শ্রীনগর: জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক মস্ত বড় সাফল্য পেল ভারতীয় সেনা। উপত্যকার শোপিয়ানে সেনা ও পুলিশের যৌথ বাহিনীর সঙ্গে এক হাড়হিম করা এনকাউন্টারে খতম হলো লশকর-এ-তৈবার শীর্ষ জঙ্গিনেতা জ়াকির গানি। গত ৩ জুলাই থেকে সেনার হিটলিস্টে থাকা এই কুখ্যাত জঙ্গির খোঁজে তন্ন তন্ন করে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। অবশেষে বুধবার সকালে শোপিয়ানের মীমানদার এলাকার ঘন জঙ্গলে তার গোপন ডেরার হদিস মিলতেই শুরু হয় চূড়ান্ত অপারেশন। খতম হওয়া জ়াকির কাশ্মীরের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গিদের তালিকায় অন্যতম শীর্ষ নাম ছিল বলে সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে।
সেনা সূত্রে খবর, কুলগামের বাসিন্দা জ়াকির গানি ২০২৪ সালে লশকর-এ-তৈবা জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিয়েছিল এবং মূলত দক্ষিণ কাশ্মীরে নাশকতামূলক কার্যকলাপ ছড়ানোর দায়িত্বে ছিল সে। গত ৩ জুলাই নজরদারি ক্যামেরায় জ়াকির-সহ দুই জঙ্গির গতিবিধি ধরা পড়ার পরেই নড়েচড়ে বসে যৌথ বাহিনী। কিন্তু পাহাড়ি দুর্গম এলাকা এবং গভীর জঙ্গলের সুযোগ নিয়ে তারা আত্মগোপন করে থাকে। টানা চার দিন ধরে পুরো এলাকা কর্ডন করে চিরুনি তল্লাশি চালানোর পর, বুধবার ভোরে অবশেষে জঙ্গিদের গোপন আস্তানার হদিস পায় সেনা। বাহিনীকে লক্ষ্য করে জঙ্গিরা গুলি চালাতে শুরু করলে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা জবাব দেয় জ়াকিরদের কোণঠাসা করে ফেলা ভারতীয় জওয়ানরা। দু’পক্ষের বেশ কয়েক রাউন্ড তীব্র গুলি বিনিময়ের পর সেনার নিখুঁত নিশানা খতম করে লশকরের এই কমান্ডারকে।
কুখ্যাত জঙ্গিনেতা জ়াকির গানি খতম হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে না সেনা। কারণ, গত ৩ জুলাই ক্যামেরায় জ়াকিরের সঙ্গে আরও এক জঙ্গিকে দেখা গিয়েছিল, যার খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি। সেনার অনুমান, এনকাউন্টারের সুযোগ নিয়ে গভীর জঙ্গলের অন্য কোনও আস্তানায় লুকিয়ে রয়েছে সেই দ্বিতীয় জঙ্গি। তাকে জীবিত অথবা মৃত ধরার জন্য শোপিয়ানের মীমানদার এলাকার জঙ্গল ও সংলগ্ন পাহাড়ি অঞ্চল সম্পূর্ণ সিল করে দেওয়া হয়েছে। চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে ড্রোনের সাহায্যেও চলছে চিরুনি তল্লাশি। কাশ্মীরকে জঙ্গিমুক্ত করতে সেনাবাহিনীর এই হাই-অ্যালার্ট অপারেশন এখনও পুরোদমে জারি রয়েছে।

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন