Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

৪৬ ডিগ্রি ছাড়াল পারদ, তেলঙ্গানায় তাপপ্রবাহের বলি ১৬! মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য সরকারের

৪৬ ডিগ্রি ছাড়াল পারদ, তেলঙ্গানায় তাপপ্রবাহের বলি ১৬! মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য সরকারের
প্রতীকী ছবি

হায়দরাবাদ: এই মুহূর্তে তীব্র দাবদাহে জ্বলছে দেশের বিস্তীর্ণ অংশ। ব্যতিক্রম নয় দক্ষিণ ভারতের রাজ্য তেলঙ্গানাও। মে মাস শুরু হতেই চড়চড়িয়ে চড়ছে তাপমাত্রার পারদ। বিগত এক সপ্তাহ ধরে চলা এই তীব্র গরমে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। তেলঙ্গানা ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানিং সোসাইটি (টিজিডিপিএস)-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের অন্তত ১৬টি জেলা মারাত্মক তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছে এবং প্রতিটিতেই তাপমাত্রা ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডী ছাড়িয়ে গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাজ্যজুড়ে চূড়ান্ত সতর্কতা (Red Alert) জারি করা হয়েছে।


রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তেলঙ্গানার মোট সাতটি জেলা থেকে এই ১৬ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে জয়শঙ্কর ভূপালপল্লি জেলায়, সেখানে চারজন মারা গেছেন। এছাড়া ওয়ানাগল আর্বান, করিম নগর এবং নিজামাবাদে তিনজন করে এবং সূর্যপেট, জগুলাম্বা গঢ়ওয়াল ও রঙ্গারেড্ডি জেলায় একজন করে মানুষের মৃত্যু হয়েছে হিটস্ট্রোকে। এই আকস্মিক বিপর্যয়ের জেরে মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন। প্রতিটি শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।


রাজ্য আবহাওয়া দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তেলঙ্গানার ১৬টি জেলার মধ্যে এই মুহূর্তে সবচেয়ে তপ্ত কুমারম ভীম আসিফাবাদ জেলার সিরপুর, সেখানে পারদ ছুঁয়েছে ৪৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর পরেই রয়েছে জগতিয়ালের ধর্মপুরী, করিম নগরের গঙ্গাধারা, মানচেরিয়ালের কাসিপেট, নিজামাবাদের ইয়েরগাটলা, পেড্ডাপল্লির কামানপুর এবং রাজন্না সিরসিলার কোনারাওপেটা। এই সবকটি অঞ্চলেই তাপমাত্রা ৪৬.৫ ডিগ্রির কাছাকাছি। ৪৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আগুনে গরমে পুড়ছে হনুমানকোন্ডার কামালপুর, খাম্মাম ও নির্মলের খানাপুর। এছাড়া জনগাঁওয়ের চিলপুরে ৪৫.৮ এবং আদিলাবাদের ইন্দ্রভ্যালিতে ৪৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবারই বিশ্বের সবচেয়ে তপ্ত ৫০টি শহরের যে আন্তর্জাতিক তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল, সেখানেও তেলঙ্গানার বেশ কয়েকটি শহরের নাম ওপরের দিকেই ছিল।


মৌসম ভবন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তেলঙ্গানায় এখনই এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতির বদল হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। আগামী আরও দু’তিন দিন এই তীব্র তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি বজায় থাকবে। তবে শুধু তেলঙ্গানাই নয়, এই মুহূর্তে দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং রাজস্থানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল কার্যত মরুভূমির রূপ নিয়েছে। আবহবিদদের সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলছে রাতের আবহাওয়া। অন্যান্য বছর রাতে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও, এবার রাতের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের থেকে ৪-৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকছে। ফলে দিন কিংবা রাত — ২৪ ঘণ্টাই তীব্র অস্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছে আমজনতা।

বিষয় : TELENGANANEWS globalwarming TELANGANAHEATWAVE INDIAWEATHERUPDATE NORTHINDIAHEATWAVE

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


৪৬ ডিগ্রি ছাড়াল পারদ, তেলঙ্গানায় তাপপ্রবাহের বলি ১৬! মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য সরকারের

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image
হায়দরাবাদ: এই মুহূর্তে তীব্র দাবদাহে জ্বলছে দেশের বিস্তীর্ণ অংশ। ব্যতিক্রম নয় দক্ষিণ ভারতের রাজ্য তেলঙ্গানাও। মে মাস শুরু হতেই চড়চড়িয়ে চড়ছে তাপমাত্রার পারদ। বিগত এক সপ্তাহ ধরে চলা এই তীব্র গরমে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। তেলঙ্গানা ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানিং সোসাইটি (টিজিডিপিএস)-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের অন্তত ১৬টি জেলা মারাত্মক তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছে এবং প্রতিটিতেই তাপমাত্রা ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডী ছাড়িয়ে গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাজ্যজুড়ে চূড়ান্ত সতর্কতা (Red Alert) জারি করা হয়েছে।রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তেলঙ্গানার মোট সাতটি জেলা থেকে এই ১৬ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে জয়শঙ্কর ভূপালপল্লি জেলায়, সেখানে চারজন মারা গেছেন। এছাড়া ওয়ানাগল আর্বান, করিম নগর এবং নিজামাবাদে তিনজন করে এবং সূর্যপেট, জগুলাম্বা গঢ়ওয়াল ও রঙ্গারেড্ডি জেলায় একজন করে মানুষের মৃত্যু হয়েছে হিটস্ট্রোকে। এই আকস্মিক বিপর্যয়ের জেরে মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন। প্রতিটি শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।রাজ্য আবহাওয়া দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তেলঙ্গানার ১৬টি জেলার মধ্যে এই মুহূর্তে সবচেয়ে তপ্ত কুমারম ভীম আসিফাবাদ জেলার সিরপুর, সেখানে পারদ ছুঁয়েছে ৪৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর পরেই রয়েছে জগতিয়ালের ধর্মপুরী, করিম নগরের গঙ্গাধারা, মানচেরিয়ালের কাসিপেট, নিজামাবাদের ইয়েরগাটলা, পেড্ডাপল্লির কামানপুর এবং রাজন্না সিরসিলার কোনারাওপেটা। এই সবকটি অঞ্চলেই তাপমাত্রা ৪৬.৫ ডিগ্রির কাছাকাছি। ৪৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আগুনে গরমে পুড়ছে হনুমানকোন্ডার কামালপুর, খাম্মাম ও নির্মলের খানাপুর। এছাড়া জনগাঁওয়ের চিলপুরে ৪৫.৮ এবং আদিলাবাদের ইন্দ্রভ্যালিতে ৪৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবারই বিশ্বের সবচেয়ে তপ্ত ৫০টি শহরের যে আন্তর্জাতিক তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল, সেখানেও তেলঙ্গানার বেশ কয়েকটি শহরের নাম ওপরের দিকেই ছিল।মৌসম ভবন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তেলঙ্গানায় এখনই এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতির বদল হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। আগামী আরও দু’তিন দিন এই তীব্র তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি বজায় থাকবে। তবে শুধু তেলঙ্গানাই নয়, এই মুহূর্তে দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং রাজস্থানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল কার্যত মরুভূমির রূপ নিয়েছে। আবহবিদদের সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলছে রাতের আবহাওয়া। অন্যান্য বছর রাতে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও, এবার রাতের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের থেকে ৪-৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকছে। ফলে দিন কিংবা রাত — ২৪ ঘণ্টাই তীব্র অস্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছে আমজনতা।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার