নয়াদিল্লি: গত কয়েকদিনে চিনির দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে ইতিমধ্যেই চাপে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এবার বাজারে চিনির জোগান স্বাভাবিক রাখতে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। সোমবার বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের তরফে জারি করা নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিদেশ থেকে আমদানি করা চিনি সর্বোচ্চ দু’মাসের মধ্যে প্রক্রিয়াজাত করে খোলা বাজারে বিক্রি করতে হবে।
বাজারে চিনির সরবরাহ ঠিক রাখা এবং কালোবাজারি ঠেকানোই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য। এর আগে আমদানি করা চিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধন করার নির্দেশ দেওয়া হলেও, সেই কাজ শেষ করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ছিল না। পরিশোধনের পর ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বাজারে চিনি ছাড়ার নির্দেশ ছিল। এবার সেই নিয়ম আরও কড়া করা হল। এদিকে গত ১৫ দিনেই দেশে চিনির দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানা যাচ্ছে। চলতি চিনি মরশুমের শুরুতে অবশ্য উৎপাদন বাড়ার পূর্বাভাস ছিল। সেই হিসাবেই চলতি অর্থবর্ষের শুরুতে চিনির রফতানিতেও ছাড় দিয়েছিল কেন্দ্র। গত নভেম্বরে ১৫ লক্ষ টন এবং ফেব্রুয়ারিতে আরও ৫ লক্ষ টন চিনি রফতানির অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু মে মাসে উৎপাদনের পূর্বাভাস বদলে যাওয়ায় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পরবর্তী সময়ে চিনিকলগুলির উপর নিয়ন্ত্রণও আরও বাড়ানো হয়। আগস্টে মাসিক চিনির বিক্রির পরিমাণ ২২.৫ লক্ষ টনে বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্র। উৎপাদনের সঙ্গে বিক্রির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে যে আশা করা হয়েছিল, বাস্তবে তা হয়নি।
চিনির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে জড়িয়েছে ইথানল বিতর্কও। ব্যবসায়ী ও বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, পেট্রলে ইথানল মেশানোর পরিমাণ বাড়ানোর ফলে চিনি উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের উপর চাপ পড়ছে। যদিও কেন্দ্র এই যুক্তি মানতে নারাজ। তবে বিতর্কের মধ্যেই পরিস্থিতি সামাল দিতে এক দশকেরও বেশি সময় পর বিদেশ থেকে চিনি আমদানির অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্র। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ লক্ষ টন চিনি আমদানি করা যাবে এবং তার জন্য কোনও আমদানি শুল্ক দিতে হবে না।
বিষয় : Price Hike Sugar Production

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন