জঙ্গলমহলে গণতন্ত্রের উৎসবের সকালে এক অভাবনীয় দৃশ্যের সাক্ষী থাকল ঝাড়গ্রাম। ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই জিতুশোল প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সামনে সশরীরে হাজির এলাকার পরিচিত দাঁতাল ‘রামলাল’। ভোটাররা যখন লাইনে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখনই দুলকি চালে বুথ চত্বরে ঢুকে পড়ে সে। এমনকি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িতেও রীতিমতো উঁকিঝুঁকি দিতে দেখা যায় তাকে।
রামলালের আগমনে মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় হুলুস্থূল পড়ে গেলেও, স্থানীয়দের কাছে সে বেশ পরিচিত এবং পছন্দের। ঝাড়গ্রাম থেকে শুরু করে ওড়িশা বা ঝাড়খণ্ড—সর্বত্রই তার অবাধ যাতায়াত। তবে ভোটের দিন যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেয় কমিশন ও বনদপ্তর। লোধাশুলি রেঞ্জের বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রামলালকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দিলে ফের স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি।
জঙ্গলমহলে হাতি-মানুষের সংঘাত রুখতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন। ভোট প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে বনদপ্তরের পক্ষ থেকে ‘ঐরাবত’ গাড়ি এবং ১৫ জনের বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছে। জেলাজুড়ে সক্রিয় রয়েছে ‘এলিফ্যান্ট ট্রেকার্স টিম’ ও অভিজ্ঞ হুলা পার্টির সদস্যদের নিয়ে গড়া ‘কুইক রেসপন্স টিম’।
বুথকর্মীদের সঙ্গে বনকর্মীদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য দেওয়া হয়েছে বিশেষ নম্বর। এমনকি ভোট শেষে ইভিএম মেশিনগুলো নিরাপদ স্থানে না পৌঁছনো পর্যন্ত ঝাড়গ্রাম ও খড়গপুর রেঞ্জে ২৫টি বিশেষ গাড়ি নিয়ে বনকর্মীরা কড়া নজরদারি চালাচ্ছেন। হাতির গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রেখে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন