Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

সরকারি গাড়ি ছেড়ে কেন সাইকেল ভ্যানে চেপে অফিসে বিডিও! কী হয়েছে ফারাক্কায় ?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সরকারি গাড়ি ছেড়ে কেন সাইকেল ভ্যানে চেপে অফিসে বিডিও! কী হয়েছে ফারাক্কায় ?
হাঁটুজল থেকে বাঁচতে ফরাক্কায় বিডিও। নিজস্ব ছবি

ফারাক্কা: সামান্য বৃষ্টিতেই যেখানে সাধারণ মানুষের যাতায়াত থমকে দাঁড়ায়, সেখানে এবার স্তব্ধ হওয়ার জোগাড় খোদ প্রশাসনিক কাজ !

নিকাশি ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারা ঢাকতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রকৃতির জলের কাছে হার মানতে হলো প্রশাসনকে। ফারাক্কায় জলমগ্ন বিডিও অফিস চত্বরে তৈরি হলো এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন দৃশ্য। অফিসের সামনে কোমরসমান জল জমে যাওয়ায় নিজের সরকারি গাড়ি ফেলে শেষমেশ ভ্যানে চেপে বিডিও অফিসে প্রবেশ করতে হলো খোদ ফারাক্কার ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) সুজয় ব্যাপারীকে।

বুধবার সকালে প্রতিদিনের মতোই নির্দিষ্ট সময়ে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন বিডিও সুজয় ব্যাপারী। কিন্তু ফারাক্কা বিডিও অফিস চত্বরে পৌঁছাতেই তাঁর চোখ কপালে ওঠে। অফিস চত্বর এবং সংলগ্ন মূল রাস্তা তখন কার্যত অথৈ জলে ভাসছে। কোথাও কোথাও জলের গভীরতা এতই বেশি যে সাধারণ মানুষের হেঁটে চলা তো দূরের কথা, কোনো যানবাহন চলাচলের উপায় ছিল না। বিডিওর সরকারি গাড়িটি জল ঠেলে কিছুটা এগোলেও জমা জলের গভীরতা দেখে চালক গাড়ি থামিয়ে দিতে বাধ্য হন।

অগত্যা কোনও উপায় না দেখে প্রশাসনের সর্বোচ্চ আধিকারিক নামেন গাড়ি থেকে। হাঁটু ছাড়িয়ে কোমর ছুঁইছুঁই জল পেরোতে তিনি আশ্রয় নেন একটি যাত্রীবাহী ভ্যানের। সেই ভ্যানে চেপে জমা জল ঠেলে বিডিও অফিসে পৌঁছান তিনি। যে মুহূর্তে শাসক কিংবা প্রশাসনের আধিকারিকদের এসি গাড়িতে চড়ে যাতায়াতে অভ্যস্ত দেখতে পছন্দ করে সমাজ, সেখানে বিডিওর এই ‘ভ্যানযাত্রা’ নিমেষেই ফারাক্কাবাসীর নজর কেড়ে নেয়। এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামনে আসতেই ফারাক্কার জলযন্ত্রণা ও চরম নিকাশি সংকটের বাস্তব চিত্রটি সোচ্চার হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় অধিবাসীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ফারাক্কায় জমা জলের সমস্যা নতুন কিছু নয়। একটু পশলা বৃষ্টি হলেই বিডিও অফিসের সামনের রাস্তা ও আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা স্রেফ পুকুরের আকার নেয়। দীর্ঘ সময় ধরে সেই জল আটকে থাকে। প্রতিদিন স্কুলপড়ুয়া, নিত্যযাত্রী এবং ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। সরকারি কাজে ফারাক্কা বিডিও অফিসে আসা শত শত মানুষকে প্যান্ট গুটিয়ে, জুতো হাতে নিয়ে কোমরজল পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।

বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘ বছর ধরে ফারাক্কা ব্লকে কোনো স্থায়ী নিকাশি পরিকল্পনাই নেওয়া হয়নি। ড্রেনেজ সিস্টেম পর্যাপ্ত না থাকায় বৃষ্টির জল বের হওয়ার কোনো সঠিক পথ নেই। ফলস্বরূপ, জল আটকে তৈরি হয় কৃত্রিম বন্যা। তবে খোদ বিডিও সুজয় ব্যাপারীকে যেভাবে ভ্যানে চেপে অফিসে ঢুকতে হয়েছে, তা দেখে স্থানীয়রা খোঁচা দিয়ে বলছেন—"হাঁটুজলে বিডিও নামতেই কি তবে প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে?"

ঘটনা প্রসঙ্গে প্রশাসনিক মহলের তরফ থেকে অবশ্য সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, ফারাক্কায় গঙ্গার ওপর নতুন সেতু নির্মাণ হওয়ার পর থেকে মূল রাস্তার তুলনায় বিডিও অফিসের সামনের অংশটি অনেকটাই নিচু হয়ে পড়ে রয়েছে। ভৌগোলিক গঠনের এই পরিবর্তনের কারণেই জলপ্রবাহের স্বাভাবিক গতি থমকে যায় এবং জল জমতে শুরু করে। তবে কারণ যাই হোক না কেন, বিডিওর এই ভ্যান চড়ে অফিসে প্রবেশের ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে—জলযন্ত্রণা থেকে রেহাই পান না সাধারণ মানুষ কিংবা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তা, কেউই!

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : HiddenStoriesNews #FarakkaBDO #MurshidabadNews #BDOOnVan #WaterloggingCrisis #ViralBengal FarakkaBDO SujoyBepari

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সরকারি গাড়ি ছেড়ে কেন সাইকেল ভ্যানে চেপে অফিসে বিডিও! কী হয়েছে ফারাক্কায় ?

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
ফারাক্কা: সামান্য বৃষ্টিতেই যেখানে সাধারণ মানুষের যাতায়াত থমকে দাঁড়ায়, সেখানে এবার স্তব্ধ হওয়ার জোগাড় খোদ প্রশাসনিক কাজ ! নিকাশি ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারা ঢাকতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রকৃতির জলের কাছে হার মানতে হলো প্রশাসনকে। ফারাক্কায় জলমগ্ন বিডিও অফিস চত্বরে তৈরি হলো এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন দৃশ্য। অফিসের সামনে কোমরসমান জল জমে যাওয়ায় নিজের সরকারি গাড়ি ফেলে শেষমেশ ভ্যানে চেপে বিডিও অফিসে প্রবেশ করতে হলো খোদ ফারাক্কার ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) সুজয় ব্যাপারীকে।বুধবার সকালে প্রতিদিনের মতোই নির্দিষ্ট সময়ে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন বিডিও সুজয় ব্যাপারী। কিন্তু ফারাক্কা বিডিও অফিস চত্বরে পৌঁছাতেই তাঁর চোখ কপালে ওঠে। অফিস চত্বর এবং সংলগ্ন মূল রাস্তা তখন কার্যত অথৈ জলে ভাসছে। কোথাও কোথাও জলের গভীরতা এতই বেশি যে সাধারণ মানুষের হেঁটে চলা তো দূরের কথা, কোনো যানবাহন চলাচলের উপায় ছিল না। বিডিওর সরকারি গাড়িটি জল ঠেলে কিছুটা এগোলেও জমা জলের গভীরতা দেখে চালক গাড়ি থামিয়ে দিতে বাধ্য হন।অগত্যা কোনও উপায় না দেখে প্রশাসনের সর্বোচ্চ আধিকারিক নামেন গাড়ি থেকে। হাঁটু ছাড়িয়ে কোমর ছুঁইছুঁই জল পেরোতে তিনি আশ্রয় নেন একটি যাত্রীবাহী ভ্যানের। সেই ভ্যানে চেপে জমা জল ঠেলে বিডিও অফিসে পৌঁছান তিনি। যে মুহূর্তে শাসক কিংবা প্রশাসনের আধিকারিকদের এসি গাড়িতে চড়ে যাতায়াতে অভ্যস্ত দেখতে পছন্দ করে সমাজ, সেখানে বিডিওর এই ‘ভ্যানযাত্রা’ নিমেষেই ফারাক্কাবাসীর নজর কেড়ে নেয়। এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামনে আসতেই ফারাক্কার জলযন্ত্রণা ও চরম নিকাশি সংকটের বাস্তব চিত্রটি সোচ্চার হয়ে উঠেছে।স্থানীয় অধিবাসীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ফারাক্কায় জমা জলের সমস্যা নতুন কিছু নয়। একটু পশলা বৃষ্টি হলেই বিডিও অফিসের সামনের রাস্তা ও আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা স্রেফ পুকুরের আকার নেয়। দীর্ঘ সময় ধরে সেই জল আটকে থাকে। প্রতিদিন স্কুলপড়ুয়া, নিত্যযাত্রী এবং ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। সরকারি কাজে ফারাক্কা বিডিও অফিসে আসা শত শত মানুষকে প্যান্ট গুটিয়ে, জুতো হাতে নিয়ে কোমরজল পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘ বছর ধরে ফারাক্কা ব্লকে কোনো স্থায়ী নিকাশি পরিকল্পনাই নেওয়া হয়নি। ড্রেনেজ সিস্টেম পর্যাপ্ত না থাকায় বৃষ্টির জল বের হওয়ার কোনো সঠিক পথ নেই। ফলস্বরূপ, জল আটকে তৈরি হয় কৃত্রিম বন্যা। তবে খোদ বিডিও সুজয় ব্যাপারীকে যেভাবে ভ্যানে চেপে অফিসে ঢুকতে হয়েছে, তা দেখে স্থানীয়রা খোঁচা দিয়ে বলছেন—"হাঁটুজলে বিডিও নামতেই কি তবে প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে?"ঘটনা প্রসঙ্গে প্রশাসনিক মহলের তরফ থেকে অবশ্য সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, ফারাক্কায় গঙ্গার ওপর নতুন সেতু নির্মাণ হওয়ার পর থেকে মূল রাস্তার তুলনায় বিডিও অফিসের সামনের অংশটি অনেকটাই নিচু হয়ে পড়ে রয়েছে। ভৌগোলিক গঠনের এই পরিবর্তনের কারণেই জলপ্রবাহের স্বাভাবিক গতি থমকে যায় এবং জল জমতে শুরু করে। তবে কারণ যাই হোক না কেন, বিডিওর এই ভ্যান চড়ে অফিসে প্রবেশের ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে—জলযন্ত্রণা থেকে রেহাই পান না সাধারণ মানুষ কিংবা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তা, কেউই!হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত