মুম্বই: হোটেল, রেস্তরাঁ কিংবা সাধারণের রান্নাঘরে স্বাদের সেরা পনিরই কি এবার বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল? ছত্তিশগড়ের পর এবার মহারাষ্ট্রে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দেওয়া হলো উদ্ভিজ্জ চর্বি সমৃদ্ধ কৃত্রিম বা 'অ্যানালগ' পনিরের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিক্রি! জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতির কথা মাথায় রেখে আগামী এক বছরের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন রাজ্যের খাদ্য দপ্তরের কমিশনার তুকারাম মুন্ডে। সরকারি নির্দেশ না মেনে এই ভেজাল পনির তৈরি বা বিক্রি করলে হতে পারে সোজা ৬ মাসের জেল এবং ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মোটা অঙ্কের জরিমানা।
নিরামিষাশীদের প্রোটিনের অন্যতম প্রধান উৎস এবং সর্বজনপ্রিয় এই দুগ্ধজাত খাদ্যের নামে বাজার ছেয়ে গিয়েছিল নকল পনিরে। একের পর এক অভিযোগ আসায় ল্যাব পরীক্ষায় পাঠানো হয় পনিরের নমুনা। ফলাফল আসতেই চক্ষু চড়কগাছ বিশেষজ্ঞদের! দেখা যায়, বাজারে বিকোনো পনিরের এক বিশাল অংশে রয়েছে ৩৫ শতাংশেরও বেশি ক্ষতিকারক উদ্ভিজ্জ চর্বি, যা কোনোভাবেই পুষ্টির মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয় না। এর পাশাপাশি তদন্তে উঠে এসেছে গ্রাহক ঠকানোর ভয়াবহ ছবি—অঙ্ক বাড়াতে নামীদামী হোটেল, রেস্তরাঁ এবং ক্লাউড কিচেনগুলি মেনু কার্ডে আসল পনিরের কথা বলে অলক্ষ্যে পরিবেশন করছিল এই সস্তার কৃত্রিম বিকল্প।
নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, হোটেল থেকে ক্যাটারার—কোথাও এই কৃত্রিম পনির তৈরি বা পরিবেশন করা যাবে না। পাশাপাশি এখন থেকে আসল পনিরের ক্ষেত্রে FSSAI-এর লেবেলিং নির্দেশিকা মেনে প্যাকেটের গায়ে দুধের চর্বির সঠিক পরিমাণ উল্লেখ রাখা বাধ্যতামূলক। অল ইন্ডিয়া ফুড অ্যান্ড ড্রাগ লাইসেন্স হোল্ডার ফাউন্ডেশন সরকারের এই বলিষ্ঠ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। ভেজাল কারবারিদের রদ করতে এবং আমজনতার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মহারাষ্ট্র সরকারের এই কড়া অবস্থান এখন দেশজুড়ে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন