Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

নবান্ন-কমিশন সংঘাত তুঙ্গে: ভোটারতালিকায় অনিয়ম ও নির্দেশ অমান্য, দিল্লিতে তলব মুখ্যসচিবকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নবান্ন-কমিশন সংঘাত তুঙ্গে: ভোটারতালিকায় অনিয়ম ও নির্দেশ অমান্য, দিল্লিতে তলব মুখ্যসচিবকে

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসন বনাম জাতীয় নির্বাচন কমিশনের টানাপড়েন এক নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছল। ভোটার তালিকায় ‘ভূতুড়ে’ ভোটার অন্তর্ভুক্তির মতো গুরুতর অনিয়ম এবং তা সংশোধন করতে দেওয়া নির্দেশ কার্যকর না করার অভিযোগে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে দিল্লিতে তলব করল কমিশন। বলা হয়েছিল, শুক্রবারই (১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বিকেল তিনটের মধ্যে তাঁকে সশরীরে হাজির হয়ে একাধিক নির্দেশ অমান্যের ব্যাখ্যা দিতে হবে। যদিও প্রশাসনিক সূত্রের খবর, মুখ্যসচিব সম্ভবত শনিবার দিল্লি যেতে পারেন।


এই বিতর্কের সূত্রপাত গত অগস্ট মাসে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটারতালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তদন্তের পর কমিশন নির্দেশ দেয় - দুই কেন্দ্রের নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (ERO) ও সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকদের (AERO) অবিলম্বে সাসপেন্ড করতে হবে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করতে হবে। এবং বারুইপুর পূর্বের একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ করতে হবে।


এই ঘটনায় গত ৫ অগস্ট এবং পরবর্তীতে ৮ অগস্ট — পরপর দুটি চিঠিতে কমিশন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপের রিপোর্ট চেয়েছিল। নবান্ন সেই সময় চার আধিকারিককে সাসপেন্ড করার কথা জানালেও, এফআইআর দায়ের করার প্রশ্নে ‘সময়’ চেয়েছিল। কমিশনের ফুল বেঞ্চ এর আগে তৎকালীন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকেও ডেকে পাঠিয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, কয়েকমাস কেটে গেলেও নবান্ন এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর দায়ের করেনি।


নির্বাচন কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপের নেপথ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসছে। যথা - 


১.⁠ ⁠প্রশাসনিক গাফিলতি: ভোটারতালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখা কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সেখানে রাজ্য সরকারের ‘বিভাগীয় তদন্তের’ যুক্তি দিয়ে এফআইআর এড়িয়ে যাওয়াকে কমিশন তাদের নির্দেশের অবমাননা হিসাবেই দেখছে।


২.⁠ ⁠নজিরবিহীন তলব: একজন মুখ্যসচিবকে সশরীরে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর। এটিই স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ভোটারতালিকায় কারচুপি বা অনিয়মের প্রশ্নে কমিশন এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিতে চাইছে।


৩.⁠ ⁠জবাবদিহি: কেন বারবার সময় দেওয়া সত্ত্বেও এফআইআর করা হল না এবং কেন আগের চিঠির নির্দেশ পূর্ণাঙ্গভাবে মানা হয়নি, নন্দিনী চক্রবর্তীকে সেই সংক্রান্ত লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা দিতে হবে।


প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, রাজ্য সরকার তাদের অবস্থান আগেই জানিয়েছিল। কিন্তু, কমিশনের ফুল বেঞ্চ সেই জবাবে সন্তুষ্ট নয়। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের মতো সংবেদনশীল জেলায় ভোটারতালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে যে স্তরের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখতে কমিশন এবার নিজেই সক্রিয় হয়েছে।


এখন দেখার, দিল্লিতে হাজির হয়ে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী কমিশনের ক্ষোভ প্রশমন করতে পারেন, নাকি নবান্ন ও নির্বাচন সদনের এই লড়াই আরও আইনি জটিলতার দিকে মোড় নেয়।

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


নবান্ন-কমিশন সংঘাত তুঙ্গে: ভোটারতালিকায় অনিয়ম ও নির্দেশ অমান্য, দিল্লিতে তলব মুখ্যসচিবকে

প্রকাশের তারিখ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসন বনাম জাতীয় নির্বাচন কমিশনের টানাপড়েন এক নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছল। ভোটার তালিকায় ‘ভূতুড়ে’ ভোটার অন্তর্ভুক্তির মতো গুরুতর অনিয়ম এবং তা সংশোধন করতে দেওয়া নির্দেশ কার্যকর না করার অভিযোগে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে দিল্লিতে তলব করল কমিশন। বলা হয়েছিল, শুক্রবারই (১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বিকেল তিনটের মধ্যে তাঁকে সশরীরে হাজির হয়ে একাধিক নির্দেশ অমান্যের ব্যাখ্যা দিতে হবে। যদিও প্রশাসনিক সূত্রের খবর, মুখ্যসচিব সম্ভবত শনিবার দিল্লি যেতে পারেন।এই বিতর্কের সূত্রপাত গত অগস্ট মাসে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটারতালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তদন্তের পর কমিশন নির্দেশ দেয় - দুই কেন্দ্রের নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (ERO) ও সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকদের (AERO) অবিলম্বে সাসপেন্ড করতে হবে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করতে হবে। এবং বারুইপুর পূর্বের একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ করতে হবে।এই ঘটনায় গত ৫ অগস্ট এবং পরবর্তীতে ৮ অগস্ট — পরপর দুটি চিঠিতে কমিশন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপের রিপোর্ট চেয়েছিল। নবান্ন সেই সময় চার আধিকারিককে সাসপেন্ড করার কথা জানালেও, এফআইআর দায়ের করার প্রশ্নে ‘সময়’ চেয়েছিল। কমিশনের ফুল বেঞ্চ এর আগে তৎকালীন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকেও ডেকে পাঠিয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, কয়েকমাস কেটে গেলেও নবান্ন এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর দায়ের করেনি।নির্বাচন কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপের নেপথ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসছে। যথা - ১.⁠ ⁠প্রশাসনিক গাফিলতি: ভোটারতালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখা কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সেখানে রাজ্য সরকারের ‘বিভাগীয় তদন্তের’ যুক্তি দিয়ে এফআইআর এড়িয়ে যাওয়াকে কমিশন তাদের নির্দেশের অবমাননা হিসাবেই দেখছে।২.⁠ ⁠নজিরবিহীন তলব: একজন মুখ্যসচিবকে সশরীরে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর। এটিই স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ভোটারতালিকায় কারচুপি বা অনিয়মের প্রশ্নে কমিশন এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিতে চাইছে।৩.⁠ ⁠জবাবদিহি: কেন বারবার সময় দেওয়া সত্ত্বেও এফআইআর করা হল না এবং কেন আগের চিঠির নির্দেশ পূর্ণাঙ্গভাবে মানা হয়নি, নন্দিনী চক্রবর্তীকে সেই সংক্রান্ত লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা দিতে হবে।প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, রাজ্য সরকার তাদের অবস্থান আগেই জানিয়েছিল। কিন্তু, কমিশনের ফুল বেঞ্চ সেই জবাবে সন্তুষ্ট নয়। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের মতো সংবেদনশীল জেলায় ভোটারতালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে যে স্তরের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখতে কমিশন এবার নিজেই সক্রিয় হয়েছে।এখন দেখার, দিল্লিতে হাজির হয়ে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী কমিশনের ক্ষোভ প্রশমন করতে পারেন, নাকি নবান্ন ও নির্বাচন সদনের এই লড়াই আরও আইনি জটিলতার দিকে মোড় নেয়।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার