নয়াদিল্লি: ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহণে নজিরবিহীন অরাজকতার অভিযোগ। অভিযোগ এয়ার ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে নিরাপত্তার চরম গাফিলতির অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি যাত্রী হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে আর এক বেসরকারি বিমান সংস্থা স্পাইস জেটের বিরুদ্ধে।
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিবাসন (Immigration) ছাড়পত্র ছাড়াই তিন ইতালীয় নাগরিকের জার্মানি পাড়ি দেওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অন্যদিকে, প্রায় ২৪ ঘণ্টা উড়ান দেরি হওয়ায় দুবাইগামী যাত্রীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল দিল্লি বিমানবন্দর। এই জোড়া ঘটনায় ভারতীয় বিমান পরিবহণের নিরাপত্তা ও পরিষেবা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
নয়াদিল্লি সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মাসের ৪ সেপ্টেম্বর অমৃতসর থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে দিল্লি আসেন ইতালির তিন নাগরিক। অভিযোগ, ন্যূনতম অভিবাসন ছাড়পত্র ছাড়াই এয়ার ইন্ডিয়ার চরম পদ্ধতিগত ত্রুটির সুযোগ নিয়ে তাঁদের আন্তর্জাতিক লাউঞ্জে পৌঁছে দেওয়া হয়।
সেখান থেকে মিউনিখগামী লুফৎহানসার বিমানে চেপে বসেন ওই তিন সন্দেহভাজন যাত্রী। রাজধানীর বুকে ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে যেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মতো বিশ্বনেতারা উপস্থিত ছিলেন, সেখানে এমন মস্ত বড় নিরাপত্তা গলদ সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে এয়ার ইন্ডিয়াকে ইতিমধ্যেই কড়া শোকজ করা হয়েছে। বিমান সংস্থার সিইও তেওলদে গেব্রেমারিয়ামের কাছে ৯টি বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সদুত্তর না মিললে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার জল এতটাই গড়িয়েছে যে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন, গোয়েন্দা সংস্থা আইবি-র ডিরেক্টর, অসামরিক বিমান পরিবহণ সচিব এবং দিল্লি বিমানবন্দরের সিইও-কে নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নিছকই গাফিলতি নাকি এর নেপথ্যে কোনও গভীর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও গোয়েন্দারা।
এই জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের মাঝেই অপর এক ভারতীয় বিমান সংস্থা স্পাইস জেটের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় ক্ষোভে ফুঁসছেন দুবাইগামী যাত্রীরা। সোমবার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটের দুবাইগামী এসজি ৫১১১ (SG 5111) বিমানটি হঠাৎ বাতিল করে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় পুনর্বিন্যাস করা হয়।
একইভাবে সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার অপর একটি দুবাই উড়ান পিছিয়ে মঙ্গলবারে নেওয়া হয়। প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে টার্মিনালে আটকে থেকে চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে যাত্রীরা বিমানবন্দরেই ধরণায় বসে যান। ‘স্পাইসজেট চোর’, ‘স্পাইসজেট হায় হায়’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে টার্মিনাল। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা কর্মীদের নাভিশ্বাস ওঠে।
স্পাইসজেট কর্তৃপক্ষ ‘পরিচালনগত সমস্যা’র দোহাই দিয়ে দুঃখপ্রকাশ করলেও যাত্রীদের অভিযোগ, বিপদের সময় সংস্থাকে কোনও কর্মীকেই কাছে পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তা বিভ্রাটে বিমান সংস্থার চরম উদাসীনতা এবং সাধারণ যাত্রীদের এই ভোগান্তি, উভয় ঘটনাতেই এখন স্বরাষ্ট্র ও বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের আতশ কাঁচের নিচে দুই ভারতীয় এয়ারলাইন্স।

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন