কলকাতা: ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী তথা জনপ্রিয় গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের কসবার রাজডাঙার বাসভবনে মঙ্গলবার চিরুনি তল্লাশি চালিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আনুমানিক ষাট কোটি টাকার দুর্নীতি মামলায় ইডির এই হানার পর থেকে কেন্দ্রীয় সংস্থার রাডারে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনও। তবে এই মেগা তল্লাশি অভিযানের আবহেই ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ইন্দ্রনীল সেনের জমা দেওয়া নির্বাচনী হলফনামা থেকে প্রাক্তন মন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীর বিপুল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির চাঞ্চল্যকর খতিয়ান সামনে এসেছে, যা দেখে কার্যত চোখ কপালে ওঠার জোগাড় সাধারণ মানুষের।
হলফনামার নথিপত্র ঘেঁটে জানা গিয়েছে, পেশায় গায়ক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ইন্দ্রনীল সেনের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনেরও বিপুল টাকার সম্পত্তি ও আয় রয়েছে। গত কয়েক অর্থবর্ষে মধুছন্দাদেবীর বার্ষিক আয় এক লাফে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষেই পৌঁছেছিল প্রায় ৪৪ লক্ষ ২৮ হাজার টাকায়। শুধু তাই নয়, তাঁর নামে মোট ১১টি পৃথক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যার প্রতিটিতেই গচ্ছিত রয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি হুগলির সিঙ্গুরে তাঁর বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৯ লক্ষ টাকারও বেশি। এছাড়াও তাঁর নামে একটি ১৩৯৪ স্কোয়ার ফিটের আলিশান ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ২ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে স্ত্রীর মোট অস্থাবর সম্পত্তিই ১ কোটি ৫১ লক্ষ টাকার বেশি।
অন্যদিকে, প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের নিজস্ব সম্পত্তির পরিমাণও বেশ চমকপ্রদ। হলফনামা অনুযায়ী, ইন্দ্রনীলবাবুর মোট অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ২ কোটি ৩৬ লক্ষ ২৭ হাজার টাকারও বেশি। শেয়ার বাজারেই তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ২৩টি লাভজনক বিনিয়োগ, যার কোনও কোনওটিতে এককভাবে ৪৪ লক্ষ টাকার বেশি টাকা খাটানো হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে সেভিংস অ্যাকাউন্ট, এফডি এবং ৩২ গ্রাম সোনা।
তবে ইন্দ্রনীল সেনের স্থাবর সম্পত্তি অস্থাবরের অঙ্ককেও ছাপিয়ে গিয়েছে। গরিয়াহাট ও কসবা অঞ্চলের মতো কলকাতার অত্যন্ত মহার্ঘ্য এলাকায় দুটি বাণিজ্যিক ভবনের অংশ এবং দুটি পৃথক আলিশান ফ্ল্যাট রয়েছে তাঁর নামে। ১৯৯৯ ও ২০০৯ সালে কেনা এই স্থাবর সম্পত্তিসমূহের বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৪৫ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকারও বেশি। বিপুল অঙ্কের দুর্নীতি এবং কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির হিসাব মেলার পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এখন এই দম্পতির অর্থলগ্নি ও ব্যাঙ্ক ট্রেইলের দিকেই কড়া নজর রাখছে।

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন