটা টাকা ফি জমা দিয়ে আপডেট হওয়া মার্কশিট সময়মতো হাতে পাওয়ার আশায় বসে থাকা কতটা যুক্তিযুক্ত? এমন হাজারো অমীমাংসিত প্রশ্ন এখন তাড়া করে বেড়াচ্ছে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন