ফলতা: নিজেকে দক্ষিণী ছবির ডাকাবুকো চরিত্র ‘পুষ্পা’ বলে জাহির করতে ভালোবাসতেন। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। ভোটের মাঠ থেকে সোজা শ্রীঘরে ঠাঁই হয়েছে ফলতার একদা প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের। আর তিনি জেলে যেতেই একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসছে পুলিশের হাতে। এবার জাহাঙ্গির এবং তাঁর স্ত্রী রেজিনা ওরফে সারিকা বিবির নামে থাকা বিপুল সম্পত্তির হদিস পেল পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, তল্লাশিতে এই দম্পতির অন্তত ৬০টি সম্পত্তির দলিল উদ্ধার হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে একাধিক জমি, ফ্ল্যাট ও বাড়ি।
জেলে যেতেই ‘পুষ্পা’র ঝুলি থেকে বেরোল ৬০টি সম্পত্তির দলিল!
২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে ফলতা কেন্দ্র থেকে জাহাঙ্গিরকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসেবেই রাজনৈতিক মহলে পরিচিত ছিলেন তিনি। কিন্তু ভোটের দিন বেনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন যখন পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়, তার ঠিক দু’দিন আগেই নাটকীয়ভাবে লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান জাহাঙ্গির।
এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও ভয় দেখানোর মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠতে শুরু করে। বেগতিক বুঝে গা-ঢাকা দিলেও শেষমেশ নেপাল সীমান্ত থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। অন্যদিকে, স্বামীকে লকআপ থেকে ছাড়াতে থানায় গিয়ে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার হন তাঁর স্ত্রী সারিকা বিবিও। বর্তমানে স্বামী জেল হেফাজতে এবং স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে দিন কাটাচ্ছেন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে জাহাঙ্গিরের উল্কার গতিতে উত্থান ঘটেছিল ২০১৩ সালে, তৃণমূল প্রথমবার ক্ষমতায় আসার ঠিক বছর দুয়েক পর। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ফলতার বেলসিংহা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন তিনি। এরপর ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং ২০২৩ সালের পর জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলান। বিজেপি নেতা বিধান পাড়ুইয়ের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রতিপত্তি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে জাহাঙ্গিরের সম্পত্তির পরিমাণ। খুব সীমিত সময়ের মধ্যে এই বিপুল পরিমাণ টাকার পাহাড় কীভাবে তৈরি হলো, তা নিয়ে ইডি এবং ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগও জমা পড়েছে।
পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল এখন খতিয়ে দেখছে, এই ৬০টি সম্পত্তি আদৌ কেনা হয়েছিল নাকি ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের থেকে লিখিয়ে নেওয়া হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া দলিলগুলির ভিত্তিতে স্থাবর সম্পত্তিগুলির বর্তমান বাজারমূল্য, অবস্থান এবং নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে।
তদন্তকারী আধিকারিকদের মূল লক্ষ্য, এই সম্পত্তিগুলির আগের মালিক কারা ছিলেন তা খুঁজে বের করা। যদি জাহাঙ্গির এই জমি বা ফ্ল্যাট কিনে থাকেন, তবে কত টাকায় কিনেছেন এবং সেই বিপুল অঙ্কের অর্থের উৎস কী ছিল— তা জানার চেষ্টা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া এই নথিপত্রগুলি জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে চলা মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। এই দলিলের সূত্র ধরেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ আরও জোরালো করা হবে।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন