কলকাতা: সারা দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক আর গাড়িচালকদের ক্ষোভের মাঝেই এবার তিলোত্তমার বুকেও জাঁকিয়ে বসতে চলেছে ইথানল মিশ্রিত পেট্রল বা 'ই-২০' (E-20) জ্বালানি। কেন্দ্রের এই বিশেষ জ্বালানি নীতি নিয়ে ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। বহু গ্রাহকেরই অভিযোগ, ইথানল মেশানো পেট্রল ব্যবহারের ফলে গাড়ির মাইলেজ হু হু করে কমে যাচ্ছে এবং ইঞ্জিনের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।
এমনকি পুরনো গাড়ি স্ক্র্যাপ করে নতুন গাড়ি কিনতেও বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। কিন্তু এই সমস্ত সমালোচনা ও বিতর্কের তোয়াক্কা না করেই এবার খোদ কলকাতায় পেট্রোলিয়ামের ওপর নির্ভরতা কমাতে পেট্রল ও ইথানলের মিশ্রিত উপাদানের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়াতে চলেছে ইন্ডিয়ান অয়েল। কলকাতা প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক বৈঠকে ইন্ডিয়ান অয়েলের সেক্রেটারি কুশল বাজোরিয়া স্পষ্ট জানিয়েছেন, ল্যান্সডাউন, প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড, রাজারহাট, কসবা এবং রবীন্দ্র সদনের পেট্রল পাম্পগুলিতে খুব দ্রুত এই বিশেষ জ্বালানি পরিষেবা পুরোদমে চালু হয়ে যাবে।
দেশের জ্বালানি সংকট মেটাতে এবং বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয় করতে বহুদিন ধরেই ইথানল ব্লেন্ডিং বা মিশ্রণে জোর দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। লক্ষ্য একটাই, আগামী দিনে ভিনদেশ থেকে আমদানি করা খনিজ তেলের ওপর নির্ভরতা সম্পূর্ণ কমিয়ে স্রেফ ইথানলের ভরসাতেই গাড়ি চালানো। বিখ্যাত উদ্যোগপতি দিলীপ মেহরা এই বিষয়ে এক চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান দিয়ে জানিয়েছেন যে, ২০২৩ সালে কলকাতায় মাত্র ৩০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল এসেছিল, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৪০ শতাংশে। আর এবার, সমস্ত রেকর্ড ভেঙে সরাসরি ৯৫ শতাংশ করার মেগা উদ্যোগ নিচ্ছে ইন্ডিয়ান অয়েল। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের দাবি, পরিবেশ দূষণ কমানোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে ভারতের তেল সুরক্ষাকে নিশ্চিত করতে ইথানল ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে কী বললেন দিলীপ ঘোষ?
গাড়ির ইঞ্জিন নষ্ট হওয়া বা পারফরম্যান্স কমে যাওয়ার যে ভীতি গ্রাহকদের মনে তৈরি হয়েছে, তাকে অবশ্য হেসেই উড়িয়ে দিচ্ছেন ইন্ডিয়ান অয়েল কর্তারা। তাঁদের দাবি, বর্তমান বাজারে চলা সমস্ত আধুনিক গাড়িই ই-২০ জ্বালানি ব্যবহারের উপযোগী করেই তৈরি করা হয়েছে, তাই আগামী দিনে ইথানলের কারণে গাড়ির কোনো ক্ষতি হবে না। তেল প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি যুক্তি দিচ্ছে যে, বিশ্বের দরবারে ব্রাজিল, চিন কিংবা আমেরিকার মতো উন্নত দেশগুলিতে ইথানল ব্যবহার বহু আগেই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্রাজিলে যেখানে ৮০ শতাংশ এবং আমেরিকায় ৮৫ শতাংশ ইথানল নিয়মিত গাড়িতে ভরা হয়, সেখানে ভারত তথা কলকাতাও এবার সেই একই পরিবেশবান্ধব ও স্বনির্ভর আধুনিক পথে হাঁটতে চলেছে।

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন