কলকাতা: রাজ্যের বিরোধী দলনেতা পদকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াই এবার এক চরম নাটকীয় মোড় নিল। কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে বড়সড় ধাক্কা খাওয়ার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এবার সরাসরি ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিতে রাজি হয়নি একক বেঞ্চ। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই শুক্রবার বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চে তড়িঘড়ি নতুন মামলা দায়ের করেছেন শোভনদেব। আগামী সপ্তাহেই এই হাইভোল্টেজ মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। বিধানসভার অধিবেশন শুরুর আগেই বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী দলনেতা পদে বসার ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা চাপাতে মরিয়া ঘাসফুল শিবির।
আসলে এই গোটা বিতর্কের সূত্রপাত তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি চালকে কেন্দ্র করে। তিনি বিরোধী দলনেতা হিসেবে অভিজ্ঞ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু সেই প্রস্তাব ঘিরেই বিধানসভার অন্দরে তীব্র বিতর্ক দানা বাঁধে, এমনকি বিধায়কদের সই জাল করার মতো মারাত্মক অভিযোগ ওঠে অভিষেকের বিরুদ্ধে। এর পরেই স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু অভিষেকের প্রস্তাবকে কার্যত খারিজ করে দিয়ে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহার প্রস্তাব মেনে নেন। সন্দীপনের প্রস্তাবে সায় দিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেন স্পিকার। এই সিদ্ধান্তের পিছনে অকাট্য যুক্তি দিয়ে স্পিকার জানান, সন্দীপন ও ঋতব্রতের পক্ষে ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়কের স্পষ্ট সমর্থন রয়েছে, যার মধ্যে ৫৬ জন বিদ্রোহী বিধায়ক সশরীরে স্পিকারের ঘরে গিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে এসেছেন। ফলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের মতামতকেই প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, এখনই স্পিকারের সিদ্ধান্তে কোনও হস্তক্ষেপ করা হবে না এবং আপাতত ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা থাকবেন। আগামী ২৮ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি এবং তার আগে সমস্ত পক্ষকে হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রায়ে সুরাহা না পেয়েই ডিভিশন বেঞ্চে ছুটেছে তৃণমূল। শোভনদেবের প্রধান আইনি যুক্তি হলো, সংসদের নিয়ম অনুযায়ী বিরোধী দলনেতা কে হবেন তা ঠিক করার একচ্ছত্র অধিকার একমাত্র মূল রাজনৈতিক দলের। কোনও পরিষদীয় দল বা দলছুট বিক্ষুব্ধ বিধায়করা নিজেদের ইচ্ছামতো নেতা বেছে নিতে পারেন না। অন্যদিকে স্পিকারের পাল্টা দাবি, বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে সংবিধানে নির্দিষ্ট কোনও কড়া আইন নেই। সাধারণত রীতি মেনে প্রধান বিরোধী দলের প্রস্তাবই গ্রাহ্য হয়, কিন্তু এখানে দলটির মধ্যেই আড়াআড়ি বিভাজন তৈরি হয়েছে। এই অভূতপূর্ব গোলমালের আবহে রাজনৈতিক দলের সিলমোহর নয়, বরং সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের গণতান্ত্রিক ইচ্ছাই শেষ কথা। এখন ডিভিশন বেঞ্চের রায়ে ঋতব্রতের কপাল পোড়ে নাকি শোভনদেবের অস্বস্তি আরও বাড়ে, সেটাই দেখার।

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন