রাজ্যে পালাবদলের পর এবার একে একে ফিরছে ‘কাটমানি’-র টাকা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় পলাতক তৃণমূল নেতা তথা বেলসিংহা অঞ্চলের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি গুরুপদ মণ্ডলের বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে সরব হয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। আর সেই অভিযোগের জেরেই এদিন তাঁর স্ত্রীর হাত ধরে প্রায় সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হল এলাকার বাসিন্দাদের।
স্থানীয় সূত্রে খবর, তৃণমূলের শাসনকালে ফলতার একদা দাপুটে নেতা জাহাঙ্গির খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বা ‘সেনাপতি’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন গুরুপদ মণ্ডল। অভিযোগ, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে গ্রামবাসীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কাটমানি তুলেছিলেন তিনি। গ্রামবাসীদের দাবি, আবাস যোজনার টাকা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কারও কাছ থেকে ২০ হাজার, কারও কাছ থেকে ৪০ হাজার, আবার অনেকের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল। এমনকি ঘূর্ণিঝড় আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির কাছ থেকেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
তৃণমূলে বড় ধাক্কা! বিজেপিতে যোগ তিন প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদের
অভিযোগ, শুধুমাত্র একটি বুথ এলাকা থেকেই প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা কাটমানি তোলা হয়েছিল। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই পলাতক রয়েছেন গুরুপদ মণ্ডল। তাঁর সঙ্গে বেলসিংহা-২ অঞ্চলের প্রাক্তন তৃণমূল অঞ্চল প্রধান কাকলি মালিও পলাতক বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, সম্প্রতি গ্রামে ফিরে আসেন তৃণমূল আমলে এলাকা ছাড়া কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁদের উদ্যোগে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং কাটমানির টাকা ফেরতের দাবি ওঠে। এরপরই পরিস্থিতির চাপে গুরুপদ মণ্ডলের স্ত্রী সুচিত্রা মণ্ডল এবং তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী সহদেব মালিক ও দীপঙ্কর মালিক গ্রামবাসীদের হাতে প্রায় সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা তুলে দেন। টাকা ফেরত পেয়ে খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে তাঁদের দাবি, শুধু টাকা ফেরত নয়, এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হোক।

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন