কলকাতা: রাজ্যের রাজ্য রাজনীতিতে অতি বামপন্থী এবং তৃণমূল জট ভাঙতে এবার আরও একধাপ আক্রমণাত্মক বিজেপি শিবির। ‘দিমাগী নকশাল’দের মদতদাতা হিসেবে সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলল বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। পরিস্থিতি এমনই যে, রাজ্যে ক্রমশ বাড়তে থাকা উগ্র বামপন্থা ও দেশবিরোধী কার্যকলাপ রুখতে প্রয়োজনে ‘কার্বলিক অ্যাসিড’ প্রয়োগের হুঙ্কার ছুঁড়ে দিলেন শ্রম ও পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং।
আজ জনতার দরবারে যোগ দেওয়ার আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রীকে। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, "দিমাগি নকশালদের এখন মূল মন্ত্রণাদাতা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।"
মমতার আসন্ন দিল্লি সফর নিয়ে কটাক্ষ করে শুভেন্দু আরও জানান, দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (আইবি)-র কাছে তাঁর বিশেষ অনুরোধ, তাঁরা যেন মমতার গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখেন। শুভেন্দুর বক্তব্য, সম্প্রতি ‘আজাদি’র স্লোগান তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী, তাই দিল্লির বুকে গিয়ে তিনি কাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন বা কাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, তা জানা দেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই খুব জরুরি।
অন্যদিকে উত্তর ২৪ পরগনার কাকিনাড়ার পাণপুর মোড়ে এক দলীয় কর্মিসভায় এসে একই সুরে সুর মেলালেন শ্রম ও পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং। কুণাল ঘোষের গাড়িতে ডিম ছোড়ার ঘটনাকে নাটক বলে উড়িয়ে দিয়ে অর্জুন সিং বলেন, “এমন কোনও ডিম আছে বলে আমার জানা নেই, যা ছুড়লে গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায় বা কাউকে খুন করা যায়!”
এর পরেই বাম ও অতি বামপন্থীদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তিনি যোগ করেন, “বামপন্থীরা কোনও দিন দেশের ভাল চায়নি। যারা নিজেদের বাবা-মাকে প্রণাম করে না, তারা কার্ল মার্ক্স পড়ে লেনিন-স্টালিনকে নমস্কার করে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী নেহাতই ভদ্রলোক, তাই এই দেশবিরোধী লোকগুলোকে সহ্য করছেন। তবে এদের তাড়াতে কার্বলিক অ্যাসিড লাগবেই। দু’ঘণ্টা ব্ল্যাকআউট করে দিলে এদের আমরা এখান থেকে সম্পূর্ণ ওয়াশ-আউট করে দেব।”
অর্জুন সিংয়ের দাবি, অতি বামপন্থীরা এখন তলে তলে তৃণমূলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। কুণাল ঘোষের ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাওয়া বা হুমায়ুন কবিরের বয়ান বদল প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “হুমায়ুন কবির মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যু কামনা করে এখন পাল্টি খেয়েছে এই তো তৃণমূলের অবস্থা!”
তৃণমূলের অস্তিত্ব ও রাজনীতি নিয়ে সুর চড়িয়েছেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ও। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি গিয়ে কিস্যু অর্জন করতে পারবেন না। কারণ, নীতিহীন রাজনীতির ফলে তৃণমূল দলটা রাজ্য রাজনীতি থেকে বাস্তবে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে।
সব মিলিয়ে, শিক্ষাঙ্গন থেকে জাতীয় রাজনীতি, সর্বত্র অতি বামপন্থা ও তৃণমূলের তথাকথিত 'অশুভ আঁতাত' নিয়ে বিজেপি নেতৃত্বের একের পর এক তোপ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে দিল।

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন