Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ফ্ল্যাটের বন্ধ ঘরে অশ্লীল রিল আর মাদকের মরণখেলা! গল্ফগ্রিনে যুগল মৃত্যুর নেপথ্যে কোন অন্ধকার দুনিয়া?

ফ্ল্যাটের বন্ধ ঘরে অশ্লীল রিল আর মাদকের মরণখেলা! গল্ফগ্রিনে যুগল মৃত্যুর নেপথ্যে কোন অন্ধকার দুনিয়া?
গল্ফগ্রিনে যুগলের দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ছবি-সংগৃহীত

কলকাতা: অভিজাত এলাকার একটি বন্ধ ফ্ল্যাট, আর তার ভেতরেই চলত উদ্দাম যৌনতা আর মাদকের রমরমা কারবার! গল্ফগ্রিনে যুগলের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় এবার সামনে এল এমনই এক হাড়হিম করা তথ্য। রবিবার ফ্ল্যাট থেকে তিলজলার যুবক মহম্মদ দিলশাদ ও তাঁর বান্ধবী মেহুলি সান্যালের মৃতদেহ উদ্ধারের পর থেকেই দানা বাঁধছিল রহস্য। এবার ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো খুন নয়, বরং অতিরিক্ত মাত্রায় মাদক সেবনের (ওভারডোজ) ফলেই মৃত্যু হয়েছে ওই তরুণ-তরুণীর। তবে এই মৃত্যুর তদন্তে নেমে পুলিশ যে তথ্য পেয়েছে, তা চোখ কপালে তোলার মতো। জানা গেছে, মৃত দিলশাদ ওই ফ্ল্যাটটি মূলত ‘হাউস পার্টি’র জন্য ভাড়া দিত, যেখানে টাকার বিনিময়ে আসত কমবয়সী ছেলেমেয়েরা।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দিলশাদের এই ফ্ল্যাটে শুধু যে মাদকের আসর বসত তা নয়, চলত আরও নানা অবৈধ কাজকর্ম। অভিযোগ উঠছে, সমাজমাধ্যমের জন্য বিভিন্ন যৌন উত্তেজক রিল এবং অশ্লীল ভিডিও বা নীল ছবি তৈরি করা হতো এই ফ্ল্যাটের বন্ধ ঘরে। দূর-দূরান্ত থেকে তরুণ-তরুণীরা এসে এখানে এক বা দু’রাত কাটাত। দেদার মদ্যপান আর নানারকম মরণনেশায় বুঁদ হয়ে থাকার জন্য দিলশাদের হাতে মোটা টাকা ‘প্যাকেজ’ হিসেবে তুলে দিতে হতো তাদের। এই রমরমা কারবারের আসল সত্যিটা কী, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই সোমবার ওই ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, মাদকের ওভারডোজে প্রথমে মৃত্যু হয় মেহুলির এবং তার কিছুক্ষণ পর মারা যান দিলশাদ। মেহুলির মাথায় একটি আঘাতের চিহ্ন মিললেও, চিকিৎসকদের অনুমান, নেশার ঘোরে পড়ে যাওয়ার ফলেই ওই আঘাত লেগেছিল।

এদিকে রামগড়ের বাসিন্দা মৃত মেহুলির মায়ের অভিযোগ ছিল, তাঁর মেয়েকে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ ওই ফ্ল্যাট থেকে মুস্তাক আলি মোল্লা ওরফে রোহিত, অঞ্জলি বাঙ্গিরো এবং চন্দন পাশোয়ান নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে অঞ্জলি ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা এবং কলকাতার একটি নামী কলেজের ছাত্রী। গত শুক্রবার সারারাত ধরে মুস্তাক, অঞ্জলি, চন্দন, দিলশাদ ও মেহুলি মিলে ওই ফ্ল্যাটে ‘হাউস পার্টি’ করেছিল। মেহুলির অতীত ঘাটতে গিয়ে পুলিশ জানতে পেরেছে, ২০২৩ সালে নিজের জন্মদিনেই বাড়ি ছেড়ে শাহবাজ নামে এক যুবকের সঙ্গে পালিয়ে যান তিনি। তারপর থেকে একাধিক যুবকের সঙ্গে লিভ-ইন করেছেন এবং শেষমেশ মুস্তাকের সঙ্গেই থাকতেন। দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন রেভ পার্টিতে যাতায়াতের সূত্রেই কলেজ ছাত্রী অঞ্জলির সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব হয়। এই চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত এবং আর কোন কোন প্রভাবশালী তরুণ-তরুণী এই ফ্ল্যাটে আসত, তা জানতে ধৃতদের জেরা করছে পুলিশ।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : CrimeNews KolkataPolice DrugOverdose GolfGreenDeath KolkataMystery HousePartyScandal

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


ফ্ল্যাটের বন্ধ ঘরে অশ্লীল রিল আর মাদকের মরণখেলা! গল্ফগ্রিনে যুগল মৃত্যুর নেপথ্যে কোন অন্ধকার দুনিয়া?

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬

featured Image
কলকাতা: অভিজাত এলাকার একটি বন্ধ ফ্ল্যাট, আর তার ভেতরেই চলত উদ্দাম যৌনতা আর মাদকের রমরমা কারবার! গল্ফগ্রিনে যুগলের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় এবার সামনে এল এমনই এক হাড়হিম করা তথ্য। রবিবার ফ্ল্যাট থেকে তিলজলার যুবক মহম্মদ দিলশাদ ও তাঁর বান্ধবী মেহুলি সান্যালের মৃতদেহ উদ্ধারের পর থেকেই দানা বাঁধছিল রহস্য। এবার ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো খুন নয়, বরং অতিরিক্ত মাত্রায় মাদক সেবনের (ওভারডোজ) ফলেই মৃত্যু হয়েছে ওই তরুণ-তরুণীর। তবে এই মৃত্যুর তদন্তে নেমে পুলিশ যে তথ্য পেয়েছে, তা চোখ কপালে তোলার মতো। জানা গেছে, মৃত দিলশাদ ওই ফ্ল্যাটটি মূলত ‘হাউস পার্টি’র জন্য ভাড়া দিত, যেখানে টাকার বিনিময়ে আসত কমবয়সী ছেলেমেয়েরা।পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দিলশাদের এই ফ্ল্যাটে শুধু যে মাদকের আসর বসত তা নয়, চলত আরও নানা অবৈধ কাজকর্ম। অভিযোগ উঠছে, সমাজমাধ্যমের জন্য বিভিন্ন যৌন উত্তেজক রিল এবং অশ্লীল ভিডিও বা নীল ছবি তৈরি করা হতো এই ফ্ল্যাটের বন্ধ ঘরে। দূর-দূরান্ত থেকে তরুণ-তরুণীরা এসে এখানে এক বা দু’রাত কাটাত। দেদার মদ্যপান আর নানারকম মরণনেশায় বুঁদ হয়ে থাকার জন্য দিলশাদের হাতে মোটা টাকা ‘প্যাকেজ’ হিসেবে তুলে দিতে হতো তাদের। এই রমরমা কারবারের আসল সত্যিটা কী, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই সোমবার ওই ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, মাদকের ওভারডোজে প্রথমে মৃত্যু হয় মেহুলির এবং তার কিছুক্ষণ পর মারা যান দিলশাদ। মেহুলির মাথায় একটি আঘাতের চিহ্ন মিললেও, চিকিৎসকদের অনুমান, নেশার ঘোরে পড়ে যাওয়ার ফলেই ওই আঘাত লেগেছিল।এদিকে রামগড়ের বাসিন্দা মৃত মেহুলির মায়ের অভিযোগ ছিল, তাঁর মেয়েকে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ ওই ফ্ল্যাট থেকে মুস্তাক আলি মোল্লা ওরফে রোহিত, অঞ্জলি বাঙ্গিরো এবং চন্দন পাশোয়ান নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে অঞ্জলি ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা এবং কলকাতার একটি নামী কলেজের ছাত্রী। গত শুক্রবার সারারাত ধরে মুস্তাক, অঞ্জলি, চন্দন, দিলশাদ ও মেহুলি মিলে ওই ফ্ল্যাটে ‘হাউস পার্টি’ করেছিল। মেহুলির অতীত ঘাটতে গিয়ে পুলিশ জানতে পেরেছে, ২০২৩ সালে নিজের জন্মদিনেই বাড়ি ছেড়ে শাহবাজ নামে এক যুবকের সঙ্গে পালিয়ে যান তিনি। তারপর থেকে একাধিক যুবকের সঙ্গে লিভ-ইন করেছেন এবং শেষমেশ মুস্তাকের সঙ্গেই থাকতেন। দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন রেভ পার্টিতে যাতায়াতের সূত্রেই কলেজ ছাত্রী অঞ্জলির সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব হয়। এই চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত এবং আর কোন কোন প্রভাবশালী তরুণ-তরুণী এই ফ্ল্যাটে আসত, তা জানতে ধৃতদের জেরা করছে পুলিশ।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার