কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতেই আমূল বদলে গেল উত্তরবঙ্গের পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ। শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক হাই-প্রোফাইল বৈঠকে যোগ দিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার শীর্ষ নেতা বিমল গুরুং ও রোশন গিরিরা। এদিন পাহাড়ের সমস্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর পাহাড়ের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে একগুচ্ছ বড়সড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হল, পাহাড়ের সাধারণ মানুষের নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক ও অব্যাহত রাখতে দার্জিলিং বাদে বাকি তিন পুরসভা — কালিম্পং, কার্শিয়াং এবং মিরিকে আপাতত প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার।
নবান্নের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তাও। তাঁকে সামনে রেখেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, গুরুং এবং রোশন গিরিদের দাবিকে স্বীকৃতি দিয়ে পাহাড়ে থমকে থাকা উন্নয়নের কাজের রাস্তা পুরোপুরি পরিষ্কার করা হল। একই সঙ্গে পাহাড়ের পরিকাঠামো ও সার্বিক উন্নয়নের এক বিশেষ মহাপরিকল্পনা বাবদ ৩ লক্ষ কোটি টাকার এক বিশাল অঙ্কের তহবিল বরাদ্দ করার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জিটিএ-র কাজের খতিয়ান টেনে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘‘আমি জিটিএ-র প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি শামা পারভীনকে নির্দেশ দিয়েছি, তিনি যেন স্থানীয় বিধায়ক ও সাংসদদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কাজ শুরু করেন। এত দিন প্রতি অর্থবর্ষে পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বরাদ্দ করা হলেও জিটিএ বাস্তব ক্ষেত্রে কোনও কাজ করে উঠতে পারেনি।’’
রাজনৈতিক মহলের মতে, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়জুড়ে কার্যত অভাবনীয়ভাবে পদ্ম ফুটেছে। অবশ্য ভৌগোলিক ও রাজনৈতিকভাবে দার্জিলিং এবং তার সংলগ্ন এলাকা বরাবরই বিজেপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে, এবার রাজ্যের ঐতিহাসিক ক্ষমতা পরিবর্তনের গেরুয়া ঝড়ে কোমর বেঁধে শামিল হয়েছেন পাহাড়বাসীও। আর, নয়া সরকার গড়তেই পাহাড়ের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমন ও উন্নয়নের চাকাকে সচল করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন