কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশাল চমক! আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দেখা গেল বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ তথা রাজবংশী নেতা অনন্ত মহারাজকে! শুধু উপস্থিতিই নয়, এদিন দেশপ্রিয় পার্কের অমর একুশে উদ্যানের অনুষ্ঠান থেকে তাঁকে রাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’-এ ভূষিত করলেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরীয় পরিয়ে এবং স্মারক তুলে দিয়ে তাঁকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সম্মান গ্রহণের পর মঞ্চে বক্তব্য রাখতে উঠে অনন্ত মহারাজ নিজের শিকড় ও জাত্যাভিমানকে উস্কে দেন। রাজবংশী বীর চিলা রায়ের রচিত কবিতা পাঠ করে তিনি নিজের মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি এও বুঝিয়ে দেন যে বাংলার মূলধারার সঙ্গে তাঁর একাত্মবোধের চেয়েও বড় তাঁর রাজবংশী পরিচয়! তবুও, এই সম্মানের জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভায় গেলেও গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে অনন্ত মহারাজের দূরত্ব বেশ কিছুকাল ধরেই স্পষ্ট হচ্ছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘গ্রেটার কোচবিহার’-এর দাবি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ খারিজ করে দেওয়ার পর থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন এই রাজবংশী নেতা। চব্বিশের লোকসভা ভোটে কোচবিহারে তৃণমূলের জয়ের নেপথ্যেও অনন্ত মহারাজের পরোক্ষ সমর্থন ছিল বলে মনে করা হয়। ইতিপূর্বে মুখ্যমন্ত্রী সশরীরে তাঁর কোচবিহারের বাড়িতে গিয়ে কৃতজ্ঞতাও জানিয়ে এসেছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন অনন্ত মহারাজ। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, "দিনের পর দিন আমরা স্রেফ বঞ্চনা ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছি। উত্তরবঙ্গের জন্য কোনও কাজ হয়নি। বিশেষ করে কোচ ও রাজবংশী জনজাতির উন্নয়নের দিকে ফিরেও তাকানো হয়নি।"
বিজেপির উপর এই তীব্র আক্রমণ এবং মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মান গ্রহণ - সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ছাব্বিশের ভোটের আগে পাকাপাকিভাবে ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন অনন্ত মহারাজ? আজকের এই চিত্র সেই জল্পনা আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন