ওয়াশিংটন: পূর্ব ঘোষণা অনুসারে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-এর থেকে নিজেদের সরিয়ে নিল আমেরিকা। এর ফলে রাষ্ট্রসঙ্ঘের এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন করল হোয়াইট হাউস। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন স্বাস্থ্য দফতর ইতিমধ্যেই সংস্থাকে দেওয়া সমস্ত অনুদান বন্ধ করে দিয়েছে এবং এর আওতায় বিভিন্ন দেশে কর্মরত মার্কিন আধিকারিকদের দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘হু’ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশনামায় স্বাক্ষর করেছিলেন। আমেরিকার মূল অভিযোগগুলি হল, প্রথমত - অতিমারি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা: আমেরিকার দাবি, কোভিড-১৯ অতিমারির মোকাবিলা করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এবং দ্বিতীয়ত - রাজনৈতিক প্রভাব: হোয়াইট হাউসের অভিযোগ, এই সংস্থা নির্দিষ্ট কিছু দেশ দ্বারা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত এবং দীর্ঘদিন ধরে এতে কোনও সংস্কার করা হয়নি।
আমেরিকার এই বিদায়ে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে বকেয়া অর্থ নিয়ে। পরিসংখ্যান বলছে, ‘হু’-র কাছে আমেরিকার বকেয়া রয়েছে প্রায় ২৬ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২,৪০০ কোটি টাকা)। নিয়ম অনুযায়ী, সদস্যপদ ছাড়ার এক বছর আগে নোটিস দেওয়ার পাশাপাশি সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও, আমেরিকা সেই নিয়ম মানতে অস্বীকার করেছে।
আমেরিকা সরে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে ‘হু’-কে সবচেয়ে বেশি আর্থিক সাহায্য দিয়েছিল আমেরিকাই। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমেরিকার এই সিদ্ধান্তে বড়সড় ধাক্কা খাবে পোলিও দূরীকরণ অভিযান, প্রসূতি ও শিশুদের পুষ্টি প্রকল্প এবং বিশ্বব্যাপী রোগ নির্ণয় ও মহামারি প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বজুড়ে রোগ নির্মূলের কাজে অগ্রণী ভূমিকা নেওয়া এই সংস্থার প্রতি মার্কিন অর্থসাহায্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলিতে স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন