কেতুগ্রাম: বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় যখন দিকে দিকে বুথের সামনে লম্বা লাইন আর রাজনৈতিক উত্তাপ, ঠিক তখনই এক করুণ এবং ভিন্ন ছবি ধরা পড়ল পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের কাটুন্দীডাঙ্গা গ্রামে।
গণতন্ত্রের উৎসব নয়, গ্রামজুড়ে এখন কেবলই কান্নার রোল আর অসুস্থতার আর্তনাদ। এক কিশোরীর মৃত্যু এবং কয়েকশো গ্রামবাসীর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হওয়ার জেরে বুধবার কার্যত জনশূন্য হয়ে রইল এখানকার ৮১ নম্বর বুথ।
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার। স্থানীয় সূত্রে খবর, গ্রামের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রসাদ খাওয়ার পর থেকেই অসুস্থ হতে শুরু করেন বাসিন্দারা। পেটব্যথা ও বমির উপসর্গ নিয়ে দ্রুত সেই অসুস্থতা কার্যত মহামারীর আকার ধারণ করে। ভয়াবহ ডায়রিয়ার প্রকোপে প্রাণ হারিয়েছে মৌসুমি হাজরা (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রী। এই অকালমৃত্যু এবং ঘরে ঘরে অসুস্থতার জেরে গোটা গ্রামের মানুষ আজ মানসিকভাবে বিধ্বস্ত।
বুধবার সকালে কাটুন্দীডাঙ্গা গ্রামের ৮১ নম্বর বুথটি খোলার পর দেখা যায়, ভোটারদের কোনও দেখা নেই। এই বুথে মোট ৬৭৭ জন ভোটার থাকলেও প্রথম তিনঘণ্টায় ভোট পড়েছে মাত্র ৮০টি। গ্রামের সিংহভাগ মানুষ এখন হয় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি, না হয় অসুস্থ পরিজনের শয্যার পাশে বসে। যাঁরা সুস্থ আছেন, তাঁদের মধ্যেও ভোট দেওয়ার কোনও উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়নি। গ্রামবাসীর স্পষ্ট কথা, “আগে জীবন বাঁচুক, ভোট তো পরেও হবে।”
পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে গ্রামে অস্থায়ী ক্যাম্প করা হয়েছে। পানীয় জল ফুটিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। তবে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেলার দিকে ভোটার সংখ্যা বাড়ার আশা করা হলেও, বাস্তবতা বলছে অন্য কথা। শোকাতুর এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এই গ্রামের কাছে ইভিএমের চেয়ে এখন জীবনরক্ষা অনেক বেশি জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য পরিষেবার এই বেহাল দশা গণতন্ত্রের উৎসবে এক বড়সড় ধাক্কা দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কাটুন্দীডাঙ্গার এই শূন্য বুথ যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, নাগরিক অধিকারের চেয়েও সাধারণ মানুষের জীবনের মূল্য অনেক বেশি।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন