স্বামীর মোবাইলে অন্য এক তরুণীর সঙ্গে ভিডিয়ো কল। তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই শুরু হয় অশান্তি। অভিযোগ, সেই ঝামেলার পরই স্ত্রীকে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন স্বামী। কয়েক দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শনিবার মালদহ মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে মৃত্যু হল ২০ বছরের চুন্নির খাতুনের।
ঘটনাটি মালদহের মানিকচকের নুরপুর পঞ্চায়েত এলাকার। চুন্নির বাপের বাড়ি বিহারের কাটিহারে। প্রায় এক বছর আগে সম্বন্ধ করে সামিউলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই দাম্পত্যে অশান্তি শুরু হয়েছিল। স্থানীয় এক তরুণীর সঙ্গে সামিউলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানতে পারেন চুন্নি। তা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝামেলা হত। স্ত্রীকে মারধর করার অভিযোগও রয়েছে সামিউলের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন বাড়িতে বসে ওই তরুণীর সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা বলছিলেন সামিউল। চুন্নি তা দেখে ফেললে দু’জনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে স্বামীর মোবাইল আছাড় মেরে ভেঙে দেন তিনি। অভিযোগ, এরপরই সামিউল একটি বাঁশের খুঁটির সঙ্গে চুন্নির হাত-পা বেঁধে তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন।
চুন্নির চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। শরীরের অধিকাংশ অংশ পুড়ে যাওয়া অবস্থায় তাঁকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার মৃত্যু হয় তাঁর। মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সামিউলকে গ্রেফতার করেছে মানিকচক থানার পুলিশ। স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ নিয়ে সামিউল কোনও উত্তর দেননি। একই ঘটনায় সামিউলের ভাই আনেস শেখ, বোন চামেলি বিবি এবং মা দিলনুর বিবির বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা সকলেই পলাতক।

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন