Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

লাইসেন্স ছাড়াই চলছিল চিকিৎসা! সেবাশ্রয় কাণ্ডে এবার অভিষেকের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় এফআইআর, নাম জড়াল জাহাঙ্গির খানেরও

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬
লাইসেন্স ছাড়াই চলছিল চিকিৎসা! সেবাশ্রয় কাণ্ডে এবার অভিষেকের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় এফআইআর, নাম জড়াল জাহাঙ্গির খানেরও
ফাইল ছবি

বিষ্ণুপুর: ডায়মন্ড হারবারের বহুল চর্চিত ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবিরকে ঘিরে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক যেন কিছুতেই থামছে না। এবার এই কাণ্ডে আরও গভীর আইনি জাঁতাকলে জড়ালেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ডায়মন্ড হারবার থানার পর এবার বিষ্ণুপুর থানাতেও তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হলো একটি নতুন এফআইআর (FIR)। 


বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববির করা এই নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক অ-জামিনযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। এই এফআইআর-এ শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, তাঁর পাশাপাশি নাম জড়িয়েছে তাঁর আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায় এবং ফলতার দাপুটে নেতা জাহাঙ্গির খান সহ একাধিক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর। পরপর দুটি থানায় এফআইআর দায়ের হওয়ায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের রাজনৈতিক অস্বস্তি যে চরম সীমায় পৌঁছাল, তা বলাই বাহুল্য।


পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুর থানায় হওয়া এই নতুন এফআইআর-এর পরিধি অত্যন্ত গুরুতর এবং সংবেদনশীল। এখানে ওষুধ ও প্রসাধনী আইন (Drugs and Cosmetics Act), জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন (NMC) আইন এবং খোদ পারমাণবিক শক্তি আইনের (Atomic Energy Act) একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও এই তালিকায় নাম রয়েছে অয়ন ঘোষ দস্তিদার, শামিম আহমেদ, গৌতম অধিকারী, মেহবাবুর গায়েন, নবকুমার বেতাল, দিলীপ মণ্ডল এবং বাবন গাজির। 


অভিযোগ, কোনো সরকারি অনুমোদন বা লাইসেন্স ছাড়াই গভীর অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এই স্বাস্থ্য শিবিরগুলি চালানো হচ্ছিল। সেখানে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া এক্স-রে বা নানাবিধ রোগনির্ণয়ের পারমাণবিক যন্ত্রপাতি ও ওষুধ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের জীবন ও জনস্বাস্থ্যকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এমনকি এই শিবিরের সাথে যুক্ত চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান ও নার্সদের বিরুদ্ধেও জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে।


রাম মন্দির কাণ্ডে কড়া ব্যবস্থা চাইলেন দিলীপ ঘোষ


স্বাস্থ্য দপ্তরের একাংশ ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন যে, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা ছাড়াই কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে বুক ফুলিয়ে এই মেগা পরিকাঠামো পরিচালিত হচ্ছিল? এই পরিস্থিতিতে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে এবং নবান্ন থেকেও এই বিষয়ে এক বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। 


উল্লেখ্য, রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের মানুষের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আধুনিক চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরের সূচনা করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভিনরাজ্য থেকেও মানুষ এখানে আসতেন এবং এই মডেল রাজ্যজুড়ে চালুর পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের চরম ভরাডুবির পর রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটতেই পাশা সম্পূর্ণ উলটে গিয়েছে। আর তার জেরেই এবার একের পর এক আইনি খাঁড়া নেমে আসছে খোদ ডায়মন্ড হারবারের বিদায়ী সাংসদের ওপর।

বিষয় : Abhisheik Banerjee WestBengalPolitics DIAMONDHARBOURMODEL sebashrayscam

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬


লাইসেন্স ছাড়াই চলছিল চিকিৎসা! সেবাশ্রয় কাণ্ডে এবার অভিষেকের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় এফআইআর, নাম জড়াল জাহাঙ্গির খানেরও

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬

featured Image
বিষ্ণুপুর: ডায়মন্ড হারবারের বহুল চর্চিত ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবিরকে ঘিরে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক যেন কিছুতেই থামছে না। এবার এই কাণ্ডে আরও গভীর আইনি জাঁতাকলে জড়ালেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ডায়মন্ড হারবার থানার পর এবার বিষ্ণুপুর থানাতেও তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হলো একটি নতুন এফআইআর (FIR)। বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববির করা এই নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক অ-জামিনযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। এই এফআইআর-এ শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, তাঁর পাশাপাশি নাম জড়িয়েছে তাঁর আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায় এবং ফলতার দাপুটে নেতা জাহাঙ্গির খান সহ একাধিক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর। পরপর দুটি থানায় এফআইআর দায়ের হওয়ায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের রাজনৈতিক অস্বস্তি যে চরম সীমায় পৌঁছাল, তা বলাই বাহুল্য।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুর থানায় হওয়া এই নতুন এফআইআর-এর পরিধি অত্যন্ত গুরুতর এবং সংবেদনশীল। এখানে ওষুধ ও প্রসাধনী আইন (Drugs and Cosmetics Act), জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন (NMC) আইন এবং খোদ পারমাণবিক শক্তি আইনের (Atomic Energy Act) একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও এই তালিকায় নাম রয়েছে অয়ন ঘোষ দস্তিদার, শামিম আহমেদ, গৌতম অধিকারী, মেহবাবুর গায়েন, নবকুমার বেতাল, দিলীপ মণ্ডল এবং বাবন গাজির। অভিযোগ, কোনো সরকারি অনুমোদন বা লাইসেন্স ছাড়াই গভীর অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এই স্বাস্থ্য শিবিরগুলি চালানো হচ্ছিল। সেখানে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া এক্স-রে বা নানাবিধ রোগনির্ণয়ের পারমাণবিক যন্ত্রপাতি ও ওষুধ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের জীবন ও জনস্বাস্থ্যকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এমনকি এই শিবিরের সাথে যুক্ত চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান ও নার্সদের বিরুদ্ধেও জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে।রাম মন্দির কাণ্ডে কড়া ব্যবস্থা চাইলেন দিলীপ ঘোষস্বাস্থ্য দপ্তরের একাংশ ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন যে, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা ছাড়াই কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে বুক ফুলিয়ে এই মেগা পরিকাঠামো পরিচালিত হচ্ছিল? এই পরিস্থিতিতে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে এবং নবান্ন থেকেও এই বিষয়ে এক বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। উল্লেখ্য, রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের মানুষের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আধুনিক চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরের সূচনা করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভিনরাজ্য থেকেও মানুষ এখানে আসতেন এবং এই মডেল রাজ্যজুড়ে চালুর পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের চরম ভরাডুবির পর রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটতেই পাশা সম্পূর্ণ উলটে গিয়েছে। আর তার জেরেই এবার একের পর এক আইনি খাঁড়া নেমে আসছে খোদ ডায়মন্ড হারবারের বিদায়ী সাংসদের ওপর।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার