কলকাতা: বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর যখন রাজনৈতিক প্রচার তুঙ্গে, ঠিক তখনই শহরে ফের সক্রিয় হয়ে উঠল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শনিবার সাতসকালে কলকাতা ও শহরতলির প্রায় সাত থেকে আটটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযানে নামলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। মূলত জমি দখল ও আর্থিক দুর্নীতির একটি পুরনো মামলাকে কেন্দ্র করেই এই তৎপরতা বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, শনিবার ভোরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে ইডির একাধিক দল অভিযানে বের হয়। বালিগঞ্জ প্লেসের এক ব্যবসায়ীর আবাসন-সহ শহরের একটি সংস্থার দফতর ও তাঁর পদাধিকারীদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ইডি সূত্রে দাবি, ওই সংস্থাটির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জমি বেআইনিভাবে দখল করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগের নাম করে জমি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ইতিপূর্বেই প্রায় ১৬ থেকে ১৭টি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। আজ সেই সমস্ত নথি, জমির দলিল এবং আর্থিক লেনদেনের হিসাব খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা।
এর আগে গত ৮ জানুয়ারি সল্টলেকে তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক-এর দফতরে হানা দিয়েছিল ইডি। সেই সময় খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে উপস্থিত হয়ে ইডির বিরুদ্ধে কার্যত রুখে দিয়েছিলেন! সেই ঘটনার জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই সক্রিয়তা রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে।
আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। ফল প্রকাশ ৪ মে। নির্বাচনের ঠিক আগে এই তল্লাশিকে 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে সরব হতে শুরু করেছে শাসক শিবির। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, দুর্নীতির তদন্তে অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সংস্থার আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে বলেও সূত্রের খবর।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন