তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধেই উঠল গাছ চুরি করে বেঁচে দেওয়ার অভিযোগ ৷ সরকারি দেওয়ালে লিপিবদ্ধ করা রয়েছে 'গাছ লাগান, প্রাণ বাঁচান'। সেখানে কৃষ্ণগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের সরকারি জৈব কৃষি খামারে একাধিক গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেতৃত্বাধীন পঞ্চায়েত প্রধান মদন ঘোষের বিরুদ্ধে। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরা জানিয়েছেন, কদমসহ একাধিক শিশু গাছ তাদের অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে বিক্রি করা হয়েছে।
কৃষ্ণগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য পরিতোষ বিশ্বাস প্রশ্ন তুলেছেন, "কীভাবে একের পর এক গাছ কোনওরকম আলোচনা ছাড়া বনদফতরের অনুমতি ছাড়া বিক্রি করা হল ?" একই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত করার জন্য কৃষ্ণগঞ্জের বিডিওকে জানানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ওই পঞ্চায়েত সদস্য। এ ব্যাপারে কৃষ্ণগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মদন ঘোষের অবশ্য দাবি, রেজলিউশন করে বিডিও এবং ফরেষ্ট ডিপার্টমেন্টের অনুমতি ক্রমেই তিনি গাছ কেটেছেন। পঞ্চায়েতের সদস্যরা অভিযোগ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য, এটা তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপির চক্রান্ত।
অভিযোগ করেন, "কোনো পারমিশন ছাড়াই গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। আমরা চাই প্রশাসন দোষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক।"
পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা গৌতম ঘোষ বলেন, "আমাদেরকে শুধু কয়েকটি ডাল দেখানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে এসে দেখি অনেকগুলি মোটা গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। আমরা চাই পুরো ঘটনাটির তদন্ত হোক।"
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা নেতা সন্দীপ বোস বলেন, "দল এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। যদি প্রধান নিজেই গাছ বিক্রি করে থাকেন, তার দায়িত্ব তারই। প্রশাসন তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।"
বিজেপির জেলা নেতা অমিত প্রামানিক বলেন, "বালি চুরি, পাথর চুরি, চাকরি চুরি—এখন গাছ চুরি, এটাও স্বাভাবিক। প্রশাসনকে পুরো ঘটনা তদন্ত করতে হবে। বিডিওকে নিশ্চিত করতে হবে, পঞ্চায়েতের রেজোলিউশন বা সরকারি অনুমোদন ছিল কি না। যদি প্রমাণ পাওয়া না যায়, তবে প্রধানের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দাখিল করতে হবে।"
কৃষ্ণগঞ্জবাসীর নজর এখন প্রশাসনের দিকে, যারা এই গাছ চুরির অভিযোগে কি পদক্ষেপ নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন