Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

‘অভিষেক কি প্রেসক্রিপশন লিখেছিলেন?’ ভুয়ো ওষুধের মামলায় একের পর এক এফআইআরে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘অভিষেক কি প্রেসক্রিপশন লিখেছিলেন?’ ভুয়ো ওষুধের মামলায় একের পর এক এফআইআরে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট!
অভিষেকের মামলায় ফুঁসে উঠল আদালত।

কলকাতা: তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক এফআইআর ও মামলার হিড়িক নিয়ে এবার তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। মামলার শুনানিতে ক্ষোভ উগরে দিয়ে খোদ বিচারপতির স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, ‘এ বার যথেষ্ট হয়েছে। আমি ক্লান্ত!’ একই সঙ্গে আদালতের কড়া হুঁশিয়ারি, পরিস্থিতির যদি বদল না হয়, তবে ভবিষ্যতে অভিষেকের বিরুদ্ধে নতুন কোনো এফআইআর দায়ের করার আগেও আদালতের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করে ‘ব্ল্যাঙ্কেট ইনজাংশন’ জারি করা হতে পারে। তবে পুলিশি তদন্তে কোনো স্থগিতাদেশ না দিয়ে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, পুলিশ নিয়মমাফিক তদন্ত চালাতে পারবে এবং প্রয়োজনে চার্জশিটও জমা দিতে পারবে। কিন্তু আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কঠোর বা জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। বর্তমানে অভিষেক বিদেশে রয়েছেন, তবে দেশে ফেরার পর তদন্তের স্বার্থে নোটিস দিলে তাঁকে হাজিরা দিতে হবে।

শুনানির শুরুতেই বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে গত ৪ মে থেকে এই বক্তব্য শুনে আসছেন এবং এবার তিনি চূড়ান্ত নির্দেশ দিতে চলেছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ব্যক্তিগতভাবে তিনটি অভিযোগ খতিয়ে দেখেও এমন কোনো প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ মেলেনি যাতে অভিষেকের সরাসরি কোনো যোগসূত্র প্রমাণিত হয়। শুনানিতে উঠে আসে, একই ব্যক্তি বারবার এই অভিযোগ দায়ের করছেন, যিনি আসলে অভিষেকের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং নির্বাচনে তাঁর কাছে দু’বার পরাজিত হয়েছেন।

রাজ্যের তরফে নকল ওষুধের বিষয়টি উত্থাপন করা হলে আদালত চাঁচাছোলা ভাষায় প্রশ্ন তোলে, অভিষেক কি ওই ওষুধ প্রেসক্রাইব করেছিলেন? এমনকি অভিযোগকারী নিজেকে ‘হুইসেলব্লোয়ার’ বলে দাবি করলে বিচারপতি পাল্টা প্রশ্ন করেন, তবে এক বছর আগে কেন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি? আদালতের মতে, চিকিৎসাগত গাফিলতি থাকতে পারে, কিন্তু তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়েই কোনো স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া কীভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যুক্ত করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিষেকের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন সওয়াল করেন, মে ও জুন মাসে আদালত রক্ষাকবচ দেওয়ার পর সেই সুরক্ষাবলয় ভাঙতেই একের পর এক মোট ১৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে সাতটিই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের চক্রান্ত। রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার অধীনস্থদের মাধ্যমে যোগসূত্রের দাবি করলেও আদালত জানিয়ে দেয়, এভাবে ক্রমাগত চলতে দেওয়া যায় না। ফলে তদন্তের পথ খোলা রেখেই আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অভিষেককে গ্রেফতারি বা কোনো কড়া পদক্ষেপের হাত থেকে রক্ষাকবচ বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : TMC BengalPolitics KolkataNews CalcuttaHighCourt AbhishekBanerjee HiddenStoriesNews LegalUpdate BreakingNewsBangla

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


‘অভিষেক কি প্রেসক্রিপশন লিখেছিলেন?’ ভুয়ো ওষুধের মামলায় একের পর এক এফআইআরে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট!

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
কলকাতা: তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক এফআইআর ও মামলার হিড়িক নিয়ে এবার তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। মামলার শুনানিতে ক্ষোভ উগরে দিয়ে খোদ বিচারপতির স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, ‘এ বার যথেষ্ট হয়েছে। আমি ক্লান্ত!’ একই সঙ্গে আদালতের কড়া হুঁশিয়ারি, পরিস্থিতির যদি বদল না হয়, তবে ভবিষ্যতে অভিষেকের বিরুদ্ধে নতুন কোনো এফআইআর দায়ের করার আগেও আদালতের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করে ‘ব্ল্যাঙ্কেট ইনজাংশন’ জারি করা হতে পারে। তবে পুলিশি তদন্তে কোনো স্থগিতাদেশ না দিয়ে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, পুলিশ নিয়মমাফিক তদন্ত চালাতে পারবে এবং প্রয়োজনে চার্জশিটও জমা দিতে পারবে। কিন্তু আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কঠোর বা জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। বর্তমানে অভিষেক বিদেশে রয়েছেন, তবে দেশে ফেরার পর তদন্তের স্বার্থে নোটিস দিলে তাঁকে হাজিরা দিতে হবে।শুনানির শুরুতেই বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে গত ৪ মে থেকে এই বক্তব্য শুনে আসছেন এবং এবার তিনি চূড়ান্ত নির্দেশ দিতে চলেছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ব্যক্তিগতভাবে তিনটি অভিযোগ খতিয়ে দেখেও এমন কোনো প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ মেলেনি যাতে অভিষেকের সরাসরি কোনো যোগসূত্র প্রমাণিত হয়। শুনানিতে উঠে আসে, একই ব্যক্তি বারবার এই অভিযোগ দায়ের করছেন, যিনি আসলে অভিষেকের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং নির্বাচনে তাঁর কাছে দু’বার পরাজিত হয়েছেন।রাজ্যের তরফে নকল ওষুধের বিষয়টি উত্থাপন করা হলে আদালত চাঁচাছোলা ভাষায় প্রশ্ন তোলে, অভিষেক কি ওই ওষুধ প্রেসক্রাইব করেছিলেন? এমনকি অভিযোগকারী নিজেকে ‘হুইসেলব্লোয়ার’ বলে দাবি করলে বিচারপতি পাল্টা প্রশ্ন করেন, তবে এক বছর আগে কেন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি? আদালতের মতে, চিকিৎসাগত গাফিলতি থাকতে পারে, কিন্তু তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়েই কোনো স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া কীভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যুক্ত করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিষেকের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন সওয়াল করেন, মে ও জুন মাসে আদালত রক্ষাকবচ দেওয়ার পর সেই সুরক্ষাবলয় ভাঙতেই একের পর এক মোট ১৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে সাতটিই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের চক্রান্ত। রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার অধীনস্থদের মাধ্যমে যোগসূত্রের দাবি করলেও আদালত জানিয়ে দেয়, এভাবে ক্রমাগত চলতে দেওয়া যায় না। ফলে তদন্তের পথ খোলা রেখেই আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অভিষেককে গ্রেফতারি বা কোনো কড়া পদক্ষেপের হাত থেকে রক্ষাকবচ বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত