নয়াদিল্লি: দিল্লির তুঘলকাবাদের একটি পাঁচতলা বাড়িতে গত শুক্রবারের সেই ভয়াবহ ও মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে লুকিয়ে ছিল এক হাড়হিম করা অপরাধের ছক। প্রাথমিকভাবে এটিকে দুর্ঘটনা মনে করা হলেও, দিল্লি পুলিশের ম্যারাথন তদন্তে উঠে এল এক তীব্র চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, কোনও যান্ত্রিক গোলযোগ বা শর্ট সার্কিট থেকে নয়, বরং এক নাবালিকাকে সামনে রেখে সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃতভাবে ওই বহুতলে আগুন ধরানো হয়েছিল! এই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের জেরে অন্তত আটজন গুরুতর জখম হয়ে এইমসে (AIIMS) ভর্তি হয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে চিকিৎসা চলাকালীন ইতিমধ্যেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতেরা হলেন পঙ্কজ, সুশীলা দেবী এবং সোনিয়া কুমারী। এই মুহূর্তে আরও দু’জন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। আর এই নারকীয় কাণ্ডের মূল কারিগর হিসেবে পুলিশ এক ১৭ বছর বয়সি নাবালিকা এবং তার প্রেমিক-সহ মোট চারজনকে চিহ্নিত করে আটক করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার ভোর তিনটে নাগাদ তুঘলকাবাদের ওই আবাসিক ভবনে আচমকাই আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন বহুতলের পাঁচতলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে বাসিন্দাদের বেরোনোর পথ বন্ধ করে দেয়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ যখন অগ্নি নির্বাপণ বিধি লঙ্ঘনের দিকটি খতিয়ে দেখছিল, ঠিক তখনই ওই এলাকার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ হাতে আসতেই তদন্তকারীদের চোখ চড়কগাছ হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, আগুন লাগার ঠিক কিছু মুহূর্ত আগে মুখ ঢাকা এক রহস্যময়ী মহিলা ওই বাড়িতে প্রবেশ করছে এবং সে বেরিয়ে আসার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠছে। এই সূত্রের ওপর ভিত্তি করেই তল্লাশি চালিয়ে ওই ১৭ বছরের নাবালিকাকে ধরে পুলিশ।
‘দু নৌকায় পা দিয়ে চলাই তৃণমূলের স্বভাব’ : অগ্নিমিত্রা পাল
পুলিশি জেরার মুখে ভেঙে পড়ে ওই নাবালিকা স্বীকার করে যে, সে-ই ওই বাড়ির নিচে থাকা একটি মোটরবাইকে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। তবে এই মারাত্মক কাজ সে নিজের ইচ্ছায় করেনি, বরং তার এক ‘দিদি’ এবং প্রেমিকের নির্দেশে করেছে। নাবালিকার বয়ানের সূত্র ধরে পুলিশ এরপর সরিতা (২৭), নিরঞ্জন (৩৩) এবং রাজকুমার (২৭) নামের আরও তিনজনকে আটক করে। জানা গিয়েছে, ওই বাড়ির বাসিন্দা দীপক নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁরই আত্মীয় নিরঞ্জনের সম্পত্তি বা ব্যক্তিগত কারণে কিছুদিন ধরে চরম বিবাদ চলছিল। সেই পারিবারিক শত্রুতার প্রতিশোধ নিতেই দীপকের বাইকটি পুড়িয়ে দেওয়ার ছক কষে নিরঞ্জন। পরিকল্পনা মাফিক নাবালিকার হাতে পেট্রল ও দেশলাই তুলে দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ধৃত দুই যুবকের সঙ্গে সরিতা ও ওই নাবালিকার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং ‘প্রেমিকের’ নির্দেশ রাখতেই এই ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটিয়েছে নাবালিকা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুন ও চক্রান্ত-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে দিল্লি পুলিশ।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন