Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

নেপাল থেকে ভেসে যাচ্ছে বিষাক্ত মাছ! বিহার সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় সতর্কতা মাছে, জারি কড়া নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নেপাল থেকে ভেসে যাচ্ছে বিষাক্ত মাছ! বিহার সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় সতর্কতা মাছে, জারি কড়া নির্দেশ
সীমান্ত পেরিয়ে বিষাক্ত মাছ বাজারে

পাটনা: নেপালের বিধ্বংসী হড়পা বানের ভয়াবহ অভিঘাত এবার আছড়ে পড়ল সীমান্ত পেরিয়ে ভারতেও। পাহাড়ি দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রাণহানির সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ার পাশাপাশি এবার ভারতীয় ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। নেপালের ত্রিশূলী ও কালী গণ্ডকী নদী হয়ে বিহারে প্রবেশ করা গণ্ডক ও কোশী নদীর জলে ভেসে আসা মাছ ধরা, বিক্রি এবং খাওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নীতিশ কুমারের সরকার। ইতিমধ্যেই সেই মাছ খেয়ে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর মেলায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।

বিহারের প্রাণী ও মৎস্য সম্পদ দফতরের তরফে জারি করা কড়া নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, পাহাড়ি ঢল ও হড়পা বানের তোড়ে ভেসে আসা মাছগুলি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ড্রেনের জল, বর্জ্য ও পচনশীল মৃতদেহের সংস্পর্শে এসেছে। ফলে তাদের শরীরে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিষাক্ত সংক্রমণ বাসা বেঁধেছে। এই সমস্ত মাছ খেলে মানবদেহে ভয়াবহ বিষক্রিয়া তৈরি হতে পারে। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে কোনোভাবেই নদীর ভেসে আসা বা অচেনা প্রজাতির মাছ স্পর্শ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথাও এমন সন্দেহজনক মাছ চোখে পড়লে অবিলম্বে স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতে বলা হয়েছে এবং কেউ তা খেয়ে অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বন্যার তোড়ে গণ্ডক ও কোশী নদীতে পলি, আবর্জনা ও মৃত মাছের স্রোত ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, বন্যার এই দূষিত জল অগভীর নলকূপ এবং কুয়োয় মিশে ডায়েরিয়া, কলেরা ও টাইফয়েডের মতো জলবাহিত মহামারী ডেকে আনতে পারে। জমা জল থেকে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার আশঙ্কাও বহু গুণ বেড়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই পূর্ব ও পশ্চিম চম্পারণ, সীতামঢ়ী, কিষাণগঞ্জ এবং পূর্ণিয়া-সহ সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছে। এমনকি নেপাল লাগোয়া বিহারের সাতটি জেলার জলে উচ্চমাত্রার ক্ষতিকর আয়রনের উপস্থিতিও ধরা পড়েছে। অন্যদিকে, ওপারে নেপালে ২৬ অগস্টের সেই ভয়াবহ হড়পা বানের পর থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,১২৭-এ। নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও নিখোঁজ প্রায় ৪,৮৫৮ জন মানুষ। উদ্ধারকাজ চললেও পাহাড়ের এই ধ্বংসলীলা এখন গোটা সীমান্ত জুড়েই এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি করেছে।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : HiddenStoriesNews NepalFloods GandakRiver BiharAlert KosiRiver HealthWarning DisasterRelief BiharNews

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নেপাল থেকে ভেসে যাচ্ছে বিষাক্ত মাছ! বিহার সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় সতর্কতা মাছে, জারি কড়া নির্দেশ

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
পাটনা: নেপালের বিধ্বংসী হড়পা বানের ভয়াবহ অভিঘাত এবার আছড়ে পড়ল সীমান্ত পেরিয়ে ভারতেও। পাহাড়ি দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রাণহানির সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ার পাশাপাশি এবার ভারতীয় ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। নেপালের ত্রিশূলী ও কালী গণ্ডকী নদী হয়ে বিহারে প্রবেশ করা গণ্ডক ও কোশী নদীর জলে ভেসে আসা মাছ ধরা, বিক্রি এবং খাওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নীতিশ কুমারের সরকার। ইতিমধ্যেই সেই মাছ খেয়ে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর মেলায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।বিহারের প্রাণী ও মৎস্য সম্পদ দফতরের তরফে জারি করা কড়া নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, পাহাড়ি ঢল ও হড়পা বানের তোড়ে ভেসে আসা মাছগুলি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ড্রেনের জল, বর্জ্য ও পচনশীল মৃতদেহের সংস্পর্শে এসেছে। ফলে তাদের শরীরে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিষাক্ত সংক্রমণ বাসা বেঁধেছে। এই সমস্ত মাছ খেলে মানবদেহে ভয়াবহ বিষক্রিয়া তৈরি হতে পারে। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে কোনোভাবেই নদীর ভেসে আসা বা অচেনা প্রজাতির মাছ স্পর্শ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথাও এমন সন্দেহজনক মাছ চোখে পড়লে অবিলম্বে স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতে বলা হয়েছে এবং কেউ তা খেয়ে অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।এদিকে বন্যার তোড়ে গণ্ডক ও কোশী নদীতে পলি, আবর্জনা ও মৃত মাছের স্রোত ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, বন্যার এই দূষিত জল অগভীর নলকূপ এবং কুয়োয় মিশে ডায়েরিয়া, কলেরা ও টাইফয়েডের মতো জলবাহিত মহামারী ডেকে আনতে পারে। জমা জল থেকে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার আশঙ্কাও বহু গুণ বেড়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই পূর্ব ও পশ্চিম চম্পারণ, সীতামঢ়ী, কিষাণগঞ্জ এবং পূর্ণিয়া-সহ সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছে। এমনকি নেপাল লাগোয়া বিহারের সাতটি জেলার জলে উচ্চমাত্রার ক্ষতিকর আয়রনের উপস্থিতিও ধরা পড়েছে। অন্যদিকে, ওপারে নেপালে ২৬ অগস্টের সেই ভয়াবহ হড়পা বানের পর থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,১২৭-এ। নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও নিখোঁজ প্রায় ৪,৮৫৮ জন মানুষ। উদ্ধারকাজ চললেও পাহাড়ের এই ধ্বংসলীলা এখন গোটা সীমান্ত জুড়েই এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি করেছে।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত