Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

সংসদে ভোটাভুটির আগেই বড় চাল! রাতারাতি কার্যকর হলো ২০২৩-এর মহিলা সংরক্ষণ আইন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
সংসদে ভোটাভুটির আগেই বড় চাল! রাতারাতি কার্যকর হলো ২০২৩-এর মহিলা সংরক্ষণ আইন
AI GENERATED IMAGE

ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তা! আজ যখন লোকসভায় প্রস্তাবিত নতুন মহিলা সংরক্ষণ বিল ও আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation) সংক্রান্ত বিল নিয়ে চরম উত্তেজনা এবং ভোটাভুটির প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখনই মাঝরাতে এক মাস্টারস্ট্রোক দিল মোদী সরকার। গত ১৬ এপ্রিল থেকেই দেশজুড়ে কার্যকর করে দেওয়া হলো ২০২৩ সালের পুরনো 'নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম' বা ১০৬তম সংবিধান সংশোধনী আইন। কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এখন থেকেই এই ঐতিহাসিক আইনটি বৈধ। তবে প্রশ্ন উঠছে, আজ সংসদে নতুন বিলের ভাগ্য নির্ধারণের আগেই কেন হঠাৎ পুরনো আইন কার্যকর করার পথে হাঁটল কেন্দ্র?


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর কৌশল। আসলে সরকার লোকসভায় নতুন সংশোধনী বিলটি পেশ করেছে যাতে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে ২০২৯ সালের মধ্যেই ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করা যায়। কিন্তু বর্তমানে লোকসভার যে পাটিগণিত, তাতে এই সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে প্রয়োজন দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন (কমপক্ষে ৩৬০ জন সাংসদ)। এদিকে এনডিএ-র হাতে বর্তমানে রয়েছে ২৯৩টি আসন। অর্থাৎ ম্যাজিক ফিগার থেকে তারা প্রায় ৬৭টি আসন দূরে। বিরোধীরা, বিশেষ করে 'ইন্ডিয়া' জোট যদি একজোট হয়ে ভোট দেয়, তবে নতুন বিলটি আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আর নতুন বিলটি যদি একবার খারিজ হয়ে যায়, তবে নিয়ম অনুযায়ী আগের পুরনো বিলটিও অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে। সেই আইনি ঝুঁকি এড়াতেই তড়িঘড়ি পুরনো আইনকে রক্ষা করল কেন্দ্র।


২০২৩ সালের পুরনো আইনটিতে বলা হয়েছিল, ২০২৭-এর পরবর্তী জনগণনা এবং তারপরের আসন পুনর্বিন্যাসের পরই সংরক্ষণ চালু হবে— যা কার্যকর হতে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেত। সরকার এখন চাইছে ২০১১-র তথ্যের ভিত্তিতেই ২০২৯-এ সংরক্ষণ দিতে। আজ যদি সংসদে সংখ্যার অভাবে নতুন সংশোধনী বিলটি পড়েও যায়, তাহলেও অন্তত ২০২৩-এর মূল আইনটি রক্ষিত থাকল। অর্থাৎ, কোনও অবস্থাতেই মহিলা সংরক্ষণের আইনি ভিত্তি যাতে নষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করাই ছিল এই মধ্যরাতের বিজ্ঞপ্তির আসল উদ্দেশ্য। এখন আজ সকালের ভোটাভুটিতে জল কোন দিকে গড়ায়, বিরোধী শিবির ডিলিমিটেশন আটকাতে কতটা সফল হয়, সেদিকেই নজর গোটা দেশের।

বিষয় : INDIANPOLITICS breaking news womenreservationact parliamentsession

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


সংসদে ভোটাভুটির আগেই বড় চাল! রাতারাতি কার্যকর হলো ২০২৩-এর মহিলা সংরক্ষণ আইন

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তা! আজ যখন লোকসভায় প্রস্তাবিত নতুন মহিলা সংরক্ষণ বিল ও আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation) সংক্রান্ত বিল নিয়ে চরম উত্তেজনা এবং ভোটাভুটির প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখনই মাঝরাতে এক মাস্টারস্ট্রোক দিল মোদী সরকার। গত ১৬ এপ্রিল থেকেই দেশজুড়ে কার্যকর করে দেওয়া হলো ২০২৩ সালের পুরনো 'নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম' বা ১০৬তম সংবিধান সংশোধনী আইন। কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এখন থেকেই এই ঐতিহাসিক আইনটি বৈধ। তবে প্রশ্ন উঠছে, আজ সংসদে নতুন বিলের ভাগ্য নির্ধারণের আগেই কেন হঠাৎ পুরনো আইন কার্যকর করার পথে হাঁটল কেন্দ্র?রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর কৌশল। আসলে সরকার লোকসভায় নতুন সংশোধনী বিলটি পেশ করেছে যাতে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে ২০২৯ সালের মধ্যেই ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করা যায়। কিন্তু বর্তমানে লোকসভার যে পাটিগণিত, তাতে এই সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে প্রয়োজন দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন (কমপক্ষে ৩৬০ জন সাংসদ)। এদিকে এনডিএ-র হাতে বর্তমানে রয়েছে ২৯৩টি আসন। অর্থাৎ ম্যাজিক ফিগার থেকে তারা প্রায় ৬৭টি আসন দূরে। বিরোধীরা, বিশেষ করে 'ইন্ডিয়া' জোট যদি একজোট হয়ে ভোট দেয়, তবে নতুন বিলটি আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আর নতুন বিলটি যদি একবার খারিজ হয়ে যায়, তবে নিয়ম অনুযায়ী আগের পুরনো বিলটিও অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে। সেই আইনি ঝুঁকি এড়াতেই তড়িঘড়ি পুরনো আইনকে রক্ষা করল কেন্দ্র।২০২৩ সালের পুরনো আইনটিতে বলা হয়েছিল, ২০২৭-এর পরবর্তী জনগণনা এবং তারপরের আসন পুনর্বিন্যাসের পরই সংরক্ষণ চালু হবে— যা কার্যকর হতে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেত। সরকার এখন চাইছে ২০১১-র তথ্যের ভিত্তিতেই ২০২৯-এ সংরক্ষণ দিতে। আজ যদি সংসদে সংখ্যার অভাবে নতুন সংশোধনী বিলটি পড়েও যায়, তাহলেও অন্তত ২০২৩-এর মূল আইনটি রক্ষিত থাকল। অর্থাৎ, কোনও অবস্থাতেই মহিলা সংরক্ষণের আইনি ভিত্তি যাতে নষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করাই ছিল এই মধ্যরাতের বিজ্ঞপ্তির আসল উদ্দেশ্য। এখন আজ সকালের ভোটাভুটিতে জল কোন দিকে গড়ায়, বিরোধী শিবির ডিলিমিটেশন আটকাতে কতটা সফল হয়, সেদিকেই নজর গোটা দেশের।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার