নয়াদিল্লি: আর কোনও জোটের গোলকধাঁধায় পা দেওয়া নয়, এবার বাংলায় নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে বিজেপির আসল বিকল্প হয়ে উঠতে হবে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের শূন্যের গেরো কাটিয়ে জয়ী হওয়া কংগ্রেসের দুই নতুন বিধায়ককে দিল্লিতে ডেকে ঠিক এই বার্তাই দিলেন লোকসভার কংগ্রেসের দলনেতা রাহুল গান্ধী। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় খাতা খুলতে না পারা শতাব্দীপ্রাচীন দলটির জন্য এবারের নির্বাচনে দুটি আসন পাওয়া যেন মরুভূমিতে অক্সিজেনের মতো।
ফরাক্কায় জয়ী মোতাব শেখ এবং রানীনগর কেন্দ্রের জুলফিকার আলিকে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে তলব করেছিলেন রাহুল। সেখানেই তাঁদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তৃণমূল ও বামেদের সঙ্গে জোটের রাজনীতি করতে গিয়ে বারবার ধাক্কা খাওয়া এবং হারিয়ে যাওয়া ভোটব্যাঙ্ক ও সংগঠনকে পুনরুদ্ধার করতে এবার বুথ স্তর থেকে ‘একলা চলো’ নীতিতে কোমর বাঁধতে হবে।
দলীয় সূত্রের খবর, বৈঠকে রাহুল গান্ধী সাফ জানিয়েছেন যে বাংলায় মানুষ এখন নতুন বিকল্প খুঁজছে। একদিকে বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতি আর অন্যদিকে তৃণমূলের দুর্নীতি— এই দুইয়ের বিরুদ্ধে কংগ্রেসই হয়ে উঠতে পারে একমাত্র ভরসা। সেই লক্ষ্যেই পুরনো গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ভুলে সংখ্যালঘু, দলিত ও আদিবাসী এলাকাগুলিতে জনসংযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি যুব ও ছাত্র সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রাহুলের স্পষ্ট দাওয়াই, দুই বিধায়ক যেমন বিধানসভার অন্দরে দুর্নীতি, বেকারত্ব ও নারী নির্যাতনের ইস্যুতে রাজ্যের বিরুদ্ধে সরব হবেন, তেমনই রাজপথে নেমেও লাগাতার আন্দোলন গড়ে তুলবেন। আসন্ন পঞ্চায়েত ও পুরসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এখন থেকেই মাঠ কামড়ে পড়ে থাকার এই রোডম্যাপ বাংলায় কংগ্রেস কর্মীদের মনে নতুন করে উদ্দীপনা জোগাচ্ছে। শূন্য থেকে শুরু করে ঘুরে দাঁড়ানোর এই কঠিন লড়াইয়ে দুই নতুন মুখই এখন রাহুলের প্রধান বাজি, যাঁদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিধানসভায় দলের স্বতন্ত্রতা বজায় রাখা।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন