নয়াদিল্লি: ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাসে যোগ হলো এক সোনালী অধ্যায়। সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসে প্রথম মহিলা নন-মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে টু-স্টার র্যাঙ্ক অর্থাৎ ‘এয়ার ভাইস মার্শাল’ বা তার সমমর্যাদার শীর্ষ পদে আসীন হয়ে যুগান্তকারী নজির গড়লেন শক্তি শর্মা। মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর নতুন দিল্লির এয়ার হেডকোয়ার্টার্সে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ অব দ্য এয়ার স্টাফ (এডুকেশন)’ পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ভারতীয় বায়ুসেনার পক্ষ থেকে সমাজমাধ্যমে এই অভূতপূর্ব সাফল্যের খবরটি ঘোষণা করে একে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতির এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
১৯৯৪ সালের ১৮ জুন ভারতীয় বায়ুসেনার এডুকেশন ব্রাঞ্চে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন শক্তি শর্মা। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত তাঁর বর্ণময় কর্মজীবনে তিনি ফিল্ড স্টেশন, একাধিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কমান্ড হেডকোয়ার্টার্স এবং এয়ার হেডকোয়ার্টার্সের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বলিষ্ঠ হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সামরিক শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা গবেষণাকে এগিয়ে নিতে আইআইটি কানপুর এবং পুণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আইএএফ চেয়ার অব এক্সেলেন্স’ প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে অন্যতম প্রধান মস্তিষ্ক ছিলেন তিনি। এর আগেও তিন বাহিনীর মধ্যে তিনিই প্রথম মহিলা অফিসার হিসেবে একটি সৈনিক স্কুলের পূর্ণ কমান্ড সামলেছিলেন এবং কাপুরথলা সৈনিক স্কুলের অধ্যক্ষের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছিলেন।
সামরিক ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের বাইরে এসে শীর্ষ নীতিনির্ধারক ও নেতৃত্বের পদে মহিলাদের অন্তর্ভুক্তি ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিক মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। অপারেশনাল ক্ষেত্র থেকে শুরু করে কমান্ড পজিশন—সবক্ষেত্রেই এখন ভারতীয় নারীদের বিজয়রথ অপ্রতিরোধ্য। এয়ার ভাইস মার্শাল শক্তি শর্মার এই ঐতিহাসিক পদোন্নতি শুধু বায়ুসেনার শিক্ষাব্যবস্থাকেই এক নতুন দিশা দেখাবে না, বরং আগামী দিনে দেশের কোটি কোটি তরুণীকে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছনোর সাহস জোগাবে।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন