কলকাতা: পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আরও কোণঠাসা রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। এবার শুধু তিনি একাই নন, আইনি বিপাকে জড়িয়ে পড়লেন তাঁর ছেলেও। বৃহস্পতিবার বিশেষ আদালতে প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু এবং তাঁর ছেলে সমুদ্র বসুর বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
ধৃত সুজিতবাবুর গ্রেপ্তারির ঠিক দুই মাসের মাথায় এই মেগা চার্জশিট জমা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বাপ-বেটার পাশাপাশি সুজিত বসুর নিয়ন্ত্রণে থাকা দুটি সংস্থা এবং পুরসভার তৎকালীন ডিরেক্টর অব ডিএলপি তথা আমলা জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়ের নামও এই চার্জশিটে যুক্ত করা হয়েছে। লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই ইডির এই মারকাটারি অ্যাকশন ঘিরে সল্টলেক থেকে শুরু করে রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ইডির জমা দেওয়া চার্জশিটে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সমস্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। ইডি দাবি করেছে, পুরসভায় চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ৩৪০ জন প্রার্থীর কাছ থেকে কমবেশি ৬ লক্ষ টাকা করে তুলেছিলেন অভিযুক্ত সুজিত বসু। এই বিপুল সংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর মধ্যে অন্তত ২৮৪ জন সম্পূর্ণ বেআইনি ও অনৈতিক উপায়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, এই গোটা চক্র থেকে সুজিত বসু একাই প্রায় ২০ কোটি টাকা তছরুপ করেছেন। শুধু তাই নয়, তদন্তকারীদের অনুমান, এই পুর নিয়োগ দুর্নীতির জাল গোটা রাজ্যজুড়ে বিস্তৃত এবং এর মোট আর্থিক পরিমাণ অন্তত ২৫০ কোটি টাকা ছুঁয়ে ফেলেছে।
ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদে বড় ভাঙন! অনাস্থায় বোর্ড ভাঙার সিদ্ধান্ত
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই ইডির নজরে ছিলেন সুজিত বসু। বিধানসভা নির্বাচনের আবহে গত ৬ এপ্রিল— ঠিক যেদিন তিনি ভোটের মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাচ্ছিলেন, সেদিন থেকেই তাঁর ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করে ইডি। ভোটের মাঝেই একাধিকবার হাজিরার নোটিস পাঠানো হয় তাঁকে। সেই সময় নির্বাচনী প্রচারের ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে সুজিত হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন এবং অন্তর্বর্তী স্বস্তি পান। তৃণমূল সূত্রের দাবি, আদালতের নির্দেশ মেনেই নির্বাচন চলাকালীন সিজিও কমপ্লেক্সে যাওয়া এড়িয়েছিলেন বিধাননগরের তৎকালীন এই প্রার্থী। কিন্তু ভোট মিটতেই গত ১ মে আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে ইডি আধিকারিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানে ম্যারাথন জেরার পর ফের ১১ মে তাঁকে তলব করা হয় এবং সেদিনই গভীর রাতে নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয় সুজিতকে।
সুজিত বসুর গ্রেপ্তারি মামলার তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই নতুন নতুন তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। ইডি সূত্রের খবর, এই নিয়োগ দুর্নীতির কালো টাকা সুজিত বসুর ছেলের একাধিক ব্যবসায়িক সংস্থায় খাটানো হয়েছিল বলে প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। আর সেই কারণেই সুজিতের দুই ভুয়ো সংস্থার পাশাপাশি তাঁর ছেলে সমুদ্র বসুকেও এই চার্জশিটে অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। এর আগে নিয়োগ দুর্নীতিতে বহু হেভিওয়েটের নাম জড়ালেও, সপরিবারে মন্ত্রী-পুত্রের এভাবে চার্জশিটে নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া যথেষ্ঠ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে শিল্প ও রাজনৈতিক মহল। এবার দেখার, আদালতের দরবারে এই হাইপ্রোফাইল বাপ-বেটার ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেয়।

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন