Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫০ কোটি ‘পাচার’! কলকাতার ৫ জায়গায় ইডির ম্যারাথন হানা, নজরে চার্টার্ড বিমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬
তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫০ কোটি ‘পাচার’! কলকাতার ৫ জায়গায় ইডির ম্যারাথন হানা, নজরে চার্টার্ড বিমান
ছবি--প্রতীকী

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়া সংক্রান্ত মামলায় এবার এক বিস্ফোরক মোড়! শাসকদলের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫০ কোটি টাকারও বেশি বিপুল অঙ্কের সন্দেহজনক লেনদেন ও আর্থিক পাচারের হদিস পেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই বিপুল টাকা পাচারের নেপথ্যে একটি নামী চার্টার্ড বিমান ও ভ্রমণ পরিষেবা সংস্থাকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করছেন গোয়েন্দারা। এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের সূত্র ধরে আজ, মঙ্গলবার সকাল থেকেই কলকাতার পাঁচ-পাঁচটি হাই-প্রোফাইল ঠিকানায় একযোগে ম্যারাথন তল্লাশি অভিযানে নামল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।


মঙ্গলবার সকাল হতেই ইডির একাধিক টিম একযোগে হানা দেয় মধ্য কলকাতার লালবাজার সংলগ্ন রাধাবাজার এলাকার একটি নামী বিমান পরিষেবা সংস্থা ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’-এর দপ্তরে। এই চার্টার্ড বিমান সরবরাহকারী সংস্থাটির বিরুদ্ধেই কোটি কোটি টাকা লেনদেনের প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। অফিস ছাড়াও সল্টলেকে ওই সংস্থার মালিকের বিলাসবহুল আবাসন এবং নিউ টাউনের একটি নির্দিষ্ট ঠিকানাতেও চিরুনি তল্লাশি চালান ইডি আধিকারিকেরা। সূত্রের খবর, কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশনের অধীনে একাধিক ট্রাভেল ও লজিস্টিক সংস্থা রয়েছে, যেগুলির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন চালানো হয়েছে। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই সংস্থাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ভিভিআইপি-দের যাতায়াতের জন্য চার্টার্ড বিমান ভাড়া দিত বলে তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে। এছাড়া মধ্য কলকাতার এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের অফিস এবং একটি ইলেক্টোরাল ট্রাস্টের দপ্তরেও হানা দিয়ে বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক গ্যাজেট বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি।


গোটা বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল গত ১৮ জুন, যখন দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক তৃণমূল বিধায়ক বিধাননগর সাইবার থানায় একটি বড়সড় আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি ছিল, সাইবার জালিয়াতির কোটি কোটি কালো টাকা তৃণমূলের কিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। এর ঠিক পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ এবং তিনটি অ্যাকাউন্টের ডেবিট বা টাকা তোলার প্রক্রিয়া ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হয়। এদিকে দলের অন্দরের তীব্র টানাপড়েনের কথা উল্লেখ করে তৃণমূলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাসও দলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে এই ঘটনার গুরুত্ব বুঝে আর্থিক তছরুপের দিকটি খতিয়ে দেখতে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে তদন্তভার হাতে নেয় ইডি। আর তারপরেই আজ কলকাতার বুকে ইডির এই মেগা তল্লাশি এবং ১৫০ কোটির ‘পাচার’ তত্ত্ব সামনে আসায় রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে।

বিষয় : BengalPolitics AbhishekBanerjee EDRaidKolkata TMCACCOUNTFREEZE CAREWELLAVIATION

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬


তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫০ কোটি ‘পাচার’! কলকাতার ৫ জায়গায় ইডির ম্যারাথন হানা, নজরে চার্টার্ড বিমান

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image
কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়া সংক্রান্ত মামলায় এবার এক বিস্ফোরক মোড়! শাসকদলের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫০ কোটি টাকারও বেশি বিপুল অঙ্কের সন্দেহজনক লেনদেন ও আর্থিক পাচারের হদিস পেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই বিপুল টাকা পাচারের নেপথ্যে একটি নামী চার্টার্ড বিমান ও ভ্রমণ পরিষেবা সংস্থাকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করছেন গোয়েন্দারা। এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের সূত্র ধরে আজ, মঙ্গলবার সকাল থেকেই কলকাতার পাঁচ-পাঁচটি হাই-প্রোফাইল ঠিকানায় একযোগে ম্যারাথন তল্লাশি অভিযানে নামল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।মঙ্গলবার সকাল হতেই ইডির একাধিক টিম একযোগে হানা দেয় মধ্য কলকাতার লালবাজার সংলগ্ন রাধাবাজার এলাকার একটি নামী বিমান পরিষেবা সংস্থা ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’-এর দপ্তরে। এই চার্টার্ড বিমান সরবরাহকারী সংস্থাটির বিরুদ্ধেই কোটি কোটি টাকা লেনদেনের প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। অফিস ছাড়াও সল্টলেকে ওই সংস্থার মালিকের বিলাসবহুল আবাসন এবং নিউ টাউনের একটি নির্দিষ্ট ঠিকানাতেও চিরুনি তল্লাশি চালান ইডি আধিকারিকেরা। সূত্রের খবর, কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশনের অধীনে একাধিক ট্রাভেল ও লজিস্টিক সংস্থা রয়েছে, যেগুলির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন চালানো হয়েছে। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই সংস্থাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ভিভিআইপি-দের যাতায়াতের জন্য চার্টার্ড বিমান ভাড়া দিত বলে তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে। এছাড়া মধ্য কলকাতার এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের অফিস এবং একটি ইলেক্টোরাল ট্রাস্টের দপ্তরেও হানা দিয়ে বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক গ্যাজেট বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি।গোটা বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল গত ১৮ জুন, যখন দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক তৃণমূল বিধায়ক বিধাননগর সাইবার থানায় একটি বড়সড় আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি ছিল, সাইবার জালিয়াতির কোটি কোটি কালো টাকা তৃণমূলের কিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। এর ঠিক পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ এবং তিনটি অ্যাকাউন্টের ডেবিট বা টাকা তোলার প্রক্রিয়া ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হয়। এদিকে দলের অন্দরের তীব্র টানাপড়েনের কথা উল্লেখ করে তৃণমূলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাসও দলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে এই ঘটনার গুরুত্ব বুঝে আর্থিক তছরুপের দিকটি খতিয়ে দেখতে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে তদন্তভার হাতে নেয় ইডি। আর তারপরেই আজ কলকাতার বুকে ইডির এই মেগা তল্লাশি এবং ১৫০ কোটির ‘পাচার’ তত্ত্ব সামনে আসায় রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার