বসিরহাট: ভরদুপুরে বাইকে চেপে মাথায় হেলমেট, আর পিঠে বড় কালো ব্যাগ নিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালানোর ছক কষেছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না, অতন্দ্র প্রহরীর মতো রুখে দাঁড়ালেন স্থানীয় বাসিন্দারাই। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাসন্তীর চুনাখালি এলাকায় দুই বাইকে চড়ে শওকত ও তাঁর সঙ্গীদের রুদ্ধশ্বাস পলায়ন পর্বের গতিবিধি টের পেয়েই ব্যারিকেড গড়ে তোলেন এলাকাবাসী। বেগতিক বুঝে বাইক ঘুরিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে শওকতের ছেলেকে। আর প্রাক্তন বিধায়কের খোঁজে জাকাড়িয়া সুন্দরবন মাদ্রাসা-সহ গোটা গ্রাম কার্যত সিল করে দিয়ে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে বারুইপুরের একটি বাড়ি থেকে পরনে লাল জামা গলিয়ে চম্পট দেন শওকত মোল্লা। বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ বাসন্তীর খেয়াঘাটে চারজনের একটি সন্দেহভাজন দলকে দেখতে পান বাসিন্দারা, যাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এই প্রভাবশালী নেতা। এই খেয়াঘাট পার হলেই উত্তর ২৪ পরগনার দাদবেড়িয়া খেয়াঘাট, যেখান থেকে ওপার বাংলার সীমান্ত একেবারে হাতের নাগালে। স্থানীয়দের দাবি, নদী পেরিয়ে ওপারে করাকাঠি এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে রাতটুকু গা-ঢাকা দিয়ে সীমান্ত গলে বাংলাদেশে পালানোর সুনির্দিষ্ট ব্লুপ্রিন্ট ছিল শওকতের। কিন্তু গ্রামবাসীর তৎপরতায় সেই ছক বানচাল হতেই এখন সুন্দরবনের প্রত্যন্ত মাদ্রাসার অলিগলিতে হন্যে হয়ে ঘুরছেন এনআইএ কর্তারা। তদন্তকারীদের স্পষ্ট বার্তা, যারা এই পলাতক নেতাকে আশ্রয় দিয়ে পালাতে সাহায্য করছে, তাদের প্রত্যেককে মাটির গর্ত থেকে হলেও খুঁজে বের করা হবে।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন