কলকাতা: ১৩ বছরের রেকর্ড ভেঙে তিলোত্তমার পারদ নেমেছে ১০ ডিগ্রির ঘরে! আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস মতোই কনকনে উত্তুরে হাওয়ায় কাঁপছে শহর। আর এই হাড়কাঁপানো ঠান্ডার হাত ধরেই বদলে গিয়েছে কলকাতার বহু যুগের চেনা জীবনযাত্রা। লেপ-কম্বলের ওম ছেড়ে বেরোলেই বাঙালির দৈনন্দিন রুটিনে এখন দাপট দেখাচ্ছে ‘শীতকালীন লাইফস্টাইল’!
ফ্যাশনে এখন ‘লেয়ারিং’-এর দাপট:
একসময় শীতের পোশাক মানেই ছিল ভারী সোয়েটার বা মাফলার। কিন্তু আজকের কলকাতার তরুণ প্রজন্ম ঝুঁকেছে আধুনিক ‘লেয়ারিং’ ফ্যাশনে। ধর্মতলা থেকে গড়িয়াহাট— সর্বত্রই এখন ওভারকোট, রঙিন হুডি এবং স্টাইলিশ ডেনিম জ্যাকেটের রমরমা। বিশেষ করে চামড়ার জ্যাকেট এবং হরেক রকমের মাফলার এখন স্টাইল স্টেটমেন্ট। শুধু ফ্যাশন নয়, কান-মাথা ঢেকে রাখতে ‘বিয়ানি টুপির’ ব্যবহারও হচ্ছে চোখে পড়ার মতো।
ভোজনরসিক বাঙালির শীতের পাতে কী?
শীতকাল মানেই বাঙালির কাছে ভূরিভোজের সেরা বাহানা! নলেন গুড়ের সন্দেশ আর পিঠেপুলির পাশাপাশি কলকাতার ঘরে-ঘরে এখন চিকেন স্টু এবং গরম স্যুপের চাহিদা তুঙ্গে। রাস্তাঘাটে চা-কফি আর ধোঁয়া ওঠা মোমোর দোকানে দীর্ঘ লাইনই বলে দিচ্ছে, শীত উপভোগে খামতি রাখছে না শহরবাসী। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ, এই ঠান্ডায় শরীরকে ভিতর থেকে গরম রাখতে আদা-চা বা হালকা গরম জল এবং মরসুমি ফল খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি।
ত্বকের যত্ন ও সতর্কতা:
উত্তুরে হাওয়ায় ত্বক ও ঠোঁট ফেটে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। তাই, বিউটি পার্লার থেকে শুরু করে সাধারণ মধ্যবিত্তের বাড়িতেও এখন ময়েশ্চারাইজার আর কোল্ড ক্রিমের কদর বেড়েছে। পাশাপাশি, হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় সর্দি-কাশির উপদ্রব বাড়ছে। তাই বয়স্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সবশেষে বলা যায়, পার্ক স্ট্রিটের আলোকসজ্জা বা নন্দন চত্বরের জমায়েত — হাড়কাঁপানো ঠান্ডা সঙ্গী করেই মেতেছে কলকাতা। আপাতত আরও কয়েক দিন এই কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর আর হিমেল রাত সঙ্গী করেই দিন কাটবে বাঙালির।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন