Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

মমতার ২১ জুলাইয়ে হাই কোর্টের সবুজ সংকেত! বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে সভার অনুমতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬
মমতার ২১ জুলাইয়ে হাই কোর্টের সবুজ সংকেত! বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে সভার অনুমতি
বিড়লা প্ল্যানেটরিয়ামের সামনে সভা করতে পারেন মমতা। ছবি-সংগৃহীত

কলকাতা, ১৫ জুলাই: দীর্ঘ টালবাহানা আর আইনি টানাপোড়েনের পর অবশেষে কাটল ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশের জট। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে এবার ধর্মতলা নয়, বরং বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে শর্ত সাপেক্ষে শহিদ দিবস পালন করার অনুমতি পেল ‘কালীঘাট তৃণমূল’। বুধবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিকেল সাড়ে ৩টে পর্যন্ত আড়াই হাজার সমর্থক নিয়ে এই কর্মসূচি করতে পারবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীরা। রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর এবারই প্রথম তৃণমূল দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে দু-দুটো আলাদা শহিদ সমাবেশ করতে চলেছে, যার জেরে সকাল থেকেই আলিপুর ও ধর্মতলা চত্বরে আইনি পারদ ছিল তুঙ্গে।

এদিন শুনানির প্রথমার্ধে ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভার আবেদন খারিজ হওয়ার পর জল্পনা তীব্র হয়। রাজ্য সরকারের তরফে প্রথমে ওয়েলিংটনের সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে দু-হাজার লোকের উপস্থিতিতে সভার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ মিত্র আদালতে যুক্তি দেন, বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের কাছে স্কুল ও হাসপাতাল থাকায় সেখানে বড় জমায়েত করা সম্ভব নয়, বেশি লোক হলে ব্রিগ্রেডে যাওয়া উচিত। এর তীব্র বিরোধিতা করে কালীঘাট তৃণমূলের হেভিওয়েট আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "২৭ জুনে আমরা ভেন্যু চেয়েও পাইনি, অথচ আমাদের পরে যারা চাইল তাদের শহিদ মিনার দেওয়া হলো! পুলিশের ইচ্ছেই নেই আমাদের অনুমতি দেওয়ার। ব্রিগ্রেড হলে আগে বললে আমি ১ লাখ লোক আনতাম।" তিনি পাল্টা নবান্নের সামনে সভা করারও অনুমতি চান এবং বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীকে বেশি লোক আনার ছাড়পত্র দেওয়া নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের তরফে জানানো হয়, শহিদ মিনারে কংগ্রেস ১০ হাজার এবং গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল ৭০০ থেকে ৮০০ লোক নিয়ে সভা করবে। দুই পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের বিকল্পটি বেছে নেন। এই সময় আবেগঘন কণ্ঠে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের উদ্দেশ্যে বলেন, "আজ যারা বিক্ষুব্ধ হয়ে অনুমতি চাইছে, ১৯৯৪ সালে তাদের অনেকের রাজনীতিতেই জন্ম হয়নি। আমাদের নেত্রী এই দিবসকে তুলে ধরেছিলেন। আমাদের ইমোশন আলাদা।" যদিও রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য সালটি সংশোধন করে ১৯৯৮ সাল বলে উল্লেখ করেন। কল্যাণ বাবু তিন থেকে পাঁচ হাজার লোকের অনুমতি চাইলেও, রাজ্যের প্রবল আপত্তির মুখে পুলিশি নিয়ন্ত্রণের কথা মাথায় রেখে শেষ পর্যন্ত আড়াই হাজার লোকের সংখ্যা বেঁধে দেন বিচারপতি। পাশাপাশি, পূর্ববর্তী দিনে হাজরায় তৃণমূল কর্মীদের ডিম ছোড়া ও হেনস্থার ঘটনার প্রেক্ষিতে কড়া নিরাপত্তা বজায় রাখার ইঙ্গিতও রয়েছে এই নির্দেশে।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : BengalPolitics kolkatapolitics CalcuttaHighCourt HiddenStoriesNews MamataBanerjee 21stJulyRally BirlaPlanetarium

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬


মমতার ২১ জুলাইয়ে হাই কোর্টের সবুজ সংকেত! বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে সভার অনুমতি

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬

featured Image
কলকাতা, ১৫ জুলাই: দীর্ঘ টালবাহানা আর আইনি টানাপোড়েনের পর অবশেষে কাটল ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশের জট। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে এবার ধর্মতলা নয়, বরং বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে শর্ত সাপেক্ষে শহিদ দিবস পালন করার অনুমতি পেল ‘কালীঘাট তৃণমূল’। বুধবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিকেল সাড়ে ৩টে পর্যন্ত আড়াই হাজার সমর্থক নিয়ে এই কর্মসূচি করতে পারবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীরা। রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর এবারই প্রথম তৃণমূল দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে দু-দুটো আলাদা শহিদ সমাবেশ করতে চলেছে, যার জেরে সকাল থেকেই আলিপুর ও ধর্মতলা চত্বরে আইনি পারদ ছিল তুঙ্গে।এদিন শুনানির প্রথমার্ধে ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভার আবেদন খারিজ হওয়ার পর জল্পনা তীব্র হয়। রাজ্য সরকারের তরফে প্রথমে ওয়েলিংটনের সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে দু-হাজার লোকের উপস্থিতিতে সভার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ মিত্র আদালতে যুক্তি দেন, বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের কাছে স্কুল ও হাসপাতাল থাকায় সেখানে বড় জমায়েত করা সম্ভব নয়, বেশি লোক হলে ব্রিগ্রেডে যাওয়া উচিত। এর তীব্র বিরোধিতা করে কালীঘাট তৃণমূলের হেভিওয়েট আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "২৭ জুনে আমরা ভেন্যু চেয়েও পাইনি, অথচ আমাদের পরে যারা চাইল তাদের শহিদ মিনার দেওয়া হলো! পুলিশের ইচ্ছেই নেই আমাদের অনুমতি দেওয়ার। ব্রিগ্রেড হলে আগে বললে আমি ১ লাখ লোক আনতাম।" তিনি পাল্টা নবান্নের সামনে সভা করারও অনুমতি চান এবং বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীকে বেশি লোক আনার ছাড়পত্র দেওয়া নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন।পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের তরফে জানানো হয়, শহিদ মিনারে কংগ্রেস ১০ হাজার এবং গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল ৭০০ থেকে ৮০০ লোক নিয়ে সভা করবে। দুই পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের বিকল্পটি বেছে নেন। এই সময় আবেগঘন কণ্ঠে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের উদ্দেশ্যে বলেন, "আজ যারা বিক্ষুব্ধ হয়ে অনুমতি চাইছে, ১৯৯৪ সালে তাদের অনেকের রাজনীতিতেই জন্ম হয়নি। আমাদের নেত্রী এই দিবসকে তুলে ধরেছিলেন। আমাদের ইমোশন আলাদা।" যদিও রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য সালটি সংশোধন করে ১৯৯৮ সাল বলে উল্লেখ করেন। কল্যাণ বাবু তিন থেকে পাঁচ হাজার লোকের অনুমতি চাইলেও, রাজ্যের প্রবল আপত্তির মুখে পুলিশি নিয়ন্ত্রণের কথা মাথায় রেখে শেষ পর্যন্ত আড়াই হাজার লোকের সংখ্যা বেঁধে দেন বিচারপতি। পাশাপাশি, পূর্ববর্তী দিনে হাজরায় তৃণমূল কর্মীদের ডিম ছোড়া ও হেনস্থার ঘটনার প্রেক্ষিতে কড়া নিরাপত্তা বজায় রাখার ইঙ্গিতও রয়েছে এই নির্দেশে।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার