কলকাতা: সিনেমা আর বাস্তবের সীমারেখা কি ক্রমশ মুছে যাচ্ছে? সদ্য মুক্তি পাওয়া স্পাই থ্রিলার ‘ধুরন্ধর-২’-এর কাহিনির সঙ্গে পাকিস্তানের মুরিদকে এলাকায় ঘটে যাওয়া এক রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের অদ্ভুত মিল ঘিরে তৈরি হয়েছে তুমুল চর্চা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন—এ কি নিছক কাকতালীয়, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনও গল্প?
প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, লস্কর-ই-তৈবা-র সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা বিলাল আরিফ সালাফি নামের এক ব্যক্তিকে মুরিদকে এলাকার একটি কমপ্লেক্সের ভিতরে গুলি করে খুন করে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা। ঘটনার পর তদন্ত শুরু হলেও, এখনও পর্যন্ত হামলাকারীদের পরিচয় বা উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক স্তরের বড় সংবাদমাধ্যমের তরফেও এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ নিশ্চিতকরণ মেলেনি।
এই ঘটনার মাঝেই সামনে আসছে ‘ধুরন্ধর-২’-এর কাহিনি। ছবিতে দেখানো হয়েছে, মুরিদকে এলাকার একটি মাদ্রাসা চত্বরে লস্কর অপারেটিভদের উপর হামলা চালায় অজ্ঞাত সশস্ত্র গোষ্ঠী। এমনকি বালুচ যোদ্ধাদের জড়িত থাকার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে গল্পে। আর এখানেই বাস্তব ও সিনেমার মধ্যে মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মিল অনেক সময় কাকতালীয় হলেও, দর্শকের মানসিকতায় সিনেমার প্রভাব যথেষ্ট গভীর। ফলে কোনও বাস্তব ঘটনা ঘটলেই তা সিনেমার ফ্রেমে ফেলে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা তৈরি হয়। এই ক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটছে বলেই মত তাঁদের।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বাস্তব ঘটনায় এখনও পর্যন্ত বালুচ যোদ্ধাদের জড়িত থাকার কোনও নিশ্চিত প্রমাণ সামনে আসেনি। ফলে সিনেমার কাহিনির সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্র টানা এই মুহূর্তে যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। তা সত্ত্বেও, সময়ের এই অদ্ভুত মিল নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—বাস্তব কি সিনেমাকে ছুঁয়েছে, নাকি সিনেমাই বাস্তবকে প্রভাবিত করছে?

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন