ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই ব্রাজিলের সাম্বা আর জার্মানির শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবলের গল্প। প্রায় এক শতাব্দী ধরে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই দুই দলই ছিল নকআউট পর্বের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে ঘটেছে এক ঐতিহাসিক ঘটনা। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরুর পর ৯৬ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিতে পারেনি ব্রাজিল ও জার্মানি অর্থাৎ ফুটবলের দুই পরাশক্তিই বিদায় নিয়েছে শেষ আটের আগেই।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিল পাঁচবার এবং জার্মানি চারবার শিরোপা জিতেছে। শুধু শিরোপা নয়, সেমিফাইনাল, ফাইনাল ও কোয়ার্টার ফাইনালে নিয়মিত উপস্থিতির কারণে এই দুই দলকে বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল ও ধারাবাহিক দল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই একই আসরে ব্রাজিল ও জার্মানির অনুপস্থিতিতে কোয়ার্টার ফাইনাল - এ দৃশ্য ফুটবল বিশ্ব আগে কখনও দেখেনি। জার্মানির বিশ্বকাপ অভিযান থেমে যায় রাউন্ড অব ৩২-এ। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতায় থাকার পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে। বিশ্বকাপের অন্যতম সফল দল জার্মানির এমন বিদায় ছিল টুর্নামেন্টের প্রথম বড় অঘটন।
অন্যদিকে গ্রুপ পর্ব ও রাউন্ড অব ৩২ পার হলেও শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে থেমে যায় ব্রাজিল। আর্লিং হালান্ডের দুর্দান্ত জোড়া গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে। শেষ দিকে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও সমতায় ফিরতে পারেনি সেলেসাওরা। ২-১ ব্যবধানে হেরে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্বপ্ন ভেঙে যায়। ব্রাজিল ও জার্মানির বিদায়ের মধ্য দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ যেন নতুন এক যুগে প্রবেশ করেছে। ইউরোপ, আফ্রিকা এবং উত্তর আমেরিকার দলগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলছে। মরক্কো, নরওয়ে, প্যারাগুয়ের মতো দলগুলো দেখিয়ে দিয়েছে যে শুধু ঐতিহ্য নয়, বর্তমান ফর্ম, পরিকল্পনা ও দলগত পারফরম্যান্সই এখন বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় শক্তি। এবারের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়াম, নরওয়ে, ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিনা, সুইজারল্যান্ড ও মরক্কো। ফলে বিশ্বকাপের শেষ আটে দেখা যাবে নতুন সব লড়াই, যেখানে অতীতের গৌরব নয়, বর্তমানের সামর্থ্যই নির্ধারণ করবে কারা পৌঁছাবে শিরোপার মঞ্চে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপ হয়তো ভবিষ্যতের বিশ্ব ফুটবলের নতুন শক্তির মানচিত্র এঁকে দেবে। ব্রাজিল ও জার্মানির মতো ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর অকাল বিদায় যেমন হতাশার, তেমনি উদীয়মান দলগুলোর সাফল্য বিশ্বকাপকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত কে শিরোপা জিতবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় ইতোমধ্যেই নিশ্চিত যে ২০২৬ বিশ্বকাপ ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে এক ব্যতিক্রমী আসর হিসেবে, যেখানে ৯৬ বছরের পুরোনো একটি ধারাবাহিকতা ভেঙে গেছে।

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন