কলকাতা: দ্বিতীয় দফার ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি কুরুচিকর ‘মিম’ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় নড়েচড়ে বসল নির্বাচন কমিশন। আশ্চর্যের বিষয় হল, এই নিয়ে কোনও রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও অভিযোগ জানায়নি। কিন্তু, বিষয়টি কমিশনের নজরে আসতেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে পুলিশকে কড়া আইনি পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশন সূত্রে খবর, ওই ভিডিয়োটি তথ্য-প্রযুক্তি আইনের আওতায় অপরাধ হিসাবে গণ্য হতে পারে। তাই, সংশ্লিষ্ট পোস্টটি কে বা কারা আপলোড করেছে এবং এর উৎস কী, তা খুঁজে বের করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে এই জিরো-টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে কমিশন।
সুষ্ঠুভাবে ভোট করানোর লক্ষ্যে কেবল সাইবার অপরাধ নয়, পেশিশক্তি ও অর্থবল রুখতেও কোমর বেঁধে নেমেছে কমিশন। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যজুড়ে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৪৮ লক্ষ ৪৬ হাজার ১৮৩ লিটার মদ উদ্ধার করা হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় এবার মদ উদ্ধারের পরিমাণ অনেকটা বেশি। মাদক বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রেও তৈরি হয়েছে নতুন রেকর্ড। গত বিধানসভা নির্বাচনে যেখানে ১৩৬ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার হয়েছিল, এবার সেই অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৩৩৯ কোটি টাকায়।
আগামী বুধবার রাজ্যের ১৪২টি কেন্দ্রে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। তার আগে সীমান্ত এলাকা এবং স্পর্শকাতর বুথগুলিতে নজরদারি বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ। কমিশন মনে করছে, নির্বাচনের ঠিক আগে মদ ও মাদকের এই পাহাড়প্রমাণ উদ্ধার এটাই প্রমাণ করে যে অবাধ ভোটদানে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। তবে, এই ধরনের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে যে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে, মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে করা সংশ্লিষ্ট পোস্ট নিয়ে পুলিশের সক্রিয়তাই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন