Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

মাথার দাম ১ কোটি! ভারতের ‘শেষ’ মাওবাদী পলিটব্যুরো নেতাকে খাঁচায় পুরতে ৪ হাজার জওয়ানের মেগা অপারেশন

মাথার দাম ১ কোটি! ভারতের ‘শেষ’ মাওবাদী পলিটব্যুরো নেতাকে খাঁচায় পুরতে ৪ হাজার জওয়ানের মেগা অপারেশন
প্রতীকী ছবি

রাঁচি: চলতি বছরেই দেশকে সম্পূর্ণ ‘মাওবাদী শূন্য’ বলে ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। কিন্তু তার পরেও খাতার কলমে অধরা রয়ে গিয়েছিলেন লাল সন্ত্রাসের শেষ একচ্ছত্র সম্রাট। এবার সেই মোস্ট ওয়ান্টেড মাওবাদী কমান্ডার তথা সিপিআই (মাওবাদী) সংগঠনের সর্বশেষ জীবিত পলিটব্যুরো সদস্য মিসির বেসরাকে জীবন্ত অথবা মৃত অবস্থায় ধরতে ঝাড়খণ্ডের গভীর জঙ্গলে শুরু হল ভারতের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম সামরিক অভিযান। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে আধা সামরিক বাহিনী এবং ঝাড়খণ্ড পুলিশের প্রায় ৪ হাজার সশস্ত্র জওয়ান এখন সারেণ্ডার দুর্গম জঙ্গলকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছেন। ঝাড়খণ্ড সরকারের তরফে এই শীর্ষ নেতার মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছে নগদ ১ কোটি টাকা।


গোয়েন্দা সূত্রে সুনির্দিষ্ট খবর মিলেছে যে, ওড়িশা ও ছত্তিশগড় সীমান্ত সংলগ্ন সারেণ্ডার ঘন অরণ্যের ভেতরের একটি আদিবাসী গ্রামে ছদ্মনামে আশ্রয় নিয়ে লুকিয়ে রয়েছেন ৬৬ বছর বয়সী এই মাওবাদী নেতা। খবর পাওয়া মাত্রই সিআরপিএফ, মাওবাদ-বিরোধী বিশেষ কমান্ডো বাহিনী ‘কোবরা’ এবং ঝাড়খণ্ড পুলিশের যৌথ টিম বনের ভেতরে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে একটি দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছে। জওয়ানেরা ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ের সঙ্গে সংযোগকারী সমস্ত আন্তঃরাজ্য সীমান্ত ও গোপন পথ সিল করে দিয়েছেন। জঙ্গলের ভেতরেই তৈরি করা হয়েছে বেশ কয়েকটি ‘ফরওয়ার্ডOperating বেস’ বা অগ্রবর্তী সামরিক ঘাঁটি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চারদিক থেকে নিরাপত্তা বলয় ক্রমশ সংকুচিত করে আনা হচ্ছে এবং জঙ্গলের ভেতরে সমস্ত রকম রসদ ও নিত্যপণ্যের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া মিসির বেসরার সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।


২০০৭ সালে রাঁচি থেকে একবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এই কুখ্যাত মাওবাদী নেতাকে। কিন্তু ২০০৯ সালে বিহারের লখিসরাইয়ের একটি আদালতে হাজির করার সময় আদালত প্রাঙ্গণেই আকস্মিক ভারী অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় মাওবাদী ক্যাডাররা। পুলিশকে রক্তগঙ্গায় ভাসিয়ে লকআপ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় মিসির বেসরাকে। তারপর থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তিনি সাগর ও অসীম মণ্ডল ছদ্মনাম ব্যবহার করে ক্রমাগত নিরাপত্তা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এর আগে সারেণ্ডা ও তুম্বাহাকা জঙ্গলে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে বেশ কয়েকবার মুখোমুখি তীব্র বন্দুকযুদ্ধ হলেও দুর্গম পাহাড়ি খাদের আড়ালে গা ঢাকা দিয়ে প্রতিবারই অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান তিনি। এই শীর্ষ নেতাই মূলত নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর চালানো ডজনখানেক বড়সড় হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন, যার মধ্যে ২০০৪ সালের এপ্রিলে ঘটা সেই নৃশংস অতর্কিত হামলাটিও রয়েছে, যেখানে ৩২ জন পুলিশকর্মী শহীদ হয়েছিলেন।


কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে দেশজুড়ে মোট ৭,৪০৯ জন মাওবাদীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও ৫,৮৮০ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া অল-আউট মাওবাদ-বিরোধী অভিযানের পর থেকে ছত্তিশগড়, তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্রের সংঘর্ষে দলটির বাকি সব পলিটব্যুরো সদস্য হয় নিহত হয়েছেন, না হয় জেলে বন্দি। ফলে মিসির বেসরা এখন সম্পূর্ণ একা। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের ‘অপারেশন নবজীবন’ প্রকল্পের আওতায় গত বৃহস্পতিবারই ঝাড়খণ্ড পুলিশের কাছে মোট ২৭ জন সক্রিয় মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন, যাঁরা এই বেসরার নেটওয়ার্ক চালাতেন। এমনকি মিসির বেসরার নিজের স্ত্রী ও পুত্রও এখন তাঁকে অস্ত্র ছেড়ে আত্মসমর্পণ করার জন্য আকুল আর্জি জানিয়েছেন। দিল্লির অলিন্দের মতে, সারেণ্ডার এই চূড়ান্ত অভিযানটি ভারতের মাটি থেকে লাল সন্ত্রাস চিরতরে মুছে ফেলার দীর্ঘ লড়াইয়ের শেষ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে।

বিষয় : SARANDAFOREST misirbesra crpfcobra maoistoperation

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


মাথার দাম ১ কোটি! ভারতের ‘শেষ’ মাওবাদী পলিটব্যুরো নেতাকে খাঁচায় পুরতে ৪ হাজার জওয়ানের মেগা অপারেশন

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image
রাঁচি: চলতি বছরেই দেশকে সম্পূর্ণ ‘মাওবাদী শূন্য’ বলে ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। কিন্তু তার পরেও খাতার কলমে অধরা রয়ে গিয়েছিলেন লাল সন্ত্রাসের শেষ একচ্ছত্র সম্রাট। এবার সেই মোস্ট ওয়ান্টেড মাওবাদী কমান্ডার তথা সিপিআই (মাওবাদী) সংগঠনের সর্বশেষ জীবিত পলিটব্যুরো সদস্য মিসির বেসরাকে জীবন্ত অথবা মৃত অবস্থায় ধরতে ঝাড়খণ্ডের গভীর জঙ্গলে শুরু হল ভারতের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম সামরিক অভিযান। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে আধা সামরিক বাহিনী এবং ঝাড়খণ্ড পুলিশের প্রায় ৪ হাজার সশস্ত্র জওয়ান এখন সারেণ্ডার দুর্গম জঙ্গলকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছেন। ঝাড়খণ্ড সরকারের তরফে এই শীর্ষ নেতার মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছে নগদ ১ কোটি টাকা।গোয়েন্দা সূত্রে সুনির্দিষ্ট খবর মিলেছে যে, ওড়িশা ও ছত্তিশগড় সীমান্ত সংলগ্ন সারেণ্ডার ঘন অরণ্যের ভেতরের একটি আদিবাসী গ্রামে ছদ্মনামে আশ্রয় নিয়ে লুকিয়ে রয়েছেন ৬৬ বছর বয়সী এই মাওবাদী নেতা। খবর পাওয়া মাত্রই সিআরপিএফ, মাওবাদ-বিরোধী বিশেষ কমান্ডো বাহিনী ‘কোবরা’ এবং ঝাড়খণ্ড পুলিশের যৌথ টিম বনের ভেতরে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে একটি দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছে। জওয়ানেরা ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ের সঙ্গে সংযোগকারী সমস্ত আন্তঃরাজ্য সীমান্ত ও গোপন পথ সিল করে দিয়েছেন। জঙ্গলের ভেতরেই তৈরি করা হয়েছে বেশ কয়েকটি ‘ফরওয়ার্ডOperating বেস’ বা অগ্রবর্তী সামরিক ঘাঁটি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চারদিক থেকে নিরাপত্তা বলয় ক্রমশ সংকুচিত করে আনা হচ্ছে এবং জঙ্গলের ভেতরে সমস্ত রকম রসদ ও নিত্যপণ্যের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া মিসির বেসরার সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।২০০৭ সালে রাঁচি থেকে একবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এই কুখ্যাত মাওবাদী নেতাকে। কিন্তু ২০০৯ সালে বিহারের লখিসরাইয়ের একটি আদালতে হাজির করার সময় আদালত প্রাঙ্গণেই আকস্মিক ভারী অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় মাওবাদী ক্যাডাররা। পুলিশকে রক্তগঙ্গায় ভাসিয়ে লকআপ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় মিসির বেসরাকে। তারপর থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তিনি সাগর ও অসীম মণ্ডল ছদ্মনাম ব্যবহার করে ক্রমাগত নিরাপত্তা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এর আগে সারেণ্ডা ও তুম্বাহাকা জঙ্গলে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে বেশ কয়েকবার মুখোমুখি তীব্র বন্দুকযুদ্ধ হলেও দুর্গম পাহাড়ি খাদের আড়ালে গা ঢাকা দিয়ে প্রতিবারই অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান তিনি। এই শীর্ষ নেতাই মূলত নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর চালানো ডজনখানেক বড়সড় হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন, যার মধ্যে ২০০৪ সালের এপ্রিলে ঘটা সেই নৃশংস অতর্কিত হামলাটিও রয়েছে, যেখানে ৩২ জন পুলিশকর্মী শহীদ হয়েছিলেন।কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে দেশজুড়ে মোট ৭,৪০৯ জন মাওবাদীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও ৫,৮৮০ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া অল-আউট মাওবাদ-বিরোধী অভিযানের পর থেকে ছত্তিশগড়, তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্রের সংঘর্ষে দলটির বাকি সব পলিটব্যুরো সদস্য হয় নিহত হয়েছেন, না হয় জেলে বন্দি। ফলে মিসির বেসরা এখন সম্পূর্ণ একা। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের ‘অপারেশন নবজীবন’ প্রকল্পের আওতায় গত বৃহস্পতিবারই ঝাড়খণ্ড পুলিশের কাছে মোট ২৭ জন সক্রিয় মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন, যাঁরা এই বেসরার নেটওয়ার্ক চালাতেন। এমনকি মিসির বেসরার নিজের স্ত্রী ও পুত্রও এখন তাঁকে অস্ত্র ছেড়ে আত্মসমর্পণ করার জন্য আকুল আর্জি জানিয়েছেন। দিল্লির অলিন্দের মতে, সারেণ্ডার এই চূড়ান্ত অভিযানটি ভারতের মাটি থেকে লাল সন্ত্রাস চিরতরে মুছে ফেলার দীর্ঘ লড়াইয়ের শেষ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার