অমর কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত বনগাঁর গোপালনগরের বারাকপুরের বাড়িটি এবার পেতে চলেছে হেরিটেজ তকমা। শুধু তাই নয়, সেখানে গড়ে তোলা হবে একটি পূর্ণাঙ্গ মিউজিয়াম বা সংগ্রহশালা। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস দলের নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করে এই মেগা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের অনাদর কাটিয়ে বিভূতিভূষণের বসতবাড়িকে কেন্দ্র করে পর্যটন ও সংস্কৃতির প্রসারে এই উদ্যোগ বনগাঁর সাংস্কৃতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বিভূতিভূষণের জন্ম বারাকপুরে না হলেও তাঁর শৈশব, শিক্ষা এবং কর্মজীবনের সিংহভাগ কেটেছে ইছামতী তীরের এই গ্রামেই। কথিত আছে, ইছামতী নদীর ধারে বসেই তিনি তাঁর কালজয়ী সাহিত্যগুলি রচনা করেছিলেন। বর্তমানে দেশ-বিদেশ থেকে বহু অনুরাগী তাঁর এই বসতবাড়ি দেখতে আসলেও, সেখানে কোনো সংগ্রহশালা না থাকায় পর্যটকরা হতাশ হন। স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, সরকার এই বাড়িটি অধিগ্রহণ করে তাঁর পাণ্ডুলিপি ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রী দিয়ে একটি মিউজিয়াম তৈরি করুক। তৃণমূলের নির্বাচনী ইস্তাহারে এই দাবিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস জানান, পরিবারের আপত্তিতে এতদিন এই কাজ করা সম্ভব না হলেও, আগামিদিনে ক্ষমতায় এলে বাড়িটিকে হেরিটেজের মর্যাদা দেওয়া হবে। এছাড়াও ইস্তাহারে গোপালনগরকে পুরসভা গঠন করা, ইছামতী নদী সংস্কার এবং বনগাঁ স্টেডিয়ামকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার মতো একগুচ্ছ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পানীয় জল বা রাস্তার মতো প্রথাগত প্রতিশ্রুতির ভিড়ে বিভূতিভূষণের স্মৃতিরক্ষাকে ইস্তাহারে স্থান দিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বুদ্ধিজীবী মহলেরও বিশেষ নজর কেড়েছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন