কলকাতা: দেড় দশক পর অবশেষে দেশে শুরু হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত জনগণনা বা সেন্সাস। ভোট মিটতেই রাজ্যজুড়ে তার প্রস্তুতি তুঙ্গে। করোনা অতিমারীর কারণে ২০২১ সালের জনগণনা থমকে যাওয়ার পর, নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে এই প্রথম দেশজুড়ে মাথা গোনার ঐতিহাসিক কাজ শুরু হচ্ছে।
আগামী অগস্ট মাস থেকেই দেশজুড়ে এর প্রাথমিক প্রক্রিয়া চালু হয়ে যাবে, যার চূড়ান্ত পর্বটি সম্পন্ন হবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। তবে এবারের জনগণনা কেবল প্রথাগত খাতা-কলমে নয়, বরং প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সম্পূর্ণ ডিজিটাল হতে চলেছে। নাগরিকদের নিজেদের মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে মোট ৩৪টি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ‘স্বগণনা’ বা সেলফ এনিউমারেশন করতে হবে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন ব্লকে গণনাকর্মীদের জোরকদমে প্রশিক্ষণপর্ব শুরু করে দিয়েছে প্রশাসন।
আলিয়া আবহাওয়া বা রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই অগস্টের ১ তারিখ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত চলবে সেন্সাসের প্রথম ধাপ, যা ‘সেল্ফ এনিউমারেশন’ নামে পরিচিত। এই পর্বে দেশের প্রতিটি পরিবারকে সরকারি পোর্টালে গিয়ে নিজেদের যাবতীয় তথ্য পূরণ করতে হবে, যা সম্পূর্ণ হলে নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি (OTP) আসবে। পরিবারগুলি নিজেরা এই কাজ করলেও গণনাকর্মীরা এলাকায় এলাকায় ঘুরে বাড়ি ও পরিবারের সংখ্যা জরিপ করার পাশাপাশি আমজনতাকে এই প্রক্রিয়ায় সাহায্য করবেন। এর ঠিক পরেই, অর্থাৎ ১৬ থেকে ৩১ অগস্টের মধ্যে গণনাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই পূরণ করা ডিজিটাল তথ্য সশরীরে যাচাই বা ভেরিফিকেশন করবেন। এই প্রাথমিক পর্ব মিটে যাওয়ার পর ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে চলবে চূড়ান্ত ডেটা সংগ্রহের কাজ। এবার স্যাটেলাইট ইমেজ বা উপগ্রহ চিত্র দেখে ম্যাপিং করার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হবে।
এনকাউন্টার ইস্যুতে দিলীপ ঘোষের বক্তব্যের সারাংশ
ডিজিটাল ফর্মে নাগরিকদের যে ৩৪টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, তার তালিকাটি অত্যন্ত বিস্তৃত। বাড়ির নম্বর এবং মেঝে, দেওয়াল ও ছাদ কী উপাদান দিয়ে তৈরি, তা জানানোর পাশাপাশি ঘরে নিয়মিত বসবাসকারী সদস্য সংখ্যা এবং পরিবারের প্রধানের নাম ও লিঙ্গ উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া পরিবারটি তফসিলি জাতি, উপজাতি নাকি ওবিসি ভুক্ত, বাড়ির মালিকানা নিজেদের কিনা, এবং ঘরে বিবাহিত দম্পতি ক'জন আছেন, তাও জানাতে হবে।
শুধু তাই নয়, পানীয় জল ও আলোর উৎস, শৌচালয় ও জলনিকাশি ব্যবস্থা এবং রান্নাঘরে এলপিজি সংযোগ আছে কিনা, সেই তথ্যও চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘরে টেলিভিশন, ইন্টারনেট, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন রয়েছে কিনা এবং সাইকেল, স্কুটার বা চারচাকা গাড়ির মতো বিলাসবহুল সামগ্রী আছে কিনা, তার বিবরণ দিতে হবে। এমনকি পরিবারে প্রধানত কোন খাদ্যশস্য গ্রহণ করা হয় এবং সদস্যদের মধ্যে কোনও রূপান্তরকামী মানুষ আছেন কিনা, তারও পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দিতে হবে নাগরিকদের।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১১ সালে মনমোহন সিং সরকারের আমলে শেষবার দেশে জনগণনা হয়েছিল। সাধারণত ১০ বছর অন্তর এই প্রক্রিয়া হওয়ার নিয়ম থাকলেও কোভিডের কারণে দীর্ঘ ১৫ বছর পর এই কর্মযজ্ঞ ফিরছে। এই জনগণনার মূল উদ্দেশ্য শুধু দেশের মোট জনসংখ্যা মাপা নয়, বরং নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান কোন স্তরে রয়েছে তা খতিয়ে দেখা। অতীতে ২০০১ সালের জনগণনার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই দেশে মিড ডে মিল প্রকল্প, আদিবাসীদের বনাঞ্চলের অধিকার আইন এবং বিপিএল তালিকাভুক্তদের বাড়তি রেশন দেওয়ার মতো ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বিগত ১৫ বছরে ভারতে কত কোটি জনসংখ্যা বাড়ল এবং আমজনতার আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়ন ঠিক কতটা হলো, তা আগামী বছর এই সেন্সাসের চূড়ান্ত রিপোর্টের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন