ঢাকা: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকার কূটনৈতিক ময়দানে তৎপরতা তুঙ্গে। আর, সেই প্রেক্ষাপটেই বুধবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের বৈঠক হয়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই বৈঠক কেবলমাত্র একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল না। বরং, ভোট-পরবর্তী বাংলাদেশে আমেরিকার নীতি কী হতে চলেছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিতও বটে। বৈঠকে যে বিষয়গুলি উঠে এসেছে, তা হল -
১. ‘পক্ষ না-নেওয়ার’ বার্তা ও গণতান্ত্রিক সমীকরণ:
ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কমিশনার এএমএম নাসিরউদ্দিনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করেন, আমেরিকা কোনও নির্দিষ্ট দলের পক্ষে নেই। কূটনীতিকদের মতে, এটি একটি সুচিন্তিত অবস্থান। ওয়াশিংটন আসলে বার্তা দিতে চাইছে যে তারা কোনও বিশেষ রাজনৈতিক শক্তির সমর্থক নয়। বরং, একটি ‘প্রক্রিয়ার’ সমর্থক। রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট নিয়ে তারা উচ্ছ্বসিত এবং জনগণ যাদের নির্বাচিত করবে, সেই সরকারের সঙ্গেই কাজ করতে আমেরিকা প্রস্তুত।
২. অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তুতি ও মার্কিন মূল্যায়ন:
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে রাষ্ট্রদূতকে জানানো হয়েছিল, এই নির্বাচন হবে ভবিষ্যতের জন্য একটি ‘মানদণ্ড’। বুধবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকেও ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন সুষ্ঠু ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা বর্তমানে একটি ‘Wait and See’ বা পর্যবেক্ষণমূলক নীতি গ্রহণ করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কতটা শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক হয়, তার উপরই নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ।
৩. ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা নীতি ও দ্বিপাক্ষিক চ্যালেঞ্জ:
বৈঠকের আলোচনায় একটি বড় কাঁটা হিসাবে দেখা দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসী ভিসা নীতি। বর্তমানে বাংলাদেশ-সহ বেশ কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য মার্কিন অভিবাসী ভিসা বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ইতিপূর্বেই এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনের তাগিদ এবং অন্যদিকে ভিসা সংক্রান্ত কঠোর অবস্থান — এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আমেরিকা একদিকে যেমন নিরপেক্ষতার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে ভিসা নীতির মাধ্যমে এক ধরনের ‘চাপের কূটনীতি’ও বজায় রাখছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
৪. ভবিষ্যৎ পথচিত্র:
ভোটের পর বাংলাদেশের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকা পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে। এর অর্থ হল, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন উঠলে ওয়াশিংটনের বর্তমান ‘নিরপেক্ষ’ সুর বদলে যেতে পারে!
প্রসঙ্গত, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন কেবলমাত্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন কূটনীতির নতুন ‘পরীক্ষাগার’ হতে চলেছে। ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের এই বৈঠক তারই প্রাথমিক রূপরেখামাত্র।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন