Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

বর্ষার আগেই রক্তচক্ষু দেখাচ্ছে ‘এল নিনো’: বৃষ্টির ঘাটতি ও কৃষিকাজে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় চিন্তিত বিশেষজ্ঞরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬
বর্ষার আগেই রক্তচক্ষু দেখাচ্ছে ‘এল নিনো’: বৃষ্টির ঘাটতি ও কৃষিকাজে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় চিন্তিত বিশেষজ্ঞরা
ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা: চলতি বছরে বর্ষা আসার আগেই ভারতের আকাশে দুর্যোগের কালো মেঘ জমতে শুরু করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মে-জুন মাস নাগাদ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তৈরি হতে পারে ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি। আর এই এল নিনোর প্রভাবেই দেশের মূল ভূখণ্ডে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক ছন্দ বিগড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি আঘাত হানতে পারে ভারতের কৃষি ব্যবস্থায়।

প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের জলের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়াকেই আবহাওয়াবিদদের ভাষায় বলা হয় ‘এল নিনো’। এর ঠিক বিপরীত পরিস্থিতি অর্থাৎ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে কম থাকলে তাকে বলা হয় ‘লা নিনা’। বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো পরিস্থিতি বায়ুপ্রবাহের স্বাভাবিক গতিপথ বদলে দেয়, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বর্ষার বৃষ্টিপাতের ওপর। সাধারণত এল নিনো সক্রিয় থাকলে দেশে বৃষ্টির পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়। অন্যদিকে, লা নিনা পরিস্থিতিতে ভারতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত লক্ষ্য করা যায়। গত বর্ষায় লা নিনা থাকার কারণে দেশের অধিকাংশ অংশে স্বাভাবিক বৃষ্টি হয়েছিল।


কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর বা মৌসম ভবন অবশ্য এখনই বর্ষা নিয়ে কোনো দীর্ঘকালীন পূর্বাভাস দেয়নি। তবে তারা জানিয়েছে যে, বর্তমানে যে লা নিনা পরিস্থিতি রয়েছে তা ক্রমশ দুর্বল হতে শুরু করেছে। এপ্রিল মাসের মধ্যেই লা নিনা ও এল নিনোর মধ্যবর্তী 'নিউট্রাল' বা নিরপেক্ষ আবহাওয়া বিদায় নিতে পারে। বর্ষার ঠিক মুখে এল নিনোর এমন দ্রুত সক্রিয় হওয়াকে বিপদের সংকেত বলেই মনে করা হচ্ছে।


বৃষ্টির পরিমাণ কমে গেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে ধান-সহ খরিফ শস্যের ফলনে। তবে আশার আলোও কিছুটা দেখিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। তাঁদের মতে, এল নিনো ছাড়াও ভারত মহাসাগরের জলের উষ্ণতার তারতম্য বা ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ (IOD) বর্ষার ওপর বড় প্রভাব ফেলে। বর্তমানে এই ডাইপোল নিউট্রাল অবস্থায় রয়েছে। অতীতে এমনও দেখা গিয়েছে যে, এল নিনো থাকলেও অন্যান্য প্রতিকূল পরিস্থিতি অনুকূল থাকায় দেশে বর্ষাকালীন বৃষ্টি মোটামুটি স্বাভাবিক হয়েছে।


তবুও মে মাসের মাঝামাঝি যখন আন্দামানে বর্ষা পৌঁছাবে, সেই সময় প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা কত থাকে, তার ওপরেই নির্ভর করছে এ বছরের কৃষি ভাগ্য। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির এই পূর্বাভাস সত্যি হলে কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হবে।

বিষয় : #WeatherUpdate #ElNino #Monsoon2026 #AgricultureNews #IndianClimate #RainfallForecast #IMD #KolkataNews #FarmersCare #ClimateChange

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


বর্ষার আগেই রক্তচক্ষু দেখাচ্ছে ‘এল নিনো’: বৃষ্টির ঘাটতি ও কৃষিকাজে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় চিন্তিত বিশেষজ্ঞরা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মার্চ ২০২৬

featured Image
কলকাতা: চলতি বছরে বর্ষা আসার আগেই ভারতের আকাশে দুর্যোগের কালো মেঘ জমতে শুরু করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মে-জুন মাস নাগাদ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তৈরি হতে পারে ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি। আর এই এল নিনোর প্রভাবেই দেশের মূল ভূখণ্ডে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক ছন্দ বিগড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি আঘাত হানতে পারে ভারতের কৃষি ব্যবস্থায়।প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের জলের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়াকেই আবহাওয়াবিদদের ভাষায় বলা হয় ‘এল নিনো’। এর ঠিক বিপরীত পরিস্থিতি অর্থাৎ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে কম থাকলে তাকে বলা হয় ‘লা নিনা’। বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো পরিস্থিতি বায়ুপ্রবাহের স্বাভাবিক গতিপথ বদলে দেয়, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বর্ষার বৃষ্টিপাতের ওপর। সাধারণত এল নিনো সক্রিয় থাকলে দেশে বৃষ্টির পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়। অন্যদিকে, লা নিনা পরিস্থিতিতে ভারতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত লক্ষ্য করা যায়। গত বর্ষায় লা নিনা থাকার কারণে দেশের অধিকাংশ অংশে স্বাভাবিক বৃষ্টি হয়েছিল।কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর বা মৌসম ভবন অবশ্য এখনই বর্ষা নিয়ে কোনো দীর্ঘকালীন পূর্বাভাস দেয়নি। তবে তারা জানিয়েছে যে, বর্তমানে যে লা নিনা পরিস্থিতি রয়েছে তা ক্রমশ দুর্বল হতে শুরু করেছে। এপ্রিল মাসের মধ্যেই লা নিনা ও এল নিনোর মধ্যবর্তী 'নিউট্রাল' বা নিরপেক্ষ আবহাওয়া বিদায় নিতে পারে। বর্ষার ঠিক মুখে এল নিনোর এমন দ্রুত সক্রিয় হওয়াকে বিপদের সংকেত বলেই মনে করা হচ্ছে।বৃষ্টির পরিমাণ কমে গেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে ধান-সহ খরিফ শস্যের ফলনে। তবে আশার আলোও কিছুটা দেখিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। তাঁদের মতে, এল নিনো ছাড়াও ভারত মহাসাগরের জলের উষ্ণতার তারতম্য বা ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ (IOD) বর্ষার ওপর বড় প্রভাব ফেলে। বর্তমানে এই ডাইপোল নিউট্রাল অবস্থায় রয়েছে। অতীতে এমনও দেখা গিয়েছে যে, এল নিনো থাকলেও অন্যান্য প্রতিকূল পরিস্থিতি অনুকূল থাকায় দেশে বর্ষাকালীন বৃষ্টি মোটামুটি স্বাভাবিক হয়েছে।তবুও মে মাসের মাঝামাঝি যখন আন্দামানে বর্ষা পৌঁছাবে, সেই সময় প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা কত থাকে, তার ওপরেই নির্ভর করছে এ বছরের কৃষি ভাগ্য। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির এই পূর্বাভাস সত্যি হলে কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হবে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার