Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ফাঁকি দিলেই কড়া শাস্তি! ৩ দিন লেট করলেই কাটা যাবে ছুটি, সরকারি কর্মীদের টাইট দিতে নবান্নে বসছে ‘ফেস রিকগনিশন বায়োমেট্রিক’

ফাঁকি দিলেই কড়া শাস্তি! ৩ দিন লেট করলেই কাটা যাবে ছুটি, সরকারি কর্মীদের টাইট দিতে নবান্নে বসছে ‘ফেস রিকগনিশন বায়োমেট্রিক’
প্রতীকী ছবি

কলকাতা: সরকারি অফিসে এসে চেয়ারে রুমাল বা ফাইল চাপা দিয়ে উধাও হয়ে যাওয়া কিংবা ইচ্ছেমতো ঢোকা-বেরোনোর দিন এবার এক্কেবারে শেষ! রাজ্যের সরকারি দফতরগুলিতে কাজের সংস্কৃতিতে আমূল বদল আনতে এবং চরম শৃঙ্খলা ও সময়-নিষ্ঠা বজায় রাখতে এবার এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল নতুন রাজ্য সরকার।


 নবান্নে কর্মরত সমস্ত স্তরের আধিকারিক ও কর্মচারীদের জন্য এবার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে ‘ফেস রিকগনিশন বায়োমেট্রিক’ বা মুখাবয়ব চেনার অত্যাধুনিক ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা। নবান্নের তরফ থেকে এই মর্মে ইতিমধ্যেই একটি কড়া নির্দেশিকা জারি করে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অন্দরে রীতিমতো কম্পন শুরু হয়ে গেছে। ফাঁকি দেওয়ার সমস্ত চেনা রাস্তা বন্ধ করতেই যে এই যান্ত্রিক নজরদারি, তা স্পষ্ট।


নবান্নের জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, আগামী ১৫ জুন থেকেই নবান্নের বিভিন্ন দফতরে কর্মরত সমস্ত আধিকারিক ও কর্মচারীকে এই ‘ফেস রেকগনিশন বায়োমেট্রিক’ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি নথিভুক্ত করতে হবে। শুধু তাই নয়, নবান্ন দিয়ে শুরু হলেও খুব শীঘ্রই ধাপে ধাপে রাজ্যের সমস্ত জেলা ও মহকুমা স্তরের সরকারি দফতরকেও এই কড়া ডিজিটাল হাজিরার আওতায় নিয়ে আসা হবে। নতুন সরকারের লক্ষ্য, আগামী ৩১ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যেই সমগ্র রাজ্যের সমস্ত সরকারি অফিসে এই ফেস বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে চালু করে দেওয়া। এই নিয়মের আওতা থেকে ছাড় পাচ্ছেন কেবল সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রধানরা, বাকি ছোট-বড় সমস্ত অফিসার ও কর্মীকে এই নতুন নিয়মের চাকায় ঘুরতে হবে।


নতুন নির্দেশিকায় ফাঁকিবাজির পথ বন্ধ করতে সবথেকে বড় যে কড়াকড়ি করা হয়েছে, তা হলো— কর্মীদের শুধু অফিসে ঢোকার সময় নয়, কাজ শেষে অফিস থেকে বেরোনোর সময়ও নির্দিষ্ট যন্ত্রের সামনে দাঁড়িয়ে মুখ স্ক্যান করে হাজিরা রেকর্ড করতে হবে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে কোনও কর্মী অফিসে এলে তা ‘দেরিতে আসা’ হিসেবে গণ্য হবে। আর ঘড়ির কাঁটায় সকাল ১১টা পার হয়ে গেলেই সংশ্লিষ্ট কর্মীকে সোজা ‘অনুপস্থিত’ বা কামাই বলে ধরে নেওয়া হবে। ঠিক একইভাবে, বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের আগে যদি কেউ অফিস থেকে চম্পট দেন, তবে তা ‘আগেভাগে বেরিয়ে যাওয়া’ হিসেবে রেকর্ড হবে। আর যদি কোনও খামখেয়ালী কর্মী অফিস ছাড়ার সময় বায়োমেট্রিক দিতে ভুলে যান বা না দেন, তবে তিনিও ওই দিনের জন্য সোজা অনুপস্থিত বলে গণ্য হবেন।


সবচেয়ে হাড়হিম করা নিয়মটি রাখা হয়েছে ছুটি কাটার ক্ষেত্রে। যদি কোনও কর্মী একই দিনে দেরিতে অফিসে ঢোকেন এবং আবার ৫টা ১৫ মিনিটের আগে অফিস থেকে বেরিয়ে যান, তবে তাঁর ওই দিনের পুরো হাজিরাটাই বাতিল হয়ে যাবে এবং তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ক্যাজুয়াল লিভ বা সিএল (CL) কেটে নেওয়া হবে। 


এখানেই শেষ নয়, পুরো একটি ক্যালেন্ডার মাসের মধ্যে যদি কোনও কর্মী পরপর ৩ দিন অফিসে দেরিতে আসেন কিংবা ৩ দিন আগেভাগে বাড়ি চলে যান, তবে শাস্তিস্বরূপ তাঁর একটি করে ক্যাজুয়াল লিভ কেটে নেবে প্রশাসন। তবে দূরের কর্মীদের জন্য একটি বিশেষ মানবিক ছাড় বহাল রেখেছে নবান্ন; আবাসন বা অন্য কোনও কারণে যাঁরা সদর দফতরের আট কিলোমিটারের বাইরে বসবাস করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আগের জমানার পুরনো বিধির ছাড় আপাতত বজায় থাকছে। ফলে এখন থেকে ঘড়ির কাঁটা মেপেই যে সরকারি বাবুদের ডিউটি করতে হবে, তা বলাই বাহুল্য।

বিষয় : kolkatapolitics CORPORATEPOLICY bengalbureaucracy westbenaglgovernment nabannaorder attendancerules

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


ফাঁকি দিলেই কড়া শাস্তি! ৩ দিন লেট করলেই কাটা যাবে ছুটি, সরকারি কর্মীদের টাইট দিতে নবান্নে বসছে ‘ফেস রিকগনিশন বায়োমেট্রিক’

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

featured Image
কলকাতা: সরকারি অফিসে এসে চেয়ারে রুমাল বা ফাইল চাপা দিয়ে উধাও হয়ে যাওয়া কিংবা ইচ্ছেমতো ঢোকা-বেরোনোর দিন এবার এক্কেবারে শেষ! রাজ্যের সরকারি দফতরগুলিতে কাজের সংস্কৃতিতে আমূল বদল আনতে এবং চরম শৃঙ্খলা ও সময়-নিষ্ঠা বজায় রাখতে এবার এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল নতুন রাজ্য সরকার। নবান্নে কর্মরত সমস্ত স্তরের আধিকারিক ও কর্মচারীদের জন্য এবার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে ‘ফেস রিকগনিশন বায়োমেট্রিক’ বা মুখাবয়ব চেনার অত্যাধুনিক ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা। নবান্নের তরফ থেকে এই মর্মে ইতিমধ্যেই একটি কড়া নির্দেশিকা জারি করে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অন্দরে রীতিমতো কম্পন শুরু হয়ে গেছে। ফাঁকি দেওয়ার সমস্ত চেনা রাস্তা বন্ধ করতেই যে এই যান্ত্রিক নজরদারি, তা স্পষ্ট।নবান্নের জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, আগামী ১৫ জুন থেকেই নবান্নের বিভিন্ন দফতরে কর্মরত সমস্ত আধিকারিক ও কর্মচারীকে এই ‘ফেস রেকগনিশন বায়োমেট্রিক’ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি নথিভুক্ত করতে হবে। শুধু তাই নয়, নবান্ন দিয়ে শুরু হলেও খুব শীঘ্রই ধাপে ধাপে রাজ্যের সমস্ত জেলা ও মহকুমা স্তরের সরকারি দফতরকেও এই কড়া ডিজিটাল হাজিরার আওতায় নিয়ে আসা হবে। নতুন সরকারের লক্ষ্য, আগামী ৩১ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যেই সমগ্র রাজ্যের সমস্ত সরকারি অফিসে এই ফেস বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে চালু করে দেওয়া। এই নিয়মের আওতা থেকে ছাড় পাচ্ছেন কেবল সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রধানরা, বাকি ছোট-বড় সমস্ত অফিসার ও কর্মীকে এই নতুন নিয়মের চাকায় ঘুরতে হবে।নতুন নির্দেশিকায় ফাঁকিবাজির পথ বন্ধ করতে সবথেকে বড় যে কড়াকড়ি করা হয়েছে, তা হলো— কর্মীদের শুধু অফিসে ঢোকার সময় নয়, কাজ শেষে অফিস থেকে বেরোনোর সময়ও নির্দিষ্ট যন্ত্রের সামনে দাঁড়িয়ে মুখ স্ক্যান করে হাজিরা রেকর্ড করতে হবে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে কোনও কর্মী অফিসে এলে তা ‘দেরিতে আসা’ হিসেবে গণ্য হবে। আর ঘড়ির কাঁটায় সকাল ১১টা পার হয়ে গেলেই সংশ্লিষ্ট কর্মীকে সোজা ‘অনুপস্থিত’ বা কামাই বলে ধরে নেওয়া হবে। ঠিক একইভাবে, বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের আগে যদি কেউ অফিস থেকে চম্পট দেন, তবে তা ‘আগেভাগে বেরিয়ে যাওয়া’ হিসেবে রেকর্ড হবে। আর যদি কোনও খামখেয়ালী কর্মী অফিস ছাড়ার সময় বায়োমেট্রিক দিতে ভুলে যান বা না দেন, তবে তিনিও ওই দিনের জন্য সোজা অনুপস্থিত বলে গণ্য হবেন।সবচেয়ে হাড়হিম করা নিয়মটি রাখা হয়েছে ছুটি কাটার ক্ষেত্রে। যদি কোনও কর্মী একই দিনে দেরিতে অফিসে ঢোকেন এবং আবার ৫টা ১৫ মিনিটের আগে অফিস থেকে বেরিয়ে যান, তবে তাঁর ওই দিনের পুরো হাজিরাটাই বাতিল হয়ে যাবে এবং তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ক্যাজুয়াল লিভ বা সিএল (CL) কেটে নেওয়া হবে। এখানেই শেষ নয়, পুরো একটি ক্যালেন্ডার মাসের মধ্যে যদি কোনও কর্মী পরপর ৩ দিন অফিসে দেরিতে আসেন কিংবা ৩ দিন আগেভাগে বাড়ি চলে যান, তবে শাস্তিস্বরূপ তাঁর একটি করে ক্যাজুয়াল লিভ কেটে নেবে প্রশাসন। তবে দূরের কর্মীদের জন্য একটি বিশেষ মানবিক ছাড় বহাল রেখেছে নবান্ন; আবাসন বা অন্য কোনও কারণে যাঁরা সদর দফতরের আট কিলোমিটারের বাইরে বসবাস করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আগের জমানার পুরনো বিধির ছাড় আপাতত বজায় থাকছে। ফলে এখন থেকে ঘড়ির কাঁটা মেপেই যে সরকারি বাবুদের ডিউটি করতে হবে, তা বলাই বাহুল্য।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার