ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলার চেষ্টা হলেও, নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই এক বিস্ফোরক এবং কৌশলগত চাল দিলেন শেখ হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। বৃহস্পতিবারের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি-র জয়জয়কার নিশ্চিত হতেই জয় ঘোষণা করেছেন, তিনি খুব শীঘ্রই বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। কয়েক দশক ধরে যে দলটিকে আওয়ামী লীগের প্রধান শত্রু হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, সেই দলের সঙ্গেই যোগাযোগের এই বার্তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সিএনএন নিউজ ১৮-কে দেওয়া একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় দাবি করেছেন, এবারের নির্বাচনে বিএনপি-র জয় অনেকটা ‘প্রতিপক্ষহীন মাঠে গোল দেওয়ার মতো’। তাঁর কথায়, “এবারের নির্বাচনে বিএনপি-র কোনও প্রকৃত প্রতিপক্ষ ছিল না। কারণ, আমাদের ভোটে অংশ নিতেই দেওয়া হয়নি।”
হাসিনা পুত্রের বক্তব্য, আওয়ামী লীগের উপর কার্যক্রম নিষেধাজ্ঞার কারণে তাঁরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। তারপরও জয় মনে করেন, বাংলাদেশের মানুষ আজও তাঁদের পাশেই আছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ পালিয়ে যাওয়ার দল নয় এবং খুব দ্রুতই তাঁরা দেশের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন ঘটাবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জয়ের এই ‘যোগাযোগের’ বার্তা আসলে একটি গভীর কূটনৈতিক চাল হতে পারে। তিনি বলেছেন, “বিএনপি বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হতে চলেছে (যেহেতু তখনও পর্যন্ত ভোটের ফল ঘোষিত হয়নি)। আমরা খুব শীঘ্রই বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করব।” এই বার্তার মাধ্যমে তিনি হয়তো নতুন সরকারের সঙ্গে একটি কাজের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছেন। যাতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উপর চাপ কমানো যায় এবং দলের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখা যায়।
সংশ্লিষ্ট সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় কেবল বিএনপি-র জয় নিয়ে কথা বলেননি। বরং, জামায়াতে ইসলামীর উত্থান নিয়েও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে জামাতের জনসমর্থন অত্যন্ত সীমিত। কিন্তু, সংসদে যদি জামাত নির্ণায়ক শক্তি (Kingmaker) হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে, তবে দেশে সন্ত্রাসবাদের দাপট ভয়াবহভাবে বাড়বে! আওয়ামী লীগের শাসনকালেই বাংলাদেশের সবথেকে বেশি উন্নতি হয়েছে। যার ফলে জামাত বা মৌলবাদী শক্তির উত্থানে ব্যাহত হয়েছিল।
সজীবের বয়ানে আত্মবিশ্বাসের সুর স্পষ্ট। তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের উন্নয়নের সমার্থক। তাই সাময়িকভাবে ক্ষমতার বাইরে থাকলেও জনসমর্থনের জোরেই তাঁরা ফিরবেন। তবে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-র সঙ্গে তিনি ঠিক কী ধরনের যোগাযোগ করবেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন তিনি।
বাংলাদেশের ক্ষমতা হস্তান্তরের এই সন্ধিক্ষণে সজীব ওয়াজেদ জয়ের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে বিএনপি-র জয়কে স্বীকার করে নিয়ে সম্পর্কের বরফ গলানোর চেষ্টা, আর অন্যদিকে জামাতকে ঠেকানোর বার্তা — সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগ যে মাঠ ছাড়তে নারাজ, তা জয়ের কথাতেই পরিষ্কার।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন