Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

৩৫ দিনের যন্ত্রণার অবসান: কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরলেন নাবিক দীক্ষিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬
৩৫ দিনের যন্ত্রণার অবসান: কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরলেন নাবিক দীক্ষিত
ছবি: সংগৃহীত

শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরা—কিন্তু জীবিত নয়, কফিনবন্দি হয়ে। ৩৩ বছরের তরুণ ভারতীয় নাবিক দীক্ষিত সোলাঙ্কির এই প্রত্যাবর্তন যেন এক পরিবারের দীর্ঘ ৩৫ দিনের যন্ত্রণার নির্মম সমাপ্তি। সোমবার ভোর ৪টা ১৫ নাগাদ ঘুমন্ত মুম্বই শহরের মাটিতে নামে একটি উড়ান, আর তাতেই ছিল তাঁর নিথর দেহ।


১ মার্চ থেকে শুরু হয় অনিশ্চয়তা, তখন থেকেই অপেক্ষা আর আতঙ্কে দিনগুলো কাটিয়েছে সোলাঙ্কি পরিবার। কী ঘটেছিল, ছেলে আদৌ বেঁচে আছে কিনা—এই প্রশ্নই ঘুরপাক খেয়েছে প্রতিটি মুহূর্তে। পরিবারের দাবি, ২৮ মার্চ ইরান-এ আমেরিকা ও ইজরায়েল-এর যৌথ হামলার পরদিন, ওমান উপকূলে থাকা তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘এমটি এমকেডি ভিয়োম’-এ আছড়ে পড়ে একটি ক্ষেপণাস্ত্র। সেই হামলাতেই মৃত্যু হয় দীক্ষিতের। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রথম থেকেই মৃত্যু নিয়ে তৈরি হয় ধোঁয়াশা।


এই ৩৫ দিন ধরে দেহ ফেরানো নিয়ে টালবাহানা, অস্পষ্ট তথ্য আর বারবার মিথ্যে আশ্বাস—সব মিলিয়ে ভেঙে পড়ে তাঁর পরিবার। এমনকি সরকারি বক্তব্যের ওপর থেকেও ভরসা হারিয়ে ফেলেন তাঁরা। শোকস্তব্ধ বাবা অমৃতলাল সোলাঙ্কি প্রথম থেকেই ছেলের মৃত্যুকে সহজে মেনে নিতে পারেননি। তাঁর কথায়, “ছেলের ছবি আছে ঘরে, কিন্তু সেখানে মালা দিইনি। নিজের চোখে না দেখা পর্যন্ত কিছুই বিশ্বাস করব না।”


পরিবারের অভিযোগ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর উদ্ধার হওয়া অন্য নাবিকরা তাঁদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ফিরে পেলেও, দীক্ষিতের ল্যাপটপ, ফোন এবং ব্যক্তিগত ডায়েরির কোনও খোঁজ মেলেনি। এই কারণেই শুধু নয়, মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতেও ডিএনএ পরীক্ষার দাবি জানিয়েছে পরিবার। শেষকৃত্যের আগেও তাই তাঁরা কোনও তাড়াহুড়ো করতে চান না।


ঘটনার পর শিপিং সংস্থা V Ships India-র ভূমিকা নিয়েও উঠেছে বড় প্রশ্ন। পরিবারের অভিযোগ, একজন নাবিকের মৃত্যুর পরেও দীর্ঘদিন নীরব ছিল সংস্থাটি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে মুম্বই হাই কোর্ট-এর দ্বারস্থ হয় সোলাঙ্কি পরিবার। আদালতের হস্তক্ষেপেই অবশেষে ওমান উপকূল থেকে দেশে ফেরানো সম্ভব হয় দীক্ষিতের দেহ। এই ঘটনায় শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, সামনে এসেছে যুদ্ধক্ষেত্রে কর্মরত সাধারণ নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন। দীক্ষিত সোলাঙ্কির মৃত্যু যেন সেই অজানা, অদেখা ঝুঁকিরই এক মর্মান্তিক উদাহরণ।

বিষয় : IRAN ATTACK DIKSHITSOLANKI INDIANSAILOR JUSTICEFORDIKSHIT HUMANSTORY VSHIPSINDIA

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


৩৫ দিনের যন্ত্রণার অবসান: কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরলেন নাবিক দীক্ষিত

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরা—কিন্তু জীবিত নয়, কফিনবন্দি হয়ে। ৩৩ বছরের তরুণ ভারতীয় নাবিক দীক্ষিত সোলাঙ্কির এই প্রত্যাবর্তন যেন এক পরিবারের দীর্ঘ ৩৫ দিনের যন্ত্রণার নির্মম সমাপ্তি। সোমবার ভোর ৪টা ১৫ নাগাদ ঘুমন্ত মুম্বই শহরের মাটিতে নামে একটি উড়ান, আর তাতেই ছিল তাঁর নিথর দেহ।১ মার্চ থেকে শুরু হয় অনিশ্চয়তা, তখন থেকেই অপেক্ষা আর আতঙ্কে দিনগুলো কাটিয়েছে সোলাঙ্কি পরিবার। কী ঘটেছিল, ছেলে আদৌ বেঁচে আছে কিনা—এই প্রশ্নই ঘুরপাক খেয়েছে প্রতিটি মুহূর্তে। পরিবারের দাবি, ২৮ মার্চ ইরান-এ আমেরিকা ও ইজরায়েল-এর যৌথ হামলার পরদিন, ওমান উপকূলে থাকা তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘এমটি এমকেডি ভিয়োম’-এ আছড়ে পড়ে একটি ক্ষেপণাস্ত্র। সেই হামলাতেই মৃত্যু হয় দীক্ষিতের। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রথম থেকেই মৃত্যু নিয়ে তৈরি হয় ধোঁয়াশা।এই ৩৫ দিন ধরে দেহ ফেরানো নিয়ে টালবাহানা, অস্পষ্ট তথ্য আর বারবার মিথ্যে আশ্বাস—সব মিলিয়ে ভেঙে পড়ে তাঁর পরিবার। এমনকি সরকারি বক্তব্যের ওপর থেকেও ভরসা হারিয়ে ফেলেন তাঁরা। শোকস্তব্ধ বাবা অমৃতলাল সোলাঙ্কি প্রথম থেকেই ছেলের মৃত্যুকে সহজে মেনে নিতে পারেননি। তাঁর কথায়, “ছেলের ছবি আছে ঘরে, কিন্তু সেখানে মালা দিইনি। নিজের চোখে না দেখা পর্যন্ত কিছুই বিশ্বাস করব না।”পরিবারের অভিযোগ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর উদ্ধার হওয়া অন্য নাবিকরা তাঁদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ফিরে পেলেও, দীক্ষিতের ল্যাপটপ, ফোন এবং ব্যক্তিগত ডায়েরির কোনও খোঁজ মেলেনি। এই কারণেই শুধু নয়, মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতেও ডিএনএ পরীক্ষার দাবি জানিয়েছে পরিবার। শেষকৃত্যের আগেও তাই তাঁরা কোনও তাড়াহুড়ো করতে চান না।ঘটনার পর শিপিং সংস্থা V Ships India-র ভূমিকা নিয়েও উঠেছে বড় প্রশ্ন। পরিবারের অভিযোগ, একজন নাবিকের মৃত্যুর পরেও দীর্ঘদিন নীরব ছিল সংস্থাটি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে মুম্বই হাই কোর্ট-এর দ্বারস্থ হয় সোলাঙ্কি পরিবার। আদালতের হস্তক্ষেপেই অবশেষে ওমান উপকূল থেকে দেশে ফেরানো সম্ভব হয় দীক্ষিতের দেহ। এই ঘটনায় শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, সামনে এসেছে যুদ্ধক্ষেত্রে কর্মরত সাধারণ নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন। দীক্ষিত সোলাঙ্কির মৃত্যু যেন সেই অজানা, অদেখা ঝুঁকিরই এক মর্মান্তিক উদাহরণ।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার