বাংলার বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট বাজতেই ভিন রাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরানো নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। রেল সূত্রের খবর, ভোট প্রক্রিয়ার মাঝেই শ্রমিকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রায় ৭১টি ‘সামার স্পেশাল’ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আর এই বিশেষ ট্রেন ঘিরেই এখন যুযুধান দুই পক্ষ। বিজেপির দাবি, পেটের দায়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দেওয়া এই বিপুল সংখ্যক শ্রমিক তৃণমূল সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ এবং তাঁরা এবার ব্যালট বক্সে নিজেদের রাগের প্রকাশ ঘটাবেন। শিবপুরের সভা থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কটাক্ষের সুরে জানিয়েছেন, ঘরে ফেরা এই শ্রমিকরাই এবার শাসকদলকে ভোটবাক্সে ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ দেবেন। বিজেপি মনে করছে, বিশেষত মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং দুই দিনাজপুরের মতো জেলাগুলিতে এই শ্রমিক ভোট বড়সড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে।
অন্যদিকে, এই বিশেষ ট্রেনের তত্ত্বে ‘ষড়যন্ত্র’ দেখছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের দাবি, পরিযায়ী শ্রমিকের নামে আসলে ভিন রাজ্যের ভোটারদের বাংলায় ঢোকানোর চেষ্টা করছে বিজেপি।
বিদায়ী মন্ত্রী তথা হাওড়া মধ্যের তৃণমূল প্রার্থী অরূপ রায়ের অভিযোগ, বিহারের কায়দায় এখানেও ভোট করানোর চেষ্টা হচ্ছে, কিন্তু বাংলার মানুষ তা হতে দেবেন না। তাঁর মতে, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই পরিযায়ী শ্রমিক বোর্ড গঠন এবং ভাতার ব্যবস্থা করে শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোট না দিলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা এবং নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের টানেই দলে দলে শ্রমিকরা এখন হাওড়া বা শিয়ালদহ স্টেশনে ভিড় জমাচ্ছেন। ভোটের ময়দানে এই ‘শ্রমিক ভোট’ কার ঝুলিতে যায়, এখন সেটাই দেখার।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন