বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দামামা কি আরও একবার বেজে উঠতে চলেছে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চরম হুঁশিয়ারি এবং ইরানের পালটা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। ইরানকে সরাসরি ১০ থেকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে কোনো চুক্তিতে বা বোঝাপড়ায় না এলে ‘ভয়ংকর কিছু’ ঘটতে পারে।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ‘বোর্ড অফ পিস’-এর বৈঠকে ভাষণ দেওয়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বোঝাপড়ায় আসতে হবে, না হলে পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপের দিকে যাবে।” ট্রাম্পের এই চরম সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরই বিশ্বজুড়ে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, পেন্টাগন ইতিমধ্যেই হোয়াইট হাউসকে জানিয়েছে যে তারা যেকোনো মুহূর্তে ইরানে সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুত। এখন কেবল ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের অপেক্ষা।
এদিকে মার্কিন হুঁশিয়ারিতে বিন্দুমাত্র দমে না গিয়ে পালটা কড়া বার্তা দিয়েছে তেহরান। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে লেখা একটি চিঠিতে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের ওপর কোনো ধরনের সামরিক হামলা হলে তারা উপযুক্ত জবাব দেবে। এমনকি ইরানের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে থাকা ‘শত্রু বাহিনীর’ সমস্ত ঘাঁটি, সম্পদ এবং রণতরীকে তারা বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে এবং প্রয়োজনে সেখানে সরাসরি হামলা চালাবে। ইরান জানিয়েছে তারা উত্তেজনা চায় না, তবে আক্রান্ত হলে তারা চুপ করে বসে থাকবে না।
পরিস্থিতি সামলাতে রণসজ্জাও চূড়ান্ত করে ফেলেছে আমেরিকা। মধ্যপ্রাচ্যের দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’। এর সঙ্গে রয়েছে তিনটি শক্তিশালী গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং একাধিক যুদ্ধবিমান। পরমাণু চুক্তি নিয়ে টানাপোড়েনের মাঝেই ট্রাম্পের এই ‘১০ দিনের আলটিমেটাম’ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। চলতি সপ্তাহেই আমেরিকা কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব।
বিষয় : usa IRAN Conflict war US Iran war

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন